রাজবাড়ীর পাংশা
আহত ব্যক্তির মৃত্যুর জেরে একশ বাড়িতে ভাঙচুর
নির্বিচার লুটপাট, দুই বাড়িতে অগ্নিসংযোগ
রাজবাড়ীর পাংশায় রোববার রাতে উত্তেজিত জনতার দেওয়া আগুনে পুড়ে যাওয়া একটি বাড়ি। গতকাল সোমবার উপজেলার বড় বাংলাট গ্রাম থেকে তোলা সমকাল
রাজবাড়ী প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬ | ০৭:৩১
| প্রিন্ট সংস্করণ
রাজবাড়ীর পাংশায় সংঘর্ষে আহত ব্যক্তির মৃত্যুর জেরে প্রায় একশ বাড়িতে ভাঙচুর করা হয়েছে। এ সময় বেশ কয়েকটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়; চালানো হয় লুটপাট। গত রোববার রাত ১০টার দিকে উপজেলার কসবামাজাইল ইউনিয়নের দড়িবাংলাট ও বড় বাংলাট গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
সংঘর্ষে নিহত জামির বিশ্বাস (৫৫) একই উপজেলার পাট্টা ইউনিয়নের ঢেঁপা-মাজাইল গ্রামের হোসেন আলী বিশ্বাসের ছেলে। এ ঘটনায় জামিরের দুই ভাই আমিন বিশ্বাস ও তফাই বিশ্বাস আহত হন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দড়িবাংলাট গ্রামের বাসিন্দা আকতার হোসেনের সঙ্গে জমিজমা নিয়ে আব্দুল হাকিমের দীর্ঘদিনের বিরোধ। গত বৃহস্পতিবার এর জেরে দুপক্ষের মারামারি হয়। গত রোববার জমি মাপার দিন নির্ধারিত হয়। সেখানে যান আকতারের মামা জামির বিশ্বাস, আমিন বিশ্বাস ও তফাই বিশ্বাস। দুই পক্ষের তর্ক এক পর্যায়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়। সেখানে গুরুতর আহত হন তিন ভাই। তাদের পাংশা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে আমিন ও জামিরকে ফরিদপুর পাঠানো হয়। পরে জামিরকে পাঠানো হয় ঢাকায়। রাত ৯টার দিকে তিনি মারা যান।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জামিরের মৃত্যু সংবাদ পাট্টা ইউনিয়নের ঢেঁপা-মাজাইল গ্রামে পৌঁছালে এলাকাবাসী দল বেঁধে কসবামাজাইল ইউনিয়নের দড়িবাংলাট ও বড় বাংলাট গ্রামে হামলা চালায়। এ সময় বড় বাংলাট গ্রামের সালাউদ্দিন ও খায়রুলের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়। এ ছাড়া দড়িবাংলাট গ্রামের অন্তত একশটি বাড়ি ভাঙচুর করা হয়। খবর পেয়ে পাংশা থানা পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত বড় বাংলাট গ্রামের রেহেনা বেগম গতকাল সোমবার বলেন, রোববার রাত ১০টার পর শত শত মানুষ এসে হামলা চালায়। তাদের তিনটি পাকা বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়। পরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় হামলাকারীরা। এতে পেঁয়াজের ঘর পুড়ে যায়। এমনকি তাদের গরু-ছাগল লুট করা হয়। রেহেনার দাবি, তারা ফায়ার সার্ভিসে খবর দিয়েছিলেন। কিন্তু হামলাকারীরা তাদের ঘটনাস্থলে যেতে বাধা দেয়।
নিহত জামির বিশ্বাসের ভাতিজা আজমল বিশ্বাসের দাবি, ‘কারা বাড়িঘরে হামলা করেছে, সে বিষয়ে আমরা কিছু জানি না।’ আরেক ভাতিজা আকুল বিশ্বাসের ভাষ্য, ‘আমার তিন চাচা গুরুতর আহত হয়েছিলেন। আমরা তাদের চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম। এর মধ্যে একজন মারা গেলেন, অন্য দুজন হাসপাতালে। রাতে কারা হামলা করেছে, আমরা জানি না।’ অন্য কেউ পরিকল্পিতভাবে এসব ঘটনা ঘটিয়ে তাদের ফাঁসানোর চেষ্টা করতে পারে বলে ধারণা করছেন আকুল বিশ্বাস।
পাট্টা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আকিদুল ইসলাম বলেন, পাট্টার ঢেঁপা-মাজাইল ও কসবামাজাইলের দড়িবাংলাট গ্রাম নদীর এপার-ওপার। দড়িবাংলাট গ্রামে দুটি পক্ষের মধ্যে জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। একটি পক্ষে জামির বিশ্বাসের ভাগনে রয়েছেন। যে কারণে তিনি সেখানে গিয়েছিলেন। যে ঘটনা ঘটেছে, তা দুঃখজনক।
পাংশা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের লিডার মো. সাইফুল ইসলামের ভাষ্য, ‘রাত দেড়টার দিকে আগুন লাগার খবর পেয়ে আমরা রওনা দিয়েছিলাম। কিন্তু বাধার মুখে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারিনি।’ পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত ছিল; ফায়ার সার্ভিস কর্মীরাও নিরাপত্তাহীনতায় পড়ে যান।
পাংশা থানার ওসি শেখ মঈনুল ইসলাম গতকাল রাত সাড়ে ৮টার দিকে বলেন, জামির বিশ্বাসের মৃত্যুর খবর পৌঁছানোর পর তাঁর পক্ষের লোকজন বেশ কয়েকটি বাড়িতে হামলা চালায়; অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও লুটপাট করে। নিহত ব্যক্তির ময়নাতদন্ত ঢাকায় হয়েছে। মরদেহ বাড়িতে আনা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।
- বিষয় :
- আগুন
