ঢাকা বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

ঢাকনাবিহীন ড্রেনে ঘটছে দুর্ঘটনা, ঝরছে প্রাণ

ঢাকনাবিহীন ড্রেনে ঘটছে দুর্ঘটনা, ঝরছে প্রাণ
×

কুমিল্লা নগরীর রানীর বাজারের পশ্চিম মোড়ে ঢাকনাবিহীন ড্রেন সমকাল

কামাল উদ্দিন, কুমিল্লা

প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৬ | ০৮:০১

| প্রিন্ট সংস্করণ

ভারী বর্ষণে জলমগ্ন হয়ে পড়ে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন (কুসিক) এলাকার অধিকাংশ রাস্তাঘাট। তখন ঢাকনাবিহীন ড্রেনগুলো ‘মৃত্যুফাঁদে’ পরিণত হয়। দীর্ঘদিন বেশ কিছু ড্রেনে ঢাকনা না থাকায় মাঝে মধ্যেই ঘটছে দুর্ঘটনা। সর্বশেষ গত রোববার নগরীর একটি খোলা ড্রেনে পড়ে মাহফুজা আক্তার স্মৃতি নামে এক শিশু মৃত্যুর ঘটনায় নগরবাসীর মধ্যে সমালোচনার শুরু হয়েছে। তবে কুসিক প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু দাবি করেছেন, সিটি করপোরেশন প্রতিষ্ঠার পর বিগত সময়ে অপরিকল্পিত উন্নয়ন ও অব্যবস্থাপনার জন্য তাদের খেসারত দিতে হচ্ছে।
কুসিকের তথ্যমতে, ২০১১ সালে কুমিল্লা পৌরসভা ও সদর দক্ষিণ পৌরসভা বিলুপ্ত করে সিটি করপোরেশনের যাত্রা শুরু হয়। ২৭টি ওয়ার্ডের বর্তমান আয়তন ৫৩ দশমিক ৪ বর্গকিলোমিটার। বর্তমানে ২০০ কিলোমিটার ড্রেনের মধ্যে অর্ধেকই কাঁচা।

গত দুই দিন নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ড্রেনেজ ব্যবস্থার ঝুঁকিপূর্ণ চিত্র দেখা গেছে। বিশেষ করে নগরীর ব্যস্ততম এলাকা রামমালা-রানীর বাজার রোড, রানীর বাজার পশ্চিম মোড়, ফায়ার সার্ভিস রোড, হাউজিং এস্টেট গোল মার্কেট, হযরত পাড়া, কাঁটাবলি, চকবাজার, ছোটরা, মুরাদপুর ও মনোহরপুর এলাকাসহ কয়েকটি স্থানে কোথাও ড্রেন উন্মুক্ত, কোথাও আংশিক ঢাকনাবিহীন দেখা গেছে। বেশকিছু স্থানে ড্রেনের ওপরের কংক্রিটের ঢাকনা ভেঙে ভেতরে চলে গেছে, আবার কোথাও ড্রেন নির্মাণের পর দীর্ঘদিনেও ঢাকনা (স্ল্যাব) বসানোই হয়নি। ব্যস্ততম এসব এলাকায় প্রতিদিন হাজারো সাধারণ মানুষ ও স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা চলাচল করে। রাতের আঁধারে বা সামান্য বৃষ্টিতে ড্রেন ও রাস্তা একাকার হয়ে গেলে এই ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। এতে যানবাহন প্রায়ই সড়কে কিংবা ড্রেনে উল্টে যায়। যদিও স্থানীয়দের উদ্যোগে কেউ কেউ লাল কাপড় ও রশি টাঙিয়ে লোকজনের চলাচলে সতর্কতা তৈরি করেছেন। কিন্তু তাতেও কাজ হচ্ছে না।
রামমালা রোডের বাসিন্দা আবদুল খালেক জানান, জলাবদ্ধ সড়কে লুকিয়ে থাকা খানাখন্দ ও ঢাকনাবিহীন ড্রেন রূপ নিয়েছে মরণফাঁদে।

ভুক্তভোগীরা বলছেন, দীর্ঘদিন ড্রেনগুলো এভাবে খোলা পড়ে থাকলেও ব্যবস্থা নেয়নি কুসিক কর্তৃপক্ষ। সরেজমিন দেখা গেছে, নগরীর কান্দিরপাড় টাউন হল সুপার মার্কেটের বিপরীত পাশে ড্রেনের ঢাকনা ভেঙে পড়ে আছে দীর্ঘদিন ধরে। রানীর বাজার পশ্চিম মোড়ে গিয়ে দেখা যায়, উন্মুক্ত ড্রেন। এর পাশে দুটি ঢাকনা সরিয়ে রাখা হয়েছে। পাশে টাঙানো হয়েছে সতর্কতামূলক লাল কাপড় ও রশি।
ওই এলাকার ব্যবসায়ী সালেহ আকরাম জানান, বৃষ্টি হলে প্রতিনিয়ত আতঙ্কে থাকেন তারা। চোখের সামনে প্রায়ই রিকশা বা পথচারী এসব ড্রেনে পড়ে যাচ্ছে।
নগরীর কাঁটাবিল ইনসাফ হাউজিং এলাকার বাসিন্দা জালাল উদ্দিনের ভাষ্য, কুসিকের ড্রেন থাকলেও দুই বছর ধরে সেখানে দেওয়া হয়নি দুটি ঢাকনা। স্থানীয়রা বলছেন, মাদকসেবীরা নেশার টাকা জোগাড় করতে ঢাকনা ভেঙে রড নিয়ে গেছে, দেখার যেন কেউ নেই।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) কুমিল্লার সভাপতি শাহ মো. আলমগীর খান জানান, পৌরসভা থেকে সিটি করপোরেশন পেয়েছেন নগরবাসী। তাই রাস্তাঘাট ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা আরও উন্নত করতে কর্তৃপক্ষকে পরিকল্পিতভাবে কাজ করতে হবে। নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সব খোলা ড্রেনে ঢাকনা স্থাপনের দাবি জানান তিনি।
এই অবস্থার জন্য বিগত সময়ে নগরীর অপরিকল্পিত উন্নয়ন ও অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করেছেন কুসিক প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু। সমকালকে তিনি বলেন, বিগত সময়ে যেসব ভুল হয়েছে, তার খেসারত আজ তাদের দিতে হচ্ছে। ড্রেনে পড়ে শিশু স্মৃতির মতো আর কারও যেন মৃত্যু না হয়, সেজন্য সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছেন তারা। দ্রুততম সময়ে খোলা ড্রেনে ঢাকনা স্থাপনসহ নতুন অর্থ বছরে নগরীর ড্রেনেজ ব্যবস্থা আরও সম্প্রসারণ করতে প্রকল্প নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন

×