ঢাকা শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬

বিনামূল্যের পাওয়ার টিলার কয়েকজনের কবজায়

বিনামূল্যের পাওয়ার টিলার  কয়েকজনের কবজায়
×

নালিতাবাড়ী উপজেলার বুড়ি ভোগাই খাল পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির কার্যালয় সমকাল

নালিতাবাড়ী (শেরপুর) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬ | ০৭:৫৬

| প্রিন্ট সংস্করণ

সরকারি প্রকল্পের বিনামূল্যের পাওয়ার টিলার বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির সদস্যদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়েছে। বিধি অনুযায়ী পাওয়ার টিলার বণ্টন করে বিরোধ নিষ্পত্তির প্রত্যাশা করছেন সমিতির সদস্যরা। ঘটনাটি ঘটেছে শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলায়।

জানা গেছে, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) ক্ষুদ্রকায় পানি সম্পদ উন্নয়ন প্রকল্প-২ এর আওতায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে শেরপুরের চারটি পানি ব্যবস্থাপনা সমিতিতে ১৩টি পাওয়ার টিলার বরাদ্দ দেয় সরকার। বিনামূল্যে বিতরণের জন্য বরাদ্দের এসব পাওয়ার টিলার হস্তান্তরের সময় সমিতির পক্ষ থেকে প্রতিটির মূল্যের ৫ শতাংশ এফডিআর করার কথা । এরপর সমিতির সদস্যদের মধ্যে আলোচনা করে প্রতিটি পাওয়ার টিলার বিতরণ করার কথা। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, এফডিআরে ৫ শতাংশ মূল্য জমা দিয়ে সমিতির কয়েকজন সদস্য। এতেই ঘটেছে বিপত্তি। এভাবে বিনামূল্যের পাওয়ার টিলার বিতরণের ঘটনায় সমিতির অন্য সদস্যরা ক্ষুব্ধ।

গত জুন মাসে ঝিনাইগাতির মহারশি রাবার ড্যাম পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির নামে বরাদ্দের ৪টি পাওয়ার টিলার বিতরণ শেষ হয়। পরে নিলামের মাধ্যমে প্রতিটি পাওয়ার টিলার ৪৫ হাজার টাকা বছর চুক্তিতে সমিতির ৪ সদস্যকে দেওয়া হয়। ২৯ জুন নালিতাবাড়ীর রঞ্জনা ঝর্ণা পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির বরাদ্দের ৩টি পাওয়ার টিলারের একটি ৩১ হাজার এবং ২টি ৩০ হাজার টাকা করে বছর চুক্তিতে তিন সদস্যকে দেওয়া হয়। এ ছাড়া সুতিয়ারখাল পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির নামে বরাদ্দের ৩টি পাওয়ার টিলার ও বুড়ি ভোগাই খাল পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির নামে বরাদ্দের ৬টি পাওয়ার টিলার কমিটির কাছে হস্তান্তর করা হলেও এখনও নিলামে ওঠেনি। সমিতির সদস্যদের মধ্যে আলোচনা বা নিলাম ছাড়াই ১২ হাজার করে ৩৬ হাজার টাকা কৃষি ব্যাংক কাকরকান্দি শাখায় তিন বছরের জন্য এফডিআর করে পাওয়ার টিলার নিয়েছেন তিনজন। তারা হলেন– বুড়ি ভোগাই খাল পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির সদস্য ইমাম হাসান লিটন, আমজাদ আলী ও আবু বক্কর সিদ্দিক। অ্যাডহক কমিটি দিয়ে চলা এই সমিতির দায়িত্বশীলরা আলোচনা না করেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ায় ক্ষোভে ফুঁসছেন অন্য সদস্যরা। 

এরই পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি বেলতৈল বাজারে সমিতির কার্যালয়ে সভা আহ্বান করেন তারা। সভায় উপস্থিত সদস্যরা অভিযোগ তোলেন, সমিতির সদস্য সংখ্যা সাড়ে চারশর ওপরে। তাদের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা করেননি অ্যাডহক কমিটির দায়িত্বশীলরা। সমিতির নামে বরাদ্দের পাওয়ার টিলার তাদের পছন্দমতো ব্যক্তিদের মাধ্যমে পরিচালনা করছেন। এ সময় সাবেক কমিটির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধেও নানা অনিয়মের অভিযোগ করেন তারা।
বর্তমান অ্যাডহক কমিটির সভাপতি ইমাম হাসান লিটন জানান, সময় কম থাকায় তাড়াহুড়ো করে কর্মকর্তাদের নিয়ে সভা ডেকে তিনজন মিলে এফডিআর করে পাওয়ার টিলারগুলো বুঝে নিয়েছেন তারা। পরে সবাইকে ডেকে নিলাম করা হবে। যেহেতু সমিতির নিজস্ব তহবিল থেকে টাকা উত্তোলনের সুযোগ নেই এবং সমিতির হাতে বাড়তি কোনো টাকাও ছিল না। তাই তারা তিনজন এফডিআরের টাকা পরিশোধ করেছেন। যারা অভিযোগ তুলছেন, তারা না বুঝেই দোষারোপ করছেন।
শেরপুর-জামালপুরের দায়িত্বে থাকা প্রকল্পের এগ্রিকালচার ফ্যাসিলিটেটর আসাদুজ্জামানের ভাষ্য, যথাসময়ে হস্তান্তর না করলে পাওয়ার টিলারগুলো সরকারের কাছে ফেরত যেত। তাই তাৎক্ষণিক অ্যাডহক কমিটির সভাপতির কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পরে তারা সময় দিলে নিলামে সমিতির সদস্যদের মাঝে সর্বোচ্চ দরদাতাকে পাওয়ার টিলার দেওয়া হবে। চুক্তির ওই টাকা সমিতির সদস্যদের কল্যাণে লাগানো হবে।

আরও পড়ুন

×