ঢাকা বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬

নদী ভাঙনে বিলীন হচ্ছে বসতভিটা, ফসলি জমি

নদী ভাঙনে বিলীন হচ্ছে  বসতভিটা, ফসলি জমি
×

ব্রহ্মপুত্র নদের তীব্র ভাঙন থেকে রক্ষা পেতে বিশেষ মোনাজাত করেন গ্রামবাসী। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে ইসলামপুরের পূর্ব বাহাদুরপুর গ্রামে সমকাল

জামালপুর প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬ | ০৭:৫৮

| প্রিন্ট সংস্করণ

জামালপুরের ইসলামপুরে যমুনা ও ব্রহ্মপুত্রসহ বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বাড়ার সঙ্গে শুরু হয়েছে তীব্র ভাঙন। ফসলি জমি, বসতভিটা, রাস্তাঘাট ও বিভিন্ন স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। নদীপারের মানুষ দিন কাটাচ্ছেন আতঙ্ক ও দুশ্চিন্তায়।
ভাঙন থেকে রক্ষা পেতে গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে ব্রহ্মপুত্র নদের পারে পলবান্ধা ইউনিয়নের পূর্ব বাহাদুরপুর এলাকায় বিশেষ মোনাজাত ও মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী। একই দিন দক্ষিণ সিরাজাবাদ নতুনপাড়া এলাকায় মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এ ছাড়া গত রোববার দুপুরে দশআনী নদীর ভাঙন প্রতিরোধ ব্যবস্থার দাবিতে গোয়ালেরচর ইউনিয়নের বোলাকীপাড়া এলাকায় মানববন্ধন করেন এলাকাবাসী।

ভাঙন ঠেকাতে নদী তীর রক্ষাবাঁধ নির্মাণের জন্য সংসদ সদস্য সুলতান মাহমুদের হস্তক্ষেপ কামনা করেন এলাকাবাসী। তা না হলে বসতভিটা নদীতে হারিয়ে নিঃস্ব হওয়ার শঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।
সরেজমিন দেখা গেছে, পূর্ব বাহাদুরপুর ও নতুনপাড়া এলাকায় অনেক বসতভিটা ব্রহ্মপুত্র নদে বিলীন হয়েছে। অনেকে ঘরবাড়ি অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছেন। চরপুটিমারী ও চরগোয়ালিনী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়ছেন। বোলাকীপাড়া ও চন্দনপুর গ্রামে দশআনী নদীর তীব্র ভাঙনে ইতোমধ্যে কয়েকশ একর ফসলি জমি নদীতে চলে গেছে। ভাঙনের মুখে পড়েছে বাড়িঘর, বোলাকীপাড়া বাজার, নির্মাণাধীন পাকা সড়ক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন স্থাপনা। এ ছাড়া সাপধরী ও বেলগাছা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় যমুনা নদীর তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে।
বোলাকীপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মসুর শাহিন মিয়া, ওয়ারেজ মিয়া ও সরুজ আলী জানান, নদীভাঙনে ফসলি জমি বিলীন হয়ে যাচ্ছে। মাথা গোঁজার ঠাঁই বসতভিটা ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। এবার বর্ষার শুরুতেই নদীর ভয়ংকর রূপ দেখে দিশেহারা তারা।

পূর্ব বাহাদুরপুর গ্রামের শতবর্ষী হুজুর আলী মুন্সী বলেন, ভাঙনের কবলে পড়ে তিনি ১০ বার বসতভিটা হারিয়েছেন। জমিজমাও নদী গিলে খাচ্ছে। একই এলাকার কৃষক সিদ্দিক আলী জানান,  ৯ বার তাঁর বসতভিটা নদীতে বিলীন হয়েছে। এবারও ভাঙনের মুখে পড়েছে।
জামালপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নকিবুজ্জামান খানের ভাষ্য, ইতোমধ্যে কয়েক জায়গায় জিওব্যাগ ফেলা শুরু হয়েছে। নদীভাঙনের বিষয়ে খোঁজ রাখছেন তারা। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবর ভাঙনের তথ্য পাঠানো হচ্ছে।
জামালপুর-২ (ইসলামপুর) আসনের সংসদ সদস্য সুলতান মাহমুদ বাবু বলেন, ‘আমাদের উপজেলাটি নদ-নদী ভাঙনকবলিত এলাকা। ভাঙন প্রতিরোধের চেষ্টা করে যাচ্ছি। সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করা হয়েছে। আশা রাখি, দ্রুত সময়ের মধ্যে নদীভাঙন প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

আরও পড়ুন

×