খালের জমিতে খেলার মাঠ, বন্ধ করে বালু ব্যবসার আয়োজন
লৌহজংয়ে ডহরী-তালতলা খালের পাড়ের মাঠ বাঁধ দিয়ে বালু ব্যবসার জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে সমকাল
লৌহজং (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬ | ০৭:৩৩ | আপডেট: ০৯ জুলাই ২০২৬ | ০৭:৫২
| প্রিন্ট সংস্করণ
মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ে খালের জমিতে বানানো খেলার মাঠ দখল করে বালু ব্যবসার আয়োজন চলছে। উপজেলার গাঁওদিয়া ইউনিয়নের ডহরী-তালতলা খালের পাড়ে জেগে ওঠা চরকে মাঠ বানিয়ে এক যুগেরও বেশি সময় খেলাধুলা করছে স্থানীয় কিশোর-তরুণরা। সেই জায়গাকে নিজের পৈতৃক দাবি করে বাঁধ দিয়ে ইট-বালু ব্যবসার জন্য প্রস্তুত করছেন প্রভাবশালী এক ব্যক্তি। এতে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, খালের জমি ও মাঠটি দখল করে সেখানে ইট-বালুর ব্যবসা শুরুর উদ্দেশ্যেই তোড়জোড় চালানো হচ্ছে। মাঠটির চারপাশে মাটি কেটে উঁচু আইল বাঁধা হচ্ছে। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, উপজেলার কলমা ইউনিয়নের ডহরি ঘেঁষে এবং গাঁওদিয়া ইউনিয়নের শামুরবাড়ি গ্রামের পাখিদিয়া মৌজার অন্তর্ভুক্ত এই জমি ১৯৬৬ সালের পরে খালের গতিপথ সোজা করার জন্য পাখিদিয়া মৌজার পূর্ব পাশ থেকে জমি অধিগ্রহণ করে মাঝখান দিয়ে খাল খনন করা হয়েছিল। ২৫ বছর আগে তীব্র নদীভাঙনের ফলে খালের পশ্চিম তীর (শামুরবাড়ি ও হাড়িদিয়া গ্রামের অংশ) ভেঙে খালের গতিপথ পরিবর্তন হয়ে যায়। আরএস নকশা অনুযায়ী খালের পূর্ব সীমানায় বিশাল চর জেগে ওঠে। ডহরি বাজারের উত্তরে পাশের চরটির একাংশ দখল করে ইতোমধ্যে ওয়ার্কশপ, ফ্যাক্টরি ও বিভিন্ন অবৈধ স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছে। অবশিষ্ট খালি অংশ প্রায় ১৫ বছর ধরে স্থানীয় যুবসমাজ খেলার মাঠ হিসেবে ব্যবহার করে আসছিল। বিভিন্ন স্কুল-কলেজের টুর্নামেন্টসহ বড় বড় ক্রীড়া প্রতিযোগিতা এ মাঠেই অনুষ্ঠিত হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছুদিন ধরে এলাকার বিত্তশালী শফিকুল আজাদ ওরফে সেনা বেপারীর লোকজন বালু ক্রয়-বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে মাঠের চারপাশে পকেট বা বাঁধ দেওয়ার কাজ শুরু করেন। খবর পেয়ে গাঁওদিয়া ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা (নায়েব) সামসুদ্দিন আহমেদ গিয়ে কাজ বন্ধ করে দেন। কিন্তু একদিন পরই ওয়ারিশসূত্রে মালিক দেখিয়ে সাইনবোর্ড লাগিয়ে আবারও খালের জমিতে মাটি কাটার কাজ পুরোদমে চালু করে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন তরুণ জানান, এলাকায় এমনিতেই খেলার জায়গা নেই। এ মাঠে গত ১৫ বছর ধরে এলাকার ছেলেরা খেলাধুলা করে আসছে। সরকারি খালের জমি এভাবে বালুর ব্যবসার জন্য দখল হয়ে যাবে, এটা তারা মেনে নিতে পারছেন না। তারা প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
খালের জমি দখলের অভিযোগ অস্বীকার করে শফিকুল আজাদ বলেন, জমিটি আমার ওয়ারিশসূত্রে মালিকানা। আগে খেলার মাঠ হিসেবে জমিটি ভাড়া দেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে ইট-বালু ব্যবসার কাজে তিন বছরের জন্য অন্যত্র ভাড়া দেওয়া হয়েছে।
জানা যায়, ৩-৪ বছর আগে এ মাঠে স্থানীয় তরুণদের উদ্যোগে বড় একটি ফুটবল টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়। তখন সেনা বেপারী মাঠটি নিজের মালিকানা দাবি করে টুর্নামেন্ট আয়োজনে বাধা দেন। মাঝপথে টুর্নামেন্ট ভণ্ডুল হওয়ার আশঙ্কায় আয়োজকরা তাঁর কাছ থেকে তিন বছরের জন্য ৫০ হাজার টাকায় মাঠ ভাড়া নেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য রাসেদুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে আমাকে কেউ জানায়নি। ফেসবুকে লেখালেখি হচ্ছে দেখেছি। তবে খালের জমি ও মাঠ একসময় সেনা বেপারীর নানার সম্পত্তি ছিল বলে শুনেছি। গাঁওদিয়া ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা (নায়েব) সামসুদ্দিন আহমেদ বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে সেনা বেপারীকে সার্ভেয়ার দিয়ে মেপে জায়গা নির্ধারণ না করা পর্যন্ত মাটি ভরাটের কাজ বন্ধ করতে বলে এসেছি।
ইউএনও ফারজানা ববি মিতু বলেন, বর্তমানে আমাদের সার্ভেয়ার সংকট আছে। জমির কোন অংশ কে মালিক আছে দেখার পরে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
- বিষয় :
- খাল