জলাবদ্ধতায় দায়ী ডজনাধিক স্টিল ব্রিজ-কালভার্ট চিহ্নিত
কুমিল্লা নগরীর কান্দিখালের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ সমকাল
কুমিল্লা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬ | ০৭:৫৩
| প্রিন্ট সংস্করণ
সোমবার দিনভর ভোগান্তির পর কুমিল্লা নগরীর অধিকাংশ সড়ক, অলিগলি ও আবাসিক এলাকা থেকে পানি সরে গেলেও এবারের বর্ষায় আরও ভোগান্তিতে পড়তে পারেন নগরবাসী। এমন শঙ্কা থেকে নড়েচড়ে বসেছে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন (কুসিক) কর্তৃপক্ষ। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নগরীর জলাবদ্ধতার বেশ কয়েকটি কারণের মধ্যে অন্যতম দখল হয়ে যাওয়া কান্দিখাল। এই খালে পানি নিষ্কাশনে বাধা ডজনাধিক কালভার্ট ও স্টিল ব্রিজসহ কিছু স্থাপনা চিহ্নিত করা হয়েছে। গত সোমবার বিকেলে ভাঙা হয়েছে দুটি কালভার্ট ও একটি স্টিলের ব্রিজ। অপরদিকে বিভিন্নভাবে দখলে রাখা ৪৮ ব্যক্তি ও সরকারি প্রতিষ্ঠানকে গতকাল মঙ্গলবার চিঠি দিয়েছে কুসিক কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নগরীর পানি প্রবাহের অন্যতম মাধ্যম ছিল কান্দিখাল। পাঁচ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের খরস্রোতা এই খাল উত্তর চর্থার নবাববাড়ি চৌমুহনী এলাকা এবং নোয়াগাঁও হয়ে সদর দক্ষিণ উপজেলার পুরাতন ডাকাতিয়া নদীতে মিশেছে। সিএস নকশা অনুযায়ী এক সময় কান্দিখালের প্রস্থ ৪৫ থেকে ৯৫ ফুট থাকলেও অবৈধ দখলের কারণে তা বর্তমানে মাত্র ১৫ থেকে ২০ ফুটে নেমে এসেছে। এতে নগরীতে ক্রমেই জলাবদ্ধতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। কুসিক থেকে ২০২১ সালে নোটিশ দেওয়া হলেও কর্ণপাত করেনি দখলদার চক্র।
কুসিক সূত্রে জানা গেছে, নগরী থেকে পানি বাইরে প্রবাহের জন্য প্রধান মাধ্যম কান্দিখাল। দখলের কারণে ভারী বর্ষণে কুমিল্লা নগরজুড়ে সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা। সোমবার ভোর থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত মাত্র তিন ঘণ্টায় ১০৭ মিলিমিটার বৃষ্টিতে নগরীর অধিকাংশ এলাকা তলিয়ে যায়। এতে হাসপাতালের সেবা কার্যক্রম বিঘ্নিত হয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পানি উঠে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়। এসব সমস্যা সমাধানে নগরীর দক্ষিণে পানি অপসারণের অন্যতম প্রধান মাধ্যম কান্দিখালে বেশ কয়েকটি বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা শনাক্ত করা হয়। কান্দিখাল ও গুঙ্গাইজুড়ি খাল হয়ে নগরীর পানি সরাসরি ডাকাতিয়া নদীতে গিয়ে পড়ে। কিন্তু খালের মাঝে থাকা কালভার্ট, ভাঙা ব্রিজ ও বাখরাবাদের গ্যাস পাইপলাইনের বাধার কারণে পানি নদী পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে না। ফলে খালের পানি উপচে উল্টো শহরে ফিরে এসে রাস্তাঘাট ডুবিয়ে দেয়।
গতকাল মঙ্গলবার সরেজমিন দেখা গেছে, ওই খালে বেশ কয়েকটি কালভার্ট পানি প্রবাহে বড় ধরনের বাধা সৃষ্টি করছে। সিটি করপোরেশনের কর্মীরা সোমবার সিটি প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপুর উপস্থিতিতে খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে তাৎক্ষণিক দুটি কালভার্ট ও একটি ভেঙে পড়া স্টিল ব্রিজ অপসারণ করেন। আরও ১৫টি স্টিল ব্রিজ ও কালভার্ট চিহ্নিত করা হয়েছে।
কুসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মামুনের ভাষ্য, এই খালে অবৈধভাবে দখল করে রাখা অন্তত ৪৮ জন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে চিহ্নিত করা হয়েছে। কান্দিখালের পশ্চিম পাড়ে বাসাবাড়ি ও বিভিন্ন স্থাপনায় যাতায়াতের সুবিধার্থে তাদের পরিকল্পনার বাইরে গিয়ে ইচ্ছামতো কালভার্ট ও স্টিলের সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। অবৈধ দখলের তালিকায় আছে পানি উন্নয়ন বোর্ড, সড়ক ও জনপথ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ ৪৮ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে এসব অবৈধ স্থাপনা অপসারণ বা প্রয়োজনীয় উচ্চতায় উন্নীত না করলে সিটি করপোরেশন নিজ উদ্যোগে অপসারণ করবে।
কুসিকের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু বলেন, যেসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান পানি প্রবাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে তাদের নোটিশ দেওয়া হয়েছে। জলাবদ্ধতা নিরসনে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তবনা (ডিপিপি) তৈরি করা হচ্ছে। কাজ শেষ হলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
- বিষয় :
- উচ্ছেদ অভিযান