ঢাকা শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ

ফোনালাপ ফাঁসের ঘটনায় উপাধ্যক্ষের অপসারণের দাবি

ফোনালাপ ফাঁসের ঘটনায় উপাধ্যক্ষের অপসারণের দাবি
×

ছবি: সমকাল

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ

প্রকাশ: ০২ আগস্ট ২০২৬ | ১২:৫৪

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ ও ড্যাবের স্থানীয় সভাপতি ডা. বদরউদ্দিন সোহেলের আপত্তিকর ফোনালাপ ফাঁসের ঘটনায় চিকিৎসকদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এই ঘটনায় ডা. সোহেলের অপসারণ ও ড্যাব থেকে বহিষ্কারের দাবিতে গতকাল শনিবার সকালে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে ১৫-২০টি ব্যানার ও ফেস্টুন টানানো দেখা গেছে।

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের জাতীয়তাবাদী চিকিৎসকদের ব্যানারে টানানো এসব ফেস্টুন ও ব্যানারে ডা. বদরউদ্দিন সোহেলের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।

এসব ব্যানারে লেখা হয়, ড্যাব ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ শাখার সিনিয়র সহসভাপতি ডা. জাকির হোসেন জিকু, ড্যাবের আজীবন সদস্য অধ্যাপক ডা. শরীফ উদ্দিন পাঠন, অধ্যাপক ডা. মাহমুদুল হাসান ফারুক এবং ড্যাব কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ডা. মুহাম্মদ ইসহাক সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্য ও প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে ক্ষতি সাধনের ষড়যন্ত্রের অভিযোগে ডা. বদরউদ্দিন সোহেলকে ড্যাব সভাপতি পদ থেকে বহিষ্কার ও অনতিবিলম্বে উপাধ্যক্ষ পদ থেকে অপসারণের জোর দাবি জানানো হচ্ছে।

এ ছাড়া ড্যাবের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্যের বিষয়ও ব্যানারে তুলে ধরা হয়। তবে ব্যানার ও ফেস্টুনগুলো টানানোর কিছু সময় পরই তা অপসারণ করা হয় বলে জানা গেছে।

এর আগে ৩০ জুলাই বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে উপাধ্যক্ষ ডা. বদরউদ্দিন সোহেল এবং সাবেক ছাত্রদল নেতা ডা. ইমতিয়াজ আহমেদ সিয়ামের একটি আপত্তিকর ফোনালাপ ফাঁসের খবর প্রকাশ হলে তোলপাড় শুরু হয়। অডিওতে ডা. সোহেলকে জ্যেষ্ঠ সহকর্মীদের প্রতি অশালীন ভাষা ব্যবহার, কেন্দ্রীয় নেতাদের তুচ্ছতাচ্ছিল্য এবং জুনিয়র চিকিৎসকদের ক্যারিয়ার ধ্বংসের হুমকি দিতে শোনা যায়।

ফাঁস হওয়া রেকর্ডিংয়ে জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ও অর্থোপেডিক্স বিভাগের প্রধান ডা. জাকির হোসেন জিকুকে গালাগাল এবং তাঁর পদোন্নতি আটকে রাখার কথা ড্যাব সভাপতি নিজেই স্বীকার করেন। পাশাপাশি ড্যাবের বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. সায়েম, ড্যাবের কেন্দ্রীয় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার ও ডা. মো. জাহিদ হোসেনকে নিয়েও ঔদ্ধত্যপূর্ণ মন্তব্য করেন তিনি।

প্রশাসনিক ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে উপাধ্যক্ষ হওয়ার পরপরই প্রশাসনিক কাজ ও পরীক্ষার তালিকা থেকে বেশ কয়েকজন শিক্ষকের নাম কেটে দেওয়ার বিষয়ও ফাঁস হওয়া অডিওতে উঠে আসে।

শিশু বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মাহমুদুল হাসান ফারুক ও ড্যাব কেন্দ্রীয় সদস্য ডা. মুহাম্মদ ইসহাক জানান, সভাপতির এমন প্রতিহিংসামূলক পরিকল্পনায় সবাই আতঙ্কিত। ড্যাবের কেন্দ্রীয় নেতাদের বিষয়টি জানানো হয়েছে এবং তারা দ্রুত তাঁর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তবে ক্যাম্পাসে এ ধরনের ব্যানার কারা লাগিয়েছে সে বিষয়ে তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

বক্তব্য জানতে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ ডা. বদরউদ্দিন সোহেলকে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলেও রিসিভ করেননি। অধ্যক্ষ ডা. নাজমুল আলমও বিষয়টি নিয়ে বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

ব্যানার কারা লাগিয়েছে আর কারা অপসারণ করেছে, এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সমকালকে বলেন, ‘ফোনে এসব বলা যাবে না, আগামীকাল অফিসে আসেন।’

আরও পড়ুন

×