ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাড়ির পাশে বালুভর্তি বস্তায় বিস্ফোরণ, শিশুসহ দগ্ধ ৩

বরিশালের বাকেরগঞ্জ

বাড়ির পাশে বালুভর্তি বস্তায় বিস্ফোরণ, শিশুসহ দগ্ধ ৩
×

বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার ভরপাশা ইউনিয়নের দুধলমৌ গ্রামে গতকাল সোমবার ঘরের পাশে রাখা বালুভর্তি বস্তায় বিস্ফোরণ ঘটে। ঘটনাস্থল ঘিরে রাখেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা - সমকাল

 বাকেরগঞ্জ (বরিশাল) সংবাদদাতা

প্রকাশ: ০৪ আগস্ট ২০২৬ | ০৮:৫৫ | আপডেট: ০৪ আগস্ট ২০২৬ | ০৯:২৮

| প্রিন্ট সংস্করণ

বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলায় বাড়ির পাশে রাখা বালুভর্তি বস্তায় বিস্ফোরণে শিশুসহ তিনজন দগ্ধ হয়েছেন। গতকাল সোমবার সকালে উপজেলার ভরপাশা ইউনিয়নের দুধলমৌ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন– ওই বাড়ির মালিক শাহ আলম হাওলাদারের স্ত্রী হনুফা বেগম, মেয়ে ইতি আক্তার ও নাতি ফাহিম। 

পুলিশ, স্থানীয় বাসিন্দা ও আহতদের স্বজনরা জানান, গতকাল সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ফাহিমকে প্রাইভেট টিউটরের কাছে রাখার জন্য বাড়ি থেকে বের হন হনুফা ও ইতি। বাড়ির পাশের রাস্তা ধরে বের হচ্ছিলেন তারা। এ সময় ফাহিম হঠাৎ বাড়ির পেছনের দিকে যাওয়ার জন্য দৌড় দেয়। টিনের বাড়ির পেছনের দিকে স্তূপ করে রাখা আছে কয়েক বস্তা বালু। ফাহিম দৌড় দিতেই সেখানে রশিতে তার পা জড়িয়ে যায়। টান লাগতেই হঠাৎ বিস্ফোরণ ঘটে। এতে তিনজনের শরীরেই আগুন ধরে যায়। তারা দৌড়ে বাড়ির সামনের তুলাতুলি নদীতে ঝাঁপ দেন।

বিস্ফোরণের শব্দ শুনে স্বজন ও প্রতিবেশীরা ছুটে গিয়ে তাদের নদী থেকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে বরিশাল শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। শাহ আলমের পুত্রবধূ তানজিলা আক্তার সন্ধ্যা ৬টার দিকে জানান, চিকিৎসকদের পরমার্শে উন্নত চিকিৎসার জন্য তিনজনকে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নিতে রওনা হয়েছেন তারা।

আহত ইতি বেগম বলেন, ‘সকালে বাইরে বের হয়ে দেখি, বালুর পাশে একটি চিপসের প্যাকেটের সঙ্গে নতুন বাজারের ব্যাগ বাঁধা। ফাহিম হঠাৎ পা পিছলে ব্যাগের ওপর পড়ে রশিতে জড়িয়ে পড়লে বিস্ফোরণ হয়। মুহূর্তেই আমাদের শরীরে আগুন ধরে যায়। প্রাণ বাঁচাতে আমরা নদীতে ঝাঁপ দিই।’

শেবাচিম হাসপাতালের চিকিৎসক আলমগীর হোসেন জানান, হনুফার শরীরের ১৫ শতাংশ এবং ফাহিমের ১০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। ইতির শরীর দগ্ধ হয়েছে কম। তবে বিষয়টি যেহেতু আলোচিত, তাই তিনজনকেই উন্নত চিকিৎসার জন্য জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়েছে।

শাহ আলমের ছেলে জামাল হাওলাদার বলেন, ‘বিস্ফোরকটি কোথা থেকে এসেছে, সে বিষয়ে আমাদের কোনো ধারণা নেই।’ সন্ধ্যা ৬টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার খলিলুর আহমেদ। সেখানে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘ঘটনাটি সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করার জন্য প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছি।’ এ সময় দগ্ধ তিনজনের চিকিৎসার জন্য নগদ ৩০ হাজার টাকা দেন খলিলুর আহমেদ।

রাত সাড়ে ৮টার দিকে বাকেরগঞ্জ থানার ওসি আদিল হোসেন জানান, ঘটনার তদন্ত চলছে। ঢাকার বম্ব ডিসপোজাল ইউনিট বরিশালে আসছে। বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থল পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে এটি কী ধরনের বিস্ফোরক ছিল এবং কীভাবে বিস্ফোরণ ঘটেছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে। বিস্ফোরণের ঘটনায় আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান। 

আরও পড়ুন

×