গণঅভ্যুত্থানের ২ বছর
শেরপুর কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া ৩৪৫ বন্দির হদিস নেই
সংগৃহীত ছবি
শেরপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৫ আগস্ট ২০২৬ | ২০:০০
শেরপুর জেলা কারাগারে হামলা হামলা, অগ্নিসংযোগ ও লুটের দুই বছরে পেরিয়ে গেলেও এখনও খোঁজ নেই ৩৪৫ জন বন্দির। দুই বছর আগে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের দিনে কারাগার ভেঙে ৫১৮ জন বন্দি পালিয়ে যায়। একইদিনে লুট হওয়া ১ হাজার ১৪৩ রাউন্ড গুলিরও সন্ধান পাওয়া মেলেনি।
জেলা কারাগার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সরকার পরিবর্তনের খবর প্রচার হওয়ার পর ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বিকেল ৪টার দিকে শেরপুর জেলা কারাগারে ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটে। এসময় কয়েক হাজার দুর্বৃত্ত দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে পৌর এলাকার কালিগঞ্জ মোড়ে অবস্থিত জেলা কারাগারে হামলা করে।
প্রথমেই হামলা হয় কারা কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ওপর। তারা প্রাণভয়ে এদিক-সেদিক ছুটতে থাকেন। পরে দুর্বৃত্তরা প্রধান ফটক ভেঙে কারাগারে প্রবেশ করে। বন্দিদের ওয়ার্ড ভেঙে ফেলে বের করে আনা হয় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের। এসময় পালিয়ে যায় ৫১৮ বন্দি। পরে কারাগারের বিভিন্ন ওয়ার্ড, গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র, স্থাপনা ও গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দিয়ে লুটতরাজ শুরু করে দুর্বৃত্তরা। তারা কারাগারে থাকা ৯টি অস্ত্র, চায়না রাইফেলের ৮৬৪টি ও শটগানের ৩৩৬টি গুলিসহ ১ হাজার ১৭৫টি গুলি এবং টাকা-পয়সা লুট করে নিয়ে যায়।
পরে পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ১০ জন যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত আসামিসহ ১৭৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে লুট হওয়া ৯টি অস্ত্র উদ্ধার হলেও অধরা রয়েছে ১ হাজার ১৪৩ রাউন্ড গুলি। উদ্ধার হয়েছে ৩২টি গুলি।
এ ব্যাপারে শেরপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের আইনজীবী ও মানবাধিকার কর্মী আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম বলেন, পলাতকদের দ্রুত আইনের আওতায় নিয়ে আসা উচিত। তা না হলে সমাজে অশান্তি ও ভীতি কমবে না।
কারাগারের জেলার মো. আব্দুস সেলিম বলেন, যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত ১০ আসামিসহ ১৭৩ জন পলাতক বন্দি গ্রেপ্তারের পর আদালতের মাধ্যমে কারা কর্তৃপক্ষ হাতে পেয়েছে। ৭০-৮০ জন বিভিন্ন মেয়াদে সাজাপ্রাপ্তসহ ৩৪৫ জন বন্দি এখনো পলাতক।
শেরপুর কারাগারের জেল সুপার শাহ রফিকুল ইসলাম বলেন, খোয়া যাওয়া সকল অস্ত্র পাওয়া গেছে। হারানো ১ হাজার ১৭৫ গুলির মধ্যে পাওয়া গেছে ৩২টি। মিসিং ১ হাজার ১৪৩ গুলি।
এ ব্যাপারে শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মিজানুর রহমান ভূঁইয়া সাংবাদিকদের বলেন, জেলা পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অন্যান্য সদস্যরা ১৭৩ জনকে গ্রেপ্তার করতে সমর্থ হয়েছে এবং হারিয়ে যাওয়া অস্ত্র ও গুলির মধ্যে ৯টি অস্ত্র ও কিছু সংখ্যক গুলি উদ্ধার করতে পেরেছি। বাকি গুলি ও আসামিদের ধরতে চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।