হত্যা মামলার সাক্ষীকে মেরে ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগ
ফাইল ছবি
শেরপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৭ আগস্ট ২০২৬ | ০০:২৩
শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার রানীশিমুল ইউনিয়নে ছেলে হত্যা মামলার সাক্ষী বাবাকে হত্যা করে গাছের ডালে ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার সকালে হালুয়াহাটী গ্রামের বাসিন্দা মোফাজ্জল হকের লাশ তাঁর বাড়ির পাশে একটি গাছের ডালে অর্ধ ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। দুপুরে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।
জানা গেছে, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ২০২২ সালের ২৩ মার্চ পুলিশের উপস্থিতিতে দিনের বেলায় বাড়ির আঙিনায় কুপিয়ে মোফাজ্জল হকের ছেলে শেখবর আলীকে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনায় স্থানীয় জাকির হোসেন জিকো, তাঁর ভাই গোলাম মোস্তফাসহ ২৪ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন নিহত শেখবর আলীর ভাই। মামলাটি আদালতে বিচারাধীন। আসামিরা জামিনে রয়েছেন। কিছু দিনের মধ্যে মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
নিহত মোফাজ্জল হকের মেয়ে মোর্শেদা ও পারভীন জানান, দুই দিন আগে তাদের বাবা বলেছেন তিনি এক ছেলে হারিয়েছেন, আরেক ছেলে হারাবেন। বাজারে গিয়ে শান্তি পান না, মামলা আপস করতে বলে লোকজন। তারা বলেন, ফজরের নামাজ পড়তে ভোরে মসজিদে যান তাদের বাবা। এরপর আর ফিরে আসেননি। বিভিন্ন জায়গায় খোঁজার পর বাড়ির পেছনে গাছের সঙ্গে অর্ধ ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। তাঁর বাবা কোনোভাবেই ফাঁস দেননি, কারণ তাঁর এক পা মাটিতে লাগানো ছিল। অন্য পা উঠানো ছিল। ফাঁস দিলে এই অবস্থায় থাকত না। তাঁকে হত্যা করে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। তাদের সন্দেহ– জিকু ও সাইফুল এই ঘটনায় জড়িত।
বক্তব্য জানতে জিকুর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। তাঁর ভাই গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘আমি এলাকায় থাকি না, ভায়াডাঙ্গা থাকি। মোফাজ্জল ফাঁস দিয়েছেন বলে বৃহস্পতিবার বিকেলে শুনেছি।’ জিকো ও সাইফুলের নিকটাত্মীয়রা জানান, তারা দুজন কোনো অন্যায়ের সঙ্গে জড়িত নন। অযথা মিথ্যা অভিযোগ করা হচ্ছে।
রানীশিমুল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল হামিদ সোহাগ বলেন, ‘আমরা লোকটাকে দেখতে গিয়েছিলাম। এই লোকটাকে কে যেন মেরে ফেলেছে। তিনি ফাঁস টানিয়ে মরেন নাই। হত্যা করে নাটক সাজিয়েছে যেন তিনি ফাঁস দিয়েছেন।’
শ্রীবরদী থানার ওসি মোহাম্মদ নুরুল আলম জানান, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসাপতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এটি হত্যা না আত্মহত্যা তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে নিশ্চিত হওয়া যাবে। রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
- বিষয় :
- শেরপুর
- মরদেহ উদ্ধার
- হত্যা মামলা