ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সড়কের জলাবদ্ধতায় মিশছে সার কারখানার বর্জ্যপানি

সড়কের জলাবদ্ধতায় মিশছে সার কারখানার বর্জ্যপানি
×

সরিষাবাড়ী-ভূঞাপুর সড়কের তারাকান্দিতে যমুনা সার কারখানার পাশের তিতাস মোড় এলাকায় জমে আছে বর্জ্যপানি। গত মঙ্গলবার তোলা ছবি সমকাল

 সরিষাবাড়ী (জামালপুর) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৪ আগস্ট ২০২৬ | ০৯:৩০

| প্রিন্ট সংস্করণ

সরিষাবাড়ী উপজেলার পোগলদিঘা ইউনিয়নের তারাকান্দিতে যমুনা ইউরিয়া সার কারখানার পাশের তিতাস মোড়ে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। নতুন বাইপাস সড়ক নির্মাণের কারণে সরিষাবাড়ী-ভূঞাপুর সড়কে এই জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। বৃষ্টির পানির সঙ্গে সার কারখানার বর্জ্যপানি মিশছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এই জলাবদ্ধতার কারণে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে ওই সড়কে চলাচলকারী লোকজনকে এবং আশপাশের বাসিন্দাদের। এই বিষাক্ত পানির কারণে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বিসিআইসি এলাকায় বাইপাস নতুন সড়ক নির্মাণ করায় প্রধান সড়কে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। তবে জামালপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগ বলছে, বাইপাস রাস্তাটি নির্মাণের কারণে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়নি। সার কারখানার পানি আসার কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এই অভিযোগ অস্বীকার করে যমুনা ইউরিয়া সার কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক দাবি করেন, রাস্তায় জমে থাকা পানি যমুনা সার কারখানার নয়। জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে বৃষ্টির পানির কারণে।

সরেজমিন দেখা গেছে, সরিষাবাড়ী-ভূঞাপুর সড়কের তারাকান্দিতে যমুনা ইউরিয়া সার কারখানার পাশের তিতাস মোড় এলাকা দিয়ে নতুন বাইপাস রাস্তা নির্মাণ করেছে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর। এই রাস্তা নির্মাণ হওয়ায় তিতাস মোড় এলাকার পানি নিষ্কাশন বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে সেখানে বৃষ্টিতে হাঁটু পানি জমে গেছে। তার সঙ্গে মিশছে সার কারখানার ‘কমান্ডিং এরিয়ার’ দূষিত পানি। প্রতিদিন বিষাক্ত বর্জ্যপানি মাড়িয়ে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছেন স্থানীয় লোকজন। ভারী বৃষ্টির কারণে রাস্তায় জমে থাকা বর্জ্যপানি উপচে আশপাশের বাড়িঘরে ঢুকে পড়ছে। এতে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন স্থানীয়রা। অনেকে পানি থেকে নিজেদের বসতবাড়ি বাঁচাতে নতুন বাইপাস সড়কের ওপর দিয়েছেন বাঁধ। ফলে পানি কোথাও নামতে না পারার কারণে স্থায়ী জলাবদ্ধতার দেখা দিয়েছে। সড়কটি দেখে যে কারও মনে হবে যেন এটি একটি ডোবা।
তারাকান্দির তিতাস মোড় এলাকার বাসিন্দা আফজাল হোসেন, জলিল মিয়া ও সানোয়ারা বেগম জানান, এই নতুন বাইপাস রাস্তা নির্মাণ করার পর থেকেই সামান্য বৃষ্টিতে পানি জমে থাকে। এর প্রধান কারণ হচ্ছে যমুনা সার কারখানার ভেতরের ও বাইরের পানি নিষ্কাশনের জন্য কোনো ব্যবস্থা নেই। রাস্তা নির্মাণের আগে এখানে পরিত্যাক্ত ডোবার মতো ছিল, তখন পানি এখানে নিষ্কাশন হতো। এখন রাস্তা হওয়ার কারণে পানি কোথাও যেতে পারে না। ফলে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এসব দূষিত পানি মাড়িয়ে প্রতিদিন চলাচল করতে হয় স্থানীয়দের। এতে শরীরে চুলকানি ও ঘা হয়ে যাচ্ছে। পানি নিষ্কাশনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

তবে সারকারখানার বর্জ্যপানি জমে থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন যমুনা ইউরিয়া সার কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক আফাজ উদ্দিন। তাঁর ভাষ্য, রাস্তায় জমে থাকা পানি যমুনা সার কারখানার নয়। জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে বৃষ্টির পানির কারণে। যমুনা সার কারখানার পানি ওই দিকে যায় না। তিনি বলেন, ‘শুনেছি এলাকার বসবাসকারী লোকজন জমে থাকা পানি বিলে বা আশপাশের খোলা জায়গায় নামতে দিচ্ছে না। রাস্তার ওপর বাঁধ দিয়ে পানি আটকে রেখেছে। ফলে পানি কোনো দিকে নামতে পারছে না।’
জামালপুর-৪ (সরিষাবাড়ী) আসনের সংসদ সদস্য ফরিদুল কবীর তালুকদার শামীম বলেন, বিসিআইসি এলাকায় বাইপাস নতুন সড়ক নির্মাণ করায় প্রধান সড়কে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। পানি নিষ্কাশন করার মতো কোনো ব্যবস্থা দেখছি না। সেচপাম্প লাগিয়ে যে পানি সরানোর ব্যবস্থা করব তারও কোনো পথ দেখছি না। তবে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে ফোনে যোগাযোগ করা হয় সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের জামালপুর কার্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী নওরিস রহমানের সঙ্গে। তাঁর ভাষ্য, বাইপাস রাস্তাটি নির্মাণের কারণে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়নি। সার কারখানার পানি আসার কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এই বিষয়ে কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) সঙ্গে কথা হয়েছে, তিনি ব্যবস্থা নিতে চেয়েছেন। কিন্তু কেন যে ব্যবস্থা নিচ্ছেন না। তাঁর সঙ্গে আবারও কথা বলবেন বলে জানান তিনি।

আরও পড়ুন

×