৪ দিন ভোগান্তির পর গ্যাস পেলেন শেরপুরের গ্রাহকরা
ছবি: ফাইল
শেরপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৬ আগস্ট ২০২৬ | ২২:৪০
চার দিন ভোগান্তির পর গ্যাস পেয়েছেন শেরপুরের গ্রাহকরা। আজ রোববার সন্ধ্যায় গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির শেরপুরের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মো. বদরুজ্জামান।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সিএনজি স্টেশন ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলো গ্যাস পেতে শুরু করেছে। আজ রোববার রাত পৌনে ৮টার দিকে শহরের দুর্গাচরণ মিষ্টান্ন ভান্ডারের অন্যতম মালিক শংকর ঘোষ এবং তাজ ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার শহিদুল ইসলাম গ্যাস পাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করেন। তারা জানান, চার দিন পর গত রোববার সন্ধ্যার দিকে গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে।
এর আগে, ১২ আগস্ট রাত ১০টার দিকে হঠাৎ করে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এতে ভোগান্তির শিকার হন তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির চার হাজারের অধিক আবাসিক গ্রাহক। এ ছাড়া ২১ বাণিজ্যিক, দুটি শিল্প প্রতিষ্ঠান ও জেলা সদর হাসপাতালেও ভোগান্তি শুরু হয়। গতকাল রোববার গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ায় গ্রাহকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।
গ্যাস বন্ধের কোনো আগাম তথ্য না থাকায় বেশি ভোগান্তিতে ছিলেন গৃহিণীরা। শেরপুর শহরের তেরাবাজার মহল্লার বাসিন্দা প্রভাষক মলয় চাকীর স্ত্রী নিপা চাকীর ভাষ্য, হঠাৎ করে গ্যাস না থাকায় সমস্যায় পড়েন তারা। গ্যাস পাবেন এমন আশায় থেকে দুদিন হোটেল থেকে খাবার কিনে খেয়েছেন। পরে সেখানেও খাবার না পাওয়ায় কোনো রকমে ডাল ও আলু সিদ্ধ করে দুপুরের খাবার চালিয়ে নেন তারা। রোববার সন্ধ্যায় গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ায় যেন পাহাড় সমান কষ্ট কমে গেল। মলয় চাকী বলেন, ‘সকালে ও রাতে একটি মিষ্টির দোকান থেকে রুটি কিনে খেতে হয়েছে। সেখানেও লাইন দিতে হয়।’
গোপালবাড়ী মহল্লার বাসিন্দা মিনা বিশ্বাস জানান, গ্যাস না থাকায় লাকড়ি দিয়ে রান্না করতে হয়েছে কয়েকদিন। গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ায় যেন হাঁপ ছেড়ে বাঁচলেন তারা।
শেরপুর জেলা হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, গ্যাস সংকটের কারণে চার দিন এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবহার করে অপারেশন থিয়েটার (ওটি) চালাতে হয়েছে।
তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির শেরপুরের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মো. বদরুজ্জামানের ভাষ্য, গত ১২ আগস্ট রাত ১০টার দিকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকে বিরক্তিকর অবস্থায় ছিলেন তারা। মানুষের ভোগান্তি মানে তাদেরও ভোগান্তি।
তিনি বলেন, ‘গ্রাহকের চাপ সামাল দেওয়া সত্যিই কঠিন। ১০ জনকে বোঝাতে পারছি। কিন্তু দুই-একজন অকথ্য ভাষা ব্যবহার করছে। কিছুই বলার নেই।’ অবশেষে গতকাল রোববার গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
- বিষয় :
- শেরপুর