চার দিন পর পুলিশ বাদী মামলা, বিষাক্ত গ্যাসের নমুনা সংগ্রহ
সীতাকুণ্ডে ৯ শ্রমিকের মৃত্যু
ছবি- সমকাল
সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৮ আগস্ট ২০২৬ | ২২:৫৩
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারীর ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ডে বিষাক্ত গ্যাসে ৯ শ্রমিকের মৃত্যুর চার দিন পর গত সোমবার থানায় পুলিশ বাদী হয়ে অপমৃত্যুর (ইউডি) মামলা করেছে। এদিকে বিষাক্ত গ্যাসের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। জাহাজের ভেতরে ঢুকেছেন তদন্ত কমিটির বিশেষজ্ঞরা। শিল্প মন্ত্রণালয়, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ শিপ রিসাইক্লিং বোর্ডের (বিএসআরবি) গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্যরা সোমবার বিকেলে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থায় দুর্ঘটনাস্থলে ঢোকেন।
তদন্ত দলের সঙ্গে ঢাকা থেকে আসা বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ, পরিবেশ ও নৌ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা রয়েছেন। এ ছাড়া চট্টগ্রাম পরিবেশ অধিদপ্তর, বিস্ফোরক অধিদপ্তর ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারাও তাদের সঙ্গে গেছেন।
শিল্প মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত দলের প্রধান অতিরিক্ত সচিব এ কে এম বেনজামিন রিয়াজী বলেন, তদন্ত দল গত রোববার সকালে ইয়ার্ডে তদন্ত শুরু করেছে। জাহাজের ব্যালাস্ট ট্যাঙ্কারে বিষাক্ত গ্যাসের পরিমাণ খুবই বেশি।
বেনজামিন রিয়াজী আরও বলেন, মঙ্গলবার প্রান্তিক ও আলিফ নামে দুই প্রতিষ্ঠানের উদ্ধারকারী টিম গ্যাসের পরিমাণ নির্ণয় করার পর কী কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে তা বিস্তারিত বলা যাবে। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে জাহাজটির ব্যালাস্ট ট্যাঙ্কে (জলাধার) বিপজ্জনক মাত্রায় গ্যাস জমে ছিল। সেখান থেকে বিষাক্ত হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাস ছড়িয়ে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। তিনি বলেন, যে জাহাজটিতে দুর্ঘটনা ঘটেছে, সেখানে আরও কোনো টক্সিক গ্যাস থেকে যেতে পারে। এটা যাতে নিরাপদ করে তোলা যায় সেই বিষয়গুলো নিয়ে তদন্ত দল কাজ করছে।
তদন্তে যুক্ত এইচআর শিপ ম্যানেজমেন্টের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘আমরা সোমবার সকাল থেকে জাহাজটিতে তদন্ত শুরু করেছি। তিন কমিটির সদস্যরা বিকেল ২টা ৪০ মিনিটে ঘটনাস্থলে আছেন। পর্যাপ্ত সুরক্ষা সরঞ্জাম নিয়ে আমরা জাহাজটির একেবারে ওপরের অংশ পর্যন্ত গিয়েছি। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত বলা যাবে না।’
এর আগে শিল্প মন্ত্রণালয়, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন এবং বাংলাদেশ শিপব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইক্লার্স অ্যাসোসিয়েশন তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করলেও জাহাজের ভেতরে থাকা বিষাক্ত গ্যাসের ঝুঁকির কারণে কোনো কমিটির সদস্যই দুর্ঘটনাস্থলে যেতে পারেননি।
বিএসআরবি মহাপরিচালক এ এস এম শফিউল আলম তালুকদার বলেন, শিল্প মন্ত্রণালয় গঠিত বিশেষজ্ঞ দলসহ অন্যান্য তদন্ত কমিটির সদস্যরা সোমবার সকাল থেকে ফেরদৌস স্টিল শিপইয়ার্ড পরিদর্শন করেছেন। প্রথমে বিশেষজ্ঞ দলে তিনজন সদস্য ছিলেন। আরও চারজনকে যুক্ত করা হয়েছে। নতুন সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক জমির উদ্দিন, বিস্ফোরক অধিদপ্তরের সহকারী পরিদর্শক সাখাওয়াত হোসেন, বিএসবিআরএর ইঞ্জিনিয়ার মাহবুবুর রহমান ও শিপিং বিভাগের আরাফাত।
শিল্প মন্ত্রণালয় বুয়েটের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক মো. ইয়াসির আরাফাত খানের নেতৃত্বে আট সদস্যের একটি বিশেষায়িত বিশেষজ্ঞ দল গঠন করে। দলটিকে জাহাজের বিভিন্ন চেম্বারে থাকা গ্যাসের প্রকৃতি, পরিমাণ, লিকেজের উৎস এবং দুর্ঘটনার কারণ নির্ধারণে সহায়তা করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সোমবার থেকে বিশেষজ্ঞ দলটিও কাজ শুরু করেছে।
সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিনুল ইসলাম বলেন, বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া ৯ শ্রমিকের স্বজনরা মামলা করতে আসেননি। তাই গত সোমবার পুলিশ বাদী হয়ে ইউডি মামলা করেছে। ফরেনসিক রিপোর্ট ও তদন্ত প্রতিবেদনের আলোকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিষাক্ত গ্যাসের নমুনা সংগ্রহ
এলএনজি স্ক্র্যাপ জাহাজের দুর্ঘটনাস্থলে হাইড্রোজেন সালফাইড বিষাক্ত গ্যাসের নমুনা সংগ্রহ করেছেন বুয়েটের তদন্ত টিমের বিশেষজ্ঞরা। এ ছাড়া আশপাশের বিভিন্ন স্থান থেকে নমুনা সংগ্রহ করেছেন প্রান্তিক মেরিন ও আলিফ মেরিন নামে দুটি প্রতিষ্ঠানের বিশেষজ্ঞরা।
তদন্ত বিশেষজ্ঞ টিমের সদস্য বুয়েটের কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. ইয়াসির আরাফাত খান বলেন, সংগৃহীত বিষাক্ত গ্যাসের নমুনা বুয়েটের ল্যাব পরীক্ষার পর বিস্তারিত জানাতে পারবেন।
- বিষয় :
- সীতাকুণ্ড
- শ্রমিক নিহত
- জাহাজ
- গ্যাস
- বিষক্রিয়া