অ্যান্টিভেনম দিয়েও বাঁচানো গেল না শিক্ষার্থীকে
শাহীন আকন্দ
শেরপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৩ আগস্ট ২০২৬ | ০৫:২২
বিষধর সাপের দংশনে মৃত্যু হয়েছে শাহীন আকন্দ নামে শেরপুর সরকারি কলেজের অর্থনীতি বিভাগের স্নাতক সম্মান প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীর। গত শুক্রবার ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন ফুলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকরা।
শাহীন শেরপুর সদর উপজেলার চরমোচারিয়া ইউনিয়নের হরিনধরা কান্দাপাড়া এলাকার শফিকুল ইসলামের ছেলে। জানা গেছে, গত শুক্রবার রাত ৮টার দিকে বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় বসতঘরের কোনায় একটি বিষধর সাপ তাঁর ডান পায়ের গোড়ালিতে দংশন করে চলে যায়। এ সময় শাহীন তাঁর সমবয়সী চাচাতো ভাই ও বন্ধু কাকনকে ঘটনাটি ফোনে জানান। কাকন এসে ক্ষতস্থান বেঁধে রাত সাড়ে ৯টার দিকে তাঁকে নিয়ে শেরপুর ২৫০ শয্যার সদর হাসপাতালে পৌঁছান।
কাকনের ভাষ্য, হাসপাতালে পৌঁছানোর পর জরুরি বিভাগের এক চিকিৎসক তাঁর রক্ত পরীক্ষা দেন। আধাঘণ্টা পর রক্ত পরীক্ষার রিপোর্ট এলে সেখানে বিষের কোনো আলামত না পেয়ে চিকিৎসক তাঁকে অপেক্ষা করতে বলেন। এ সময় চিকিৎসক জানান, ৬ ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হবে। যদি কোনো সমস্যা না হয়, তাহলে বুঝতে হবে রোগী সুস্থ আছে। কিন্তু কিছুক্ষণ পর থেকেই শাহীনের শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। একপর্যায়ে তাঁর মুখ দিয়ে ফেনা বের হতে থাকে। তখন চিকিৎসক তাঁর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে তাঁর শরীরে অ্যান্টিভেনম প্রয়োগ করেন। এরপরও শাহীনের অবস্থা খারাপ হতে থাকলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেভার্ড করা হয়।
কাকন জানান, অ্যাম্বুলেন্সে ফুলপুর পর্যন্ত নেওয়ার পর শাহীন নিস্তেজ হয়ে পড়েন। পরে ফুলপুর ৫০ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক পরীক্ষা শেষে মৃত ঘোষণা করেন। কান্নায় ভেঙে পড়ে কাকন বলেন, ‘শনিবার দুপুরে জানাজা শেষে এলাকার সামাজিক কবরস্থানে লাশ দাফন করা হয়েছে। ছেলের শোকে বার বার মূর্ছা যাচ্ছেন শাহীনের মা-বাবা। তাদের দেখলে কষ্টে বুক ফেঁটে যায়।’
শাহীনের সহপাঠী আরেফিন সানি জানান, পরিবারের বড় ছেলে শাহীন। তার দুই বোন ও এক ভাই আছে। বাবা দিনমজুরি করেন। অনেক কষ্ট করে ছেলেকে লেখাপড়া করাচ্ছিলেন।
অ্যান্টিভেনম দেওয়ার পরও শিক্ষার্থীকে বাঁচানো গেল না কেন? এই প্রশ্নের জবাবে শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. এমরান হোসেন বলেন, ‘সম্ভবত সাপের বিষের ফুল ডোজ বা সম্পূর্ণ বিষের মাত্রা তাঁর শরীরে প্রবেশ করে এবং তাঁর শরীরে প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকায় হাসপাতালে পৌঁছানো পর্যন্ত এক-দেড়ঘণ্টায় কাবু হয়ে যায়। সিরিয়াস রোগী তাঁকে ১০টা ভায়াল সিরিঞ্জের সঙ্গে মিশিয়ে প্রস্তুতি নিয়ে প্রয়োগ করতেও তো সময় লাগে। আসলে ছেলেটা আনলাকি। এ ছাড়া আর কী বলার আছে।’
- বিষয় :
- শেরপুর
- সাপের ছোবল
- মৃত্যু