ঢাকা রোববার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মা জীবিত, তবুও সনদে ‘মৃত’ দেখিয়ে ২১ শতক জমি বিক্রি করলেন ছেলে

মা জীবিত, তবুও সনদে ‘মৃত’ দেখিয়ে ২১ শতক জমি বিক্রি করলেন ছেলে
×

ফাইল ছবি

নান্দাইল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০১:৫৭

ময়মনসিংহের নান্দাইলে জীবিত মাকে ‘মৃত’ দেখিয়ে তাঁর পৈতৃক বসতভিটাসহ ২১ শতক জমি বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক ছেলের বিরুদ্ধে। পরিবারের অভিযোগ, জুয়া খেলার টাকা জোগাড় করতে মাকে মৃত দেখিয়ে ওই জমি গোপনে বিক্রি করেছেন আব্দুল জলিল। সম্প্রতি ক্রেতা লোকজন নিয়ে জমি দখলে গেলে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।

ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার শেরপুর ইউনিয়নের রাজাবাড়িয়া গ্রামে। অভিযুক্ত আব্দুল জলিল ওই গ্রামের মৃত জমসেদ আলীর ছেলে। তাঁর মা রহিমা খাতুন বর্তমানে জীবিত আছেন।

পরিবার ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কয়েক মাস ধরে জুয়া খেলার টাকা জোগাড় করতে সমস্যায় পড়েছিলেন জলিল। একপর্যায়ে তাঁর নজর পড়ে মায়ের নামে থাকা জমির ওপর। কিন্তু মা জীবিত থাকায় তাঁর কাছ থেকে জমি বিক্রির অনুমতি পাওয়া সম্ভব নয় বুঝে তাঁকে ‘মৃত’ দেখিয়ে জমি বিক্রির পরিকল্পনা করেন তিনি।

পরিবারের অভিযোগ, প্রায় সাত মাস আগে জলিল তাঁর মাকে মৃত দেখিয়ে বসতভিটাসহ আশপাশের ২১ শতক জমি প্রতিবেশী মজিবুর রহমানের কাছে বিক্রি করে দেন। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি নান্দাইল সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ১১৫৪ ও ১১৫৫ নম্বর দলিলের মাধ্যমে ওই জমি রেজিস্ট্রি করা হয়। দলিলে সাক্ষী হিসেবে একই গ্রামের সাইফুল ইসলামের ছেলে হোসেন মিয়া এবং দলিল লেখক হিসেবে ঝন্টু সরকারের নাম রয়েছে।

সম্প্রতি জমির ক্রেতা মজিবুর রহমান লোকজন নিয়ে বাড়ি, পুকুর ও পানের বরজ দখল করতে গেলে বিষয়টি ফাঁস হয়। পরে ভুক্তভোগী পরিবার নান্দাইল সাব-রেজিস্ট্রি অফিস থেকে দলিলের নকল তুলে বিষয়টি নিশ্চিত হয়।

শনিবার দুপুরে রাজাবাড়িয়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, যে রহিমা খাতুনকে কাগজপত্রে ‘মৃত’ দেখিয়ে জমি বিক্রি করা হয়েছে, সেই বৃদ্ধা বাড়ির সামনে বসে আছেন। সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আমি অহনও মরছি না, জলিল কেরে আমারে মরা বানাইয়া জমি বেচছে? আমি এইডার কঠিন বিচার চাই।’

এ সময় পাশে ছিলেন জলিলের স্ত্রী নাছিমা বেগম ও ছোট ছেলে অলি মিয়া। স্বামীর এমন কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে নাছিমা বলেন, তাঁর স্বামী নিজের জীবিত মাকে মৃত দেখিয়ে জমি বিক্রি করে থাকলে তা খুবই অন্যায়। তাঁর স্বামী জুয়ায় আসক্ত বলেও দাবি করেন তিনি। জুয়া খেলতে গিয়ে এর আগেও পরিবারের আরও অনেক জমি বিক্রি করেছেন জলিল।

জলিলের ছোট ভাই অলি মিয়া বলেন, তাঁর ভাই মূলত একটি জুয়াড়ি চক্রের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন। দিনের পর দিন ধারদেনা করে জুয়া খেলেছেন এবং অনেক টাকা হেরেছেন। একপর্যায়ে জুয়ার আসরে ওই চক্রের কাছ থেকে টাকা ধার নিয়ে খেলায় হেরে যান। সেই টাকা পরিশোধ করতেই মাকে মৃত দেখিয়ে গোপনে জমি বিক্রি করেছেন বলে তাঁর অভিযোগ।

অলি প্রশ্ন তোলেন, ‘মা যে মারা গেছেন, সেই ভুয়া মৃত্যু সনদ দিল কে? আর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসই বা কীভাবে এত বড় জালিয়াতির দলিল রেজিস্ট্রি করল?’ বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর দলিল জালিয়াতির সঙ্গে জড়িতরা তাঁদের পরিবারের ওপর বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

দলিল লেখক ঝন্টু সরকার বলেন, তাঁকে মৃত্যু সনদ ও ওয়ারিশান সনদ দেওয়া হয়েছিল। সেগুলো দেখেই তিনি দলিল তৈরি করেছেন। মৃত্যু সনদ যাচাই করা তাঁর দায়িত্ব নয় বলেও দাবি করেন তিনি।

এদিকে স্থানীয় ইউপি সদস্য হামিদুল ইসলাম বলেন, রহিমা খাতুনের মৃত্যুর সনদ ও ওয়ারিশান সনদ তিনিই দিয়েছেন। তবে এভাবে সনদ দেওয়া তাঁর উচিত হয়নি। বিষয়টি তিনি দেখছেন।

আরও পড়ুন

×