হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে বিমানমন্ত্রী বললেন, এমন দৃশ্য জীবনে দেখিনি
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত
জামালপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০২:১৬
জামালপুর ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে ধারণক্ষমতার কয়েক গুণ বেশি রোগী ভর্তি। একটি ইনকিউবেটরে একসঙ্গে তিন নবজাতক রাখা। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে চিকিৎসা কার্যক্রম। এসব দেখে বিস্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। এ সময় তিনি বলেন, ‘এমন দৃশ্য জীবনে দেখিনি।’
শনিবার বিকেলে জামালপুর ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখেন এই মন্ত্রী। এ সময় রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং চিকিৎসা সেবার সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন তিনি। হাসপাতালের ধারণক্ষমতার তুলনায় অতিরিক্ত রোগীর চাপ, শয্যা সংকট, শিশু ওয়ার্ডের অব্যবস্থাপনা এবং ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে রোগীদের চিকিৎসা দেওয়ার বিষয়টি দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেন মন্ত্রী।
পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, তাঁর জীবনের সবচেয়ে খারাপ অভিজ্ঞতাগুলোর একটি এই হাসপাতালে এসে হলো। হাসপাতাল দেখেছেন, কিন্তু এমন পরিস্থিতি কখনও দেখেননি। যেখানে ২৫০ রোগী থাকার কথা, সেখানে ৮৬৭ রোগী ভর্তি আছে। তাদের মানবেতর অবস্থা দেখে বিস্মিত তিনি। তাঁর জীবনে দেশের কোনো হাসপাতালে এ ধরনের চিত্র চোখে পড়েনি বলে দাবি করেন। মানুষ এখানে চিকিৎসা নিতে এসে যে পরিস্থিতির মধ্যে পড়েন তা দুঃখজনক।
হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের পরিস্থিতি নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘ইনকিউবেটরে একটা বাচ্চার জায়গায় তিনটা করে রাখা হয়েছে। এটা অত্যন্ত কষ্টদায়ক ও উদ্বেগের বিষয়।’
হাসপাতালের পুরোনো ভবনের ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এই হাসপাতালের বহির্বিভাগ ভবনটি ২০২১ সালে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। তারপরও এখানে প্রতিদিন শত শত রোগী আসছে। পরিত্যক্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
জামালপুর ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালটি জেলাবাসীর একমাত্র ভরসা। বিভিন্ন উপজেলা ছাড়াও আশপাশের জেলার মানুষও এখানে চিকিৎসা নিতে আসেন। দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালটিতে ধারণক্ষমতার তুলনায় রোগীর চাপ অনেক বেশি বলে অভিযোগ রয়েছে। এর ফলে শয্যা না পেয়ে অনেক রোগীকে মেঝেতে কিংবা এক শয্যায় একাধিক রোগীকে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।
হাসপাতাল পরিদর্শনের সময় মন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন জামালপুরের পুলিশ সুপার মোছা. ফারহানা ইয়াসমিন, সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ আজিজুল হকসহ-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও দলীয় নেতাকর্মীরা।
- বিষয় :
- জামালপুর
- বিমানমন্ত্রী