ঢাকা রোববার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এনআইডি পেলেন ৫৪ হাজার ৪৭৭ জন প্রবাসী 

এনআইডি পেলেন ৫৪ হাজার ৪৭৭ জন প্রবাসী 
×

ফাইল ছবি

অমরেশ রায়

প্রকাশ: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০০:৫০

প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধন ও জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) প্রদান কার্যক্রমে ১৪টি দেশের ৫৪ হাজার ৪৭৭ জন এনআইডি পেয়েছেন। এর মধ্যে ২৮ হাজারের বেশি এনআইডির স্মার্ট কার্ড প্রিন্ট করে সংশ্লিষ্ট দেশে পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। 

ইসির এনআইডি অনুবিভাগের আগস্ট মাসের প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে। যেখানে গত ২৭ আগস্ট পর্যন্ত ১৪টি দেশের ২৪টি স্টেশনে প্রবাসীদের এনআইডি সেবা কার্যক্রমের তথ্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। 

প্রতিবেদনে বলা হয়, আগস্টে প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন কার্যক্রমে আবেদন পাওয়া গেছে ৯৯ হাজার ৮১৫টি। এসব আবেদনের মধ্যে ৬২ হাজার ৫৮৯টির বায়োমেট্রিক গ্রহণ করা হয়েছে। অর্থাৎ মোট আবেদনের প্রায় ৬৩ শতাংশ আবেদনকারী বায়োমেট্রিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন। তবে এখনও ৩৭ হাজারের বেশি আবেদনের ক্ষেত্রে বায়োমেট্রিক গ্রহণ বাকি রয়েছে। 

তদন্ত প্রক্রিয়া অনুযায়ী- নিবন্ধন কর্মকর্তাদের তদন্ত শেষে ৫৪ হাজার ৪৭৭টি আবেদন অনুমোদন হয়েছে। ৩ হাজার ৫৩৬টি আবেদন অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। এছাড়া তদন্ত শেষে বাতিল হয়েছে ২৬ হাজার ৫৯৫টি আবেদন। 

প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রবাসীদের সবচেয়ে বড় স্টেশনভিত্তিক এনআইডি কার্যক্রম রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবি ও দুবাই, যুক্তরাজ্যের লন্ডন, ম্যানচেস্টার ও বার্মিংহাম এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক, মিশিগান, ওয়াশিংটন ডিসি ও লস অ্যাঞ্জেলেসকে ঘিরে। এসব কেন্দ্রেই প্রবাসীদের এনআইডি আবেদনের বড় অংশ এসেছে। এসব দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আবেদন এসেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে। দেশটির আবুধাবি ও দুবাই স্টেশনে মোট ২৪ হাজার ৮২৫টি আবেদন জমা পড়েছে। যুক্তরাজ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আবেদন পড়েছে। যেখানে ম্যানচেস্টার ও বার্মিংহাম স্টেশনে মোট ১৮ হাজার ৬২১টি আবেদন পাওয়া গেছে। আর যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক, মিশিগান, ওয়াশিংটন ডিসি ও লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেশনে ১৮ হাজার ৪৭২টি আবেদন পাওয়া গেছে।

এদিকে, ইতালিতে প্রায় সাড়ে ৯ হাজার, সৌদি আরবে প্রায় ৭ হাজার, কুয়েতে ৫ হাজার ৯২১, কাতারে ৪ হাজার ৮২৯টি এবং মালয়েশিয়ায় ২ হাজারের বেশি প্রবাসী আবেদন করেছেন। অস্ট্রেলিয়ার ক্যানবেরা ও সিডনি স্টেশনে ১ হাজার ৪৫৯টি আবেদন পাওয়া গেছে। কানাডার অটোয়া ও টরন্টো স্টেশনে ৩ হাজার ৭৯৪টি আবেদন এসেছে। জাপানের টোকিও স্টেশনে ৩৬৫টি আবেদন পাওয়া গেছে। যার মধ্যে বায়োমেট্রিক গ্রহণ হয়েছে ২০৮টির। মালদ্বীপের মালে স্টেশনে আবেদন এসেছে ৩২৮টি। ওমানের মাস্কাট স্টেশনে ২ হাজার ৫৭৩টি আবেদন পাওয়া গেছে। দক্ষিণ আফ্রিকার প্রিটোরিয়া স্টেশনে সবচেয়ে কম ১৩৯টি আবেদন পাওয়া গেছে।

প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটার নিবন্ধন ও জাতীয় পরিচয়পত্র পাওয়ার সুযোগ তৈরির উদ্যোগ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় ২০১৯ সালে। ওই বছরের ৫ নভেম্বর মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত বাংলাদেশিদের অনলাইনে ভোটার নিবন্ধন ও স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র দেওয়ার কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়। একই বছরের ১৮ নভেম্বর সংযুক্ত আরব আমিরাতে এ কার্যক্রম শুরু হয়।

২০২৬ সালের মাঝামাঝি সময়ে এসে এই কার্যক্রম ১৪টি দেশের ২৪টি স্টেশনে বিস্তৃত হয়। সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, যুক্তরাজ্য, ইতালি, কুয়েত, কাতার, মালয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, জাপান, যুক্তরাষ্ট্র, মালদ্বীপ, ওমান ও দক্ষিণ আফ্রিকার বাংলাদেশ মিশনের মাধ্যমে তখন ভোটার নিবন্ধন ও এনআইডি সেবা দেওয়া হচ্ছিল। গত জুলাইয়ে নরওয়ে, ফিনল্যান্ড, সুইডেন, সিঙ্গাপুর ও বাহরাইনকে নতুন করে কার্যক্রমের আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নেয় ইসি। এর মধ্যে সিঙ্গাপুরে ৪ আগস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে ভোটার নিবন্ধন ও এনআইডি সেবা উদ্বোধন হয়েছে। উদ্বোধনের সময় তিনজন প্রবাসী বাংলাদেশির হাতে স্মার্ট কার্ডও তুলে দেওয়া হয়। 

আরও পড়ুন

×