ব্যাংক ম্যানেজারের মরদেহ উদ্ধার, চিরকুট থেকে যা জানা গেল
মোহাম্মদ আবুল হোসাইন
চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশ: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২২:২৯
কয়েক মাস ধরে নানা পেশাগত চাপ, আর্থিক সংকট আর একটি মামলার দুশ্চিন্তা তাড়া করে ফিরছিল জনতা ব্যাংকের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ আবুল হোসাইনকে। শেষ পর্যন্ত নিজ বাসায় ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া গেল তাঁর মরদেহ। মৃত্যুর আগে রেখে যাওয়া চিরকুটে সেই চাপ-দুশ্চিন্তার কথাগুলো লিখে গেছেন তিনি।
সোমবার সকালে নগরের হালিশহর খোরশেদবাগ আবাসিক এলাকার ইম্পিরিয়াল আরকিট ভবনের ৬/বি নম্বর ফ্ল্যাট থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। আবুল হোসাইনের স্ত্রী শারমিন আক্তার এ ঘটনায় হালিশহর থানায় অপমৃত্যুর মামলা করেছেন। ঘটনাস্থলে তাঁর লেখা একটি চিরকুট পাওয়া গেছে।
পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত রোববার রাতে খাবার শেষে আবুল হোসাইন ও তাঁর স্ত্রী আলাদা কক্ষে ঘুমাতে যান। গতকাল সোমবার ভোর ৫টা ২০ মিনিটের দিকে ফজরের নামাজ পড়ার জন্য ঘুম থেকে ওঠেন শারমিন। পরে অন্য কক্ষে গিয়ে দরজা ধাক্কা দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করলে স্বামীকে ফ্যানের সঙ্গে চাদর পেঁচানো অবস্থায় ঝুলতে দেখেন। তাঁর চিৎকারে ছেলে ও স্বজনরা এসে চাদর কেটে আবুল হোসাইনকে নিচে নামান। পরে ৯৯৯-এ খবর দেওয়া হলে হালিশহর থানা-পুলিশ গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে মরদেহ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
চিরকুটে পেশাগত চাপের কথা
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থলে পাওয়া চিরকুটে আবুল হোসাইন গত কয়েক মাসের নানা সমস্যা, মানসিক চাপ ও আর্থিক সংকটের কথা উল্লেখ করেছেন। চিরকুটে তিনি লিখেন, মোহাম্মদপুর জিবি শাখার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ঋণ দেওয়া না-দেওয়া, বদলি ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে তাঁর ওপর পেশাগত চাপ বাড়ছিল। পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যবসায়ীর কাছে পাওনা টাকা না পাওয়ায় আর্থিক সংকটেও ছিলেন তিনি।
এ ছাড়া ২০২১ সালের একটি চেক-সংক্রান্ত ঘটনায় লালদিঘি শাখার তৎকালীন ব্যবস্থাপক হিসেবে তাঁর ও কয়েকজন সহকর্মীর বিরুদ্ধে সম্প্রতি একটি সিআর মামলা হওয়ার বিষয়টিও চিরকুটে উল্লেখ করেন তিনি। মামলাটি সম্পর্কে দুই সপ্তাহ আগে জানতে পারেন বলে এতে দাবি করা হয়েছে। নিজেকে ওই ঘটনায় নির্দোষ দাবি করে মামলাটি নিয়ে গত দুই-তিন সপ্তাহ ধরে দুশ্চিন্তায় ছিলেন বলে চিরকুটে উল্লেখ করেন তিনি।
চিরকুটের শেষাংশে পরিবারের সদস্য ও সন্তানদের দেখভালের অনুরোধ জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর মৃত্যুর জন্য কাউকে দায়ী না করার কথাও উল্লেখ রয়েছে।
হালিশহর থানার উপপরিদর্শক মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও চিরকুটের বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
- বিষয় :
- চট্টগ্রাম
- ব্যাংক কর্মকর্তা
- মরদেহ উদ্ধার
- চিরকুট