জামিনে বেরিয়ে ‘ধর্ষণ মামলা’ তুলে নিতে বাদীকে হুমকির অভিযোগ
প্রতীকী ছবি
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১২:৩৬ | আপডেট: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১২:৫১
গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে ধর্ষণ মামলায় কারাগারে থাকা আসামির বিরুদ্ধে জামিনে বেরিয়ে মামলা তুলে নিতে বাদীকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে বাদী ও তার পরিবারের সদস্যরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। কাশিয়ানী উপজেলার হাতিয়াড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আসামি একই গ্রামের হারান বিশ্বাসের ছেলে বাবলু বিশ্বাস।
এ ঘটনায় মামলার আসামি ও তার সহযোগী সোহেল শেখ, অংশু বিশ্বাস এবং সুধাংশ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে থানায় একটি অভিযোগ করেছেন মামলার বাদী।
মামলা ও অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ৬ আগস্ট উপজেলার হাতিয়াড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির এক ছাত্রীকে শ্রেণিকক্ষে ধর্ষণ করে একই প্রতিষ্ঠানের দপ্তরি বাবলু বিশ্বাস। এতে ওই ছাত্রী অন্তঃসত্তা হয়ে পড়লে বিষয়টি জানতে পারেন ভুক্তভোগী পরিবারের লোকজন। এ ঘটনায় শিক্ষার্থীর বাবা বাদী হয়ে আদালতে মামলা করেন। কাশিয়ানী থানা মামলাটি নথিভুক্ত করে এবং পুলিশ ঘটনার বিষয়টি তদন্ত করে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের পর আদালত অভিযুক্ত বাবলু বিশ্বাসের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। পরবর্তীতে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠায়।
বাদীপক্ষের অভিযোগ, আসামি বাবলু বিশ্বাস কারাগার থেকে জামিনে বেরিয়ে এসে নিজে এবং লোকজন দিয়ে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য বাদীকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছেন। মামলা প্রত্যাহার না করলে বাদী ও তার পরিবারের সদস্যদের ক্ষতি করার ভয় দেখানো হচ্ছে। বাদীর তার ৫ বছর বয়সী শিশুসন্তানকে অপহরণেরও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এতে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বাদী ও তার পরিবার। একই সঙ্গে মামলার বিচারপ্রক্রিয়া যাতে কোনোভাবে প্রভাবিত না হয়, সে জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।
মামলার বাদী বলেন, আমার মেয়ের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিচার পাওয়ার আশায় আদালতের দ্বারস্থ হয়েছি। কিন্তু আসামি জামিনে বেরিয়ে এসে এখন মামলা তুলে নিতে হুমকি দিচ্ছে। আমার ছেলেকে অপহরণের হুমকি দিচ্ছে। আমরা আতঙ্কের মধ্যে আছি। প্রশাসনের কাছে নিরাপত্তা চাই।’
এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত বাবলু বিশ্বাসের ফোনে কল দেওয়া হলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। তবে তার সহযোগী সোহেল শেখ হুমকি দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলাম। আমার বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ মিথ্যা অভিযোগ করেছেন বাদী।’
কাশিয়ানী থানার ওসি মুহাম্মদ মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত শুরু পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
- বিষয় :
- গোপালগঞ্জ
- কাশিয়ানী
- ধর্ষণ মামলা