চট্টগ্রাম বন্দরে গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের নির্দেশনা নজিরবিহীন ও বেআইনি: সিইউজে
ফাইল ছবি
চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশ: ০৭ অক্টোবর ২০২৬ | ২১:২৩
চট্টগ্রাম বন্দরের নিরাপত্তা ও সংবেদনশীল স্থাপনা সুরক্ষার অজুহাতে অনুমতি ছাড়া ছবি, ভিডিও, স্কেচ ও অপারেশনাল তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের ওপর কঠোর নির্দেশনা জারির ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষুব্দ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন (সিইউজে)।
বুধবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এই উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন সিইউজে সভাপতি রিয়াজ হায়দার চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক সবুর শুভ। তারা অযৌক্তিক এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন।
এর আগে গত মঙ্গলবার চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের ভারপ্রাপ্ত সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বন্দরের নিরাপত্তা, যোগাযোগ ব্যবস্থা, জাহাজ ও কার্গো ব্যবস্থাপনা, সংরক্ষিত এলাকা, অপারেশনাল তথ্য, স্কেচ, অবকাঠামোর ছবি ও ভিডিও অনুমতি ছাড়া প্রকাশ বা প্রচার না করার নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সামাজিক মাধ্যম, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও গণমাধ্যমে এসব তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।
সিইউজে সভাপতি রিয়াজ হায়দার চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক সবুর শুভ বিবৃতিতে বলেন, বন্দরের নিরাপত্তা, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও সংবেদনশীল তথ্যের সুরক্ষা অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে। কিন্তু নিরাপত্তার প্রশ্নকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে গণমাধ্যমের স্বাধীন সংবাদ সংগ্রহ, অনুসন্ধান ও প্রকাশের অধিকারকে নিয়ন্ত্রণ করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
তারা বলেন, বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদে বাক্ ও ভাবপ্রকাশের স্বাধীনতার পাশাপাশি সংবাদক্ষেত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯-এর ৪ ধারায় নাগরিকের তথ্য লাভের অধিকার স্বীকৃত এবং ৬ ধারায় কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত ও কার্যক্রমের তথ্য জনগণের জন্য সহজলভ্য করার নীতি নির্ধারণ করা হয়েছে।
সিইউজে নেতারা বলেন, সাংবাদিকরা দেশের প্রচলিত আইন, পেশাগত নীতিমালা ও জনস্বার্থের বিষয় বিবেচনা করেই সংবাদ প্রকাশ করেন। কোন তথ্য প্রকাশ করা যাবে আর কোনটা যাবে না, এমন নির্দেশনা গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য চরম উদ্বেগজনক। বিশেষ করে বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে যখন জনমনে ব্যাপক আলোচনা, প্রশ্ন ও আন্দোলন চলছে, ঠিক সেই সময়ে এ ধরনের নির্দেশনা জনমনে স্বাভাবিকভাবেই নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। বন্দরঘনিষ্ঠ সিদ্ধান্ত, পরিচালনা, চুক্তি, ইজারা, বিনিয়োগ, নিরাপত্তা, শ্রমিকস্বার্থ ও জনস্বার্থের বিষয় নিয়ে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা কোনোভাবেই বন্ধ করা যাবে না।
- বিষয় :
- চট্টগ্রাম বন্দর