অগ্রণী ব্যাংক শ্রীনগর শাখা
গ্রাহকের কোটি কোটি টাকা লোপাট, ব্যবস্থাপকসহ ৫ কর্মকর্তা-কর্মচারী গ্রেপ্তার
অগ্রণী ব্যাংকের শ্রীনগর শাখার ব্যবস্থাপকসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ছবি: সমকাল
মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৭ অক্টোবর ২০২৬ | ২২:৩৭ | আপডেট: ০৭ অক্টোবর ২০২৬ | ২২:৫৩
মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলা অগ্রণী ব্যাংক শাখায় গ্রাহকের কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনায় বাংকটির ব্যবস্থাপকসহ ৫ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার বিকেলে ব্যাংকের ভেতর থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। তারা হলেন- অগ্রণী ব্যাংক শ্রীনগর শাখার ব্যবস্থাপক শরীফউদ্দিন (৩৯), সাবেক ক্যাশ অফিসার মো. জিন্নাহ হোসেন (৩৪), বেসরকারি সিকিউরিটি গার্ড রঞ্জু আহমেদ(৩০) ও বেসরকারি সিকিউরিটি গার্ড আব্দুল হাই (৪২) এবং ব্যাংকের দিঘিরপাড় শাখার ব্যবস্থাপক রেজাউল হক (৪২)। এ নিয়ে ব্যাংকের ৬ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ।
মুন্সীগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. কামরান হোসেন জানান, ব্যাংকের টাকা লোপাটের ঘটনায় দুদকের একটি টিম ব্যাংক শ্রীনগর শাখা অফিসে তদন্ত কার্যক্রম চালায়। তাদের তদন্ত শেষে এদিন বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ওই পাঁচ ব্যাংক কর্মকর্তা-কর্মচারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এর আগে, টাকা লোপাটের ঘটনায় গত ২৯ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে রাজধানীর মিরপুরের মধ্য পাইকপাড়া এলাকা থেকে ব্যাংকটির শ্রীনগর শাখার সিনিয়র সহকারী ম্যানেজার শরীফুজ্জামান সোহাগকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। তাদের সবাইকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে বলেও জানিয়েছেন এ পুলিশ কর্মকর্তা।
এদিকে, গ্রাহকদের আত্মসাৎ করা টাকার পরিমাণ নির্ধারণে অগ্রণী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় থেকে তিন সদস্যের একটি অডিট টিম গঠন করা হয়েছে। বর্তমানে ওই অডিট কার্যক্রম চলমান রয়েছে। গণমাধ্যমে আত্মসাতের অর্থের পরিমাণ নিয়ে বিভিন্ন তথ্য প্রকাশিত হলেও ব্যাংকের অডিট শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রকৃত অঙ্ক নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না। এছাড়া প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগটি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তপশিলভুক্ত অপরাধ হওয়ায় দুদকও বিষয়টি তদন্ত করছে। আত্মসাতের প্রকৃত অর্থের পরিমাণ, অর্থের অবস্থান এবং এ ঘটনায় অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না তা তদন্ত ও অডিটের মাধ্যমে তা বেরিয়ে আসবে বলে জানিয়েছে মুন্সীগঞ্জ জেলা পুলিশ।
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি অগ্রণী ব্যাংক শ্রীনগর বাজার শাখায় শতশত গ্রাহকের কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে লাপাত্তা হন সিনিয়র সহকারী ম্যানেজার শরীফুজ্জামান সোহাগ। তার আত্মগোপনের কারণে গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা দেখা দেয়। ঘটনাটি জানাজানি হলে গত ২২ সেপ্টেম্বর থেকে ব্যাংকটিতে ছুটে আসতে শুরু করেন গ্রাহকরা। টাকা ফিরে পেতে মানববন্ধন ও মিছিল চালিয়ে যেতে থাকেন ভুক্তভোগীরা।
- বিষয় :
- মুন্সীগঞ্জ