ঢাকা শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

ইনানীতে কনডেনসেটসমৃদ্ধ গ্যাসের সম্ভাবনা

ইনানীতে কনডেনসেটসমৃদ্ধ গ্যাসের সম্ভাবনা
×
×

 সমকাল প্রতিবেদক ও কক্সবাজার প্রতিনিধি

প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০২৬ | ০৭:৫৫

| প্রিন্ট সংস্করণ

উখিয়ার ইনানীতে গ্যাস নির্গমনের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে কনডেনসেটের উপস্থিতির আলামত পেয়েছে বাপেক্সের প্রতিনিধি দল। প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে গ্যাসটির বৈশিষ্ট্য নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। এতে সেখানে প্রাকৃতিক গ্যাসের স্তর থাকার সম্ভাবনা দেখছে সংস্থাটি। তবে এর ধরন, মজুত ও বাণিজ্যিক সম্ভাবনা নিশ্চিত হতে আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা প্রয়োজন বলে তারা জানিয়েছেন। তবে আগুনের তীব্রতার কারণে মূল নির্গমনস্থল থেকে গ্যাসের নমুনা সংগ্রহ করতে পারেনি প্রতিনিধি দল।
বাপেক্সের ভূতাত্ত্বিক জরিপ দলের প্রধান ও ব্যবস্থাপক এস এম নাফিকুন আরহাম জানান, ঘটনাস্থলে বের হওয়া গ্যাসের সঙ্গে উচ্চমাত্রার হাইড্রোকার্বনের উপস্থিতি বেশি। গ্যাসের সঙ্গে কনডেনসেট বের হচ্ছে। এতে সেখানে গ্যাসের স্তর থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। 

তিনি বলেন, প্রায় এক হাজার ফুট গভীরে উচ্চচাপের গ্যাস ভূস্তরের ফাটল বা দুর্বল অংশ দিয়ে বেরিয়ে এসে আগুনের সংস্পর্শে জ্বলে উঠতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। জোর করে গ্যাসের প্রবাহ বন্ধ করতে গেলে অন্য ফাটল দিয়ে গ্যাস বের হয়ে দুর্ঘটনা ঘটার ঝুঁকি রয়েছে। চাপ ও প্রবাহের মাত্রা বিশ্লেষণ না এই গ্যাস সম্পর্কে বলা সম্ভব নয়। নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।
বাপেক্সের সহকারী ব্যবস্থাপক ইমাম-উল ইসলাম রোকন জানান, তারা গ্যাস শনাক্তকরণ যন্ত্র দিয়ে ঘটনাস্থল পরীক্ষা করেছে। আশপাশের এলাকাও পরীক্ষা করা হয়েছে। তবে আগুনের তীব্রতার কারণে মূল নির্গমনস্থলে যন্ত্র দিয়ে পরীক্ষা ও নমুনা সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। 

বাংলাদেশে অগভীর স্তর থেকে আগেও গ্যাস পাওয়া গেছে। ভূগর্ভের অগভীর স্তরে জৈব পদার্থের ওপর অণুজীবের ক্রিয়ায় এ ধরনের গ্যাস তৈরি হতে পারে, যা বায়োজেনিক গ্যাস নামে পরিচিত। দেশের বিভিন্ন এলাকায় অগভীর নলকূপ খননের সময় এমন গ্যাসের সন্ধান মিলেছে। তবে ইনানীতে পাওয়া গ্যাসের ক্ষেত্রে বাপেক্সের প্রতিনিধি দলের সদস্যরা কনডেনসেটের উপস্থিতির কথা বলছেন।
সাধারণত গ্যাসক্ষেত্রে প্রাকৃতিক গ্যাসের সঙ্গে কনডেনসেটও পাওয়া যায়। এটি এক ধরনের তরল হাইড্রোকার্বন, যা ভূগর্ভে উচ্চচাপের কারণে গ্যাসের সঙ্গে মিশে থাকে। গ্যাস ভূপৃষ্ঠে উঠে আসার পর চাপ কমে গেলে কনডেনসেট তরল হিসেবে আলাদা হয়ে যায়।

অন্যদিকে ভূগর্ভের অনেক গভীরে দীর্ঘ সময় ধরে প্রচণ্ড তাপ ও চাপে জৈব পদার্থের রাসায়নিক পরিবর্তনের মাধ্যমে তৈরি হয় থার্মোজেনিক গ্যাস। সাধারণত গভীর গ্যাসক্ষেত্রে এ ধরনের গ্যাস পাওয়া যায়। এসব গ্যাসের সঙ্গে কনডেনসেট উঠে আসে। ইনানীতে গ্যাসের সঙ্গে কনডেনসেটের উপস্থিতির কথা বলছেন বাপেক্সের প্রতিনিধি দল। এ কারণে এটি অগভীর স্তরে সাধারণত পাওয়া বায়োজেনিক গ্যাস, নাকি গভীর গ্যাসক্ষেত্রের বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন থার্মোজেনিক গ্যাস—তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তবে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে বিশ্লেষণ না করা পর্যন্ত গ্যাসের প্রকৃতি নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয় বলে বাপেক্স কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

গতকাল সন্ধ্যায় পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশনস অ্যান্ড মাইনস) প্রকৌশলী মো. শোয়েবের নেতৃত্বে একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি জানান, আগুনের রং কালচে দেখাচ্ছে। এতে তেলজাতীয় পদার্থের উপস্থিতির সম্ভাবনা থাকতে পারে। তবে এটি গ্যাস কিনা, তা এখনই নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না। আগামী ১৫ দিন পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
গত মঙ্গলবার সকালে উখিয়ার জালিয়াপালং ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ছোট ইনানী এলাকায় এলজিইডির সড়কের পাশের একটি বাড়িতে গভীর নলকূপ খননের সময় প্রায় এক হাজার ফুট গভীরে পাইপ বসানোর পর্যায়ে গ্যাস বেরিয়ে আগুন ধরে যায়। শুক্রবার আগুনের তীব্রতা বাড়ার পাশাপাশি কাদামাটিও বের হতে দেখা যায়। বাপেক্সের প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থলের আশপাশ থেকে মাটি, বালু ও পানির নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠিয়েছে।
আগুনের কারণে নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি হওয়ায় গতকাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পান্না আক্তার ঘটনাস্থলের ২০০ মিটারের মধ্যে ১৪৪ ধারা 
জারি করেন। 

আরও পড়ুন

×