পাঁচ চা বাগানের ৩ হাজার ৪০০ শ্রমিককে ১৭ টন চাল বিতরণ
ছবি-সমকাল
মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৩ নভেম্বর ২০২৬ | ১৭:২৫
হবিগঞ্জের মাধবপুর ও চুনারুঘাট উপজেলার পাঁচটি চা বাগানের শ্রমিকদের মধ্যে গত ৯ দিন ধরে রেশন বিতরণ বন্ধ রয়েছে। কর্মবিরতি, বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা না পাওয়ায় কয়েক হাজার শ্রমিক ও তাদের পরিবার খাদ্যসংকটে পড়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে ব্যক্তিগত উদ্যোগে শ্রমিকদের পাশে দাঁড়িয়েছেন হবিগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়সলের ছেলে ও সায়হাম নিট কম্পোজিটের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ শাফকাত আহমেদ।
মঙ্গলবার পাঁচটি চা বাগানের ৩ হাজার ৪০০ শ্রমিক পরিবারের মধ্যে ১৭ টন চাল বিতরণ কার্যক্রম শুরু করেন তিনি। প্রত্যেক পরিবারকে দেওয়া হচ্ছে ৫ কেজি করে চাল।
সহায়তা পাওয়া বাগানগুলো হলো মাধবপুরের নোয়াপাড়া এবং চুনারুঘাটের লালচাঁদ, রঘুনন্দন, দেউন্দি ও গিলানী চা বাগান।
শ্রমিকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বাগানগুলোতে কর্মবিরতি চলছে। এতে তাদের আয়-রোজগার বন্ধ হয়ে গেছে। পাশাপাশি বকেয়া মজুরি, রেশন, প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা ও অন্যান্য পাওনা পরিশোধ না করায় পরিবারগুলোতে খাদ্যসংকট দেখা দিয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে গত রোববার বাগানগুলো চালু করা এবং বকেয়া মজুরি, রেশন ও প্রভিডেন্ট ফান্ডের অর্থসহ অন্যান্য পাওনা পরিশোধের দাবিতে শ্রমিকদের পক্ষ থেকে হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করা হয়। তবে এখন পর্যন্ত ওই আবেদনের দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি বলে জানিয়েছেন শ্রমিক নেতারা। মালিকপক্ষও দাবি পূরণে কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি বলে তাঁদের অভিযোগ।
চা শ্রমিক নেতা খেলু নায়েক বলেন, গত ৯ দিন ধরে বাগানগুলোতে কর্মবিরতি চলছে। মালিকপক্ষ বকেয়া রেশন, মজুরি ও প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা পরিশোধে এগিয়ে আসেনি। এমন খাদ্যসংকটের সময়ে সৈয়দ শাফকাত আহমেদ চাল নিয়ে শ্রমিকদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তার এ সহযোগিতা অসহায় পরিবারগুলোর জন্য বড় স্বস্তি হয়ে এসেছে।
দেউন্দি কোম্পানির উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) রিয়াজ উদ্দিন জানান, ব্যাংকঋণ পাওয়ার জন্য তারা চেষ্টা করছেন। ঋণ পেলে বাগানের চলমান সমস্যাগুলো সমাধান করা সম্ভব হবে। বিভিন্ন কারণে বর্তমানে তাদের তহবিল সংকট চলছে।
বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নৃপেন পাল বলেন, চা বাগানগুলোর অচলাবস্থা নিরসনে জেলা প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। মালিকপক্ষ ও শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা করে বকেয়া পাওনা পরিশোধ এবং বাগানগুলো চালুর উদ্যোগ না নিলে শ্রমিকদের খাদ্যসংকট আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।