ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬

সোনামসজিদ স্থলবন্দরে কর্মবিরতি প্রত্যাহার, শুরু পণ্য খালাস

সোনামসজিদ স্থলবন্দরে কর্মবিরতি প্রত্যাহার, শুরু পণ্য খালাস
×
×

ছবি- সমকাল

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৫ নভেম্বর ২০২৬ | ১৯:১৫

চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থলবন্দরে দফায় দফায় বৈঠকের পর সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ও তাদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ডাকা কর্মবিরতি স্থগিত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কাস্টমস কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে আন্দোলনকারীরা কর্মবিরতি প্রত্যাহার করে কাজে ফেরেন। এরপর বন্দরে পণ্য খালাস কার্যক্রম শুরু হয়।

সোনামসজিদ আমদানি-রপ্তানিকারক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক আরিফ উদ্দিন ইতি জানান, আগামী ১৫ দিন আগের নিয়মে পণ্য খালাস করা হবে। এ সময় সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের কর্মচারীদের হয়রানি বা অকারণে তাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করা হবে না—এমন শর্তে কর্মবিরতি প্রত্যাহার করা হয়েছে।

এর আগে গত ৩ নভেম্বর সকাল থেকে কর্মবিরতি শুরু করেন সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ও তাঁদের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তাদের অভিযোগ, কাস্টমস কর্তৃপক্ষ তুচ্ছ বিষয়ে এবং বিনা কারণে কর্মচারীদের হয়রানি করছে। কোনো ভুলত্রুটি না থাকলেও ইচ্ছেমতো কার্ড আটকে রাখা, ফাইল জমা দেওয়ার পর নানা জটিলতা তৈরি করা এবং আগে না জানিয়ে নতুন নিয়ম প্রয়োগের মাধ্যমে হয়রানি করা হচ্ছে। এ ছাড়া কাস্টমস কর্মকর্তাদের অশোভন আচরণ ও ক্ষমতার অপব্যবহার, তুচ্ছ অজুহাতে ব্যবসায়িক কার্যক্রমে জটিলতা সৃষ্টি এবং নিয়মবহির্ভূতভাবে পণ্যের চালানে অতিরিক্ত কর বা জরিমানা আদায়ের অভিযোগও তোলেন তারা।

আন্দোলনকারীদের আরও অভিযোগ, একজন আমদানিকারকের একাধিক ভারতীয় পণ্যবাহী ট্রাক থাকলে কোনো কারণ ছাড়াই পণ্য পরীক্ষার নামে সব ট্রাক পানামা পোর্টের ভেতরে এনে খালাসের নির্দেশ দেওয়া হয়। এতে তাদের বাড়তি খরচ গুনতে হয়।

বিভিন্ন সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে আমদানি-রপ্তানিকারক গ্রুপ, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশন ও শ্রমিক সমন্বয় প্রতিনিধিরা পর্যায়ক্রমে নিজেদের মধ্যে বৈঠক করেন। পরে তিন সংগঠনের প্রতিনিধিদল কাস্টমস কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসে।

সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন জানান, কাস্টমস কর্তৃপক্ষ তাদের সব দাবি মেনে নিয়েছে।

এ বিষয়ে সোনামসজিদ কাস্টমস কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার মাসুদ রানার সঙ্গে ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

তবে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম জানান, রাজশাহী থেকে অতিরিক্ত কমিশনার খাইরুল ইসলাম মিঞার নেতৃত্বে কাস্টমস ও বন্দরসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে বিকেলে প্রায় এক ঘণ্টা বৈঠক হয়েছে। আগামী ১৫ দিন আগের নিয়মে পণ্য খালাস হবে। এরপর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। 

এদিকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকেই ভারত থেকে আসা পণ্যবাহী ট্রাকের পণ্য খালাস শুরু করেছেন সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টরা। কর্মবিরতির কারণে গত তিন দিনে ৪৫০টি ভারতীয় ট্রাক, ২৮টি বাংলাদেশি ট্রাক বন্দরের ভেতরে এবং ১২টি ভারতীয় ট্রাক বন্দরের প্রধান ফটক থেকে প্রশাসনিক ভবন পর্যন্ত সড়কে আটকা পড়ে।

জায়গার সংকটের কারণে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা থেকে ভারতীয় পণ্যবাহী ট্রাক বাংলাদেশে প্রবেশ বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয় বন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান পানামা পোর্ট লিংক লিমিটেড।

প্রতিষ্ঠানটির অপারেশন ম্যানেজার কামাল হোসেন গত তিন দিনে ট্রাকজটের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, কর্মবিরতি প্রত্যাহারের পর বন্দরে পণ্য খালাস শুরু হয়েছে। বন্দরে জায়গা না থাকায় ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে ট্রাক প্রবেশ বন্ধ রাখার অনুরোধ করা হয়েছিল। কর্মবিরতি অব্যাহত থাকলে সাপ্তাহিক ছুটি ও পূজার ছুটির কারণে বন্দরে বড় ধরনের সংকট তৈরি হতে পারত।

তিনি আরও জানান, শুক্রবার ছুটির দিন হলেও বিশেষ ব্যবস্থায় পণ্য খালাস ও বাংলাদেশি ট্রাকে পণ্য লোড করা হবে। দ্রুত ট্রাকজট কমিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন

×