ছেলের ওপর হামলার ঘটনায় যুবক আটক, মেজর আখতারকে ফোনে হুমকি
শাহরিয়ার জামান রানা
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৫ নভেম্বর ২০২৬ | ১৯:২৪
কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসনের বিএনপি দলীয় সাবেক এমপি বর্তমান জামায়াত নেতা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের বড় ছেলে শাহরিয়ার জামান রানা (৫২) বুধবার রাতে ছুরিকাহত হয়েছেন। বুকে ছুরিকাঘাত করার পর স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বর্তমানে তিনি ঢাকার কল্যাণপুরে ইবনে সিনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। এখন তিনি আশঙ্কামুক্ত বলে জানিয়েছেন বাবা আখতারুজ্জামান।
এ ঘটনায় স্থানীয় জামায়াত নেতা মিজানুর রহমান বাদী হয়ে আজ বৃহস্পতিবার ভোর ৪টার দিকে কটিয়াদী থানায় একটি এজাহার দায়ের করেছেন। এতে ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আখতারুজ্জামান। তবে মামলাটি রেকর্ড করার ক্ষেত্রে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম গড়িমসি করছেন বলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। আখতারুজ্জামান বলেছেন, ‘যারা আক্রমণ করেছেন, তারা আমার সাথেও ছবি তুলতেন। এখন বিএনপির বর্তমান এমপিসহ অন্য নেতাদের সাথেও ছবি তোলেন। এরা আসলে বিএনপির প্রকৃত কোনো কর্মী নন। বিএনপির সভাপতি এবং এমপি সাহেবও এরা বিএনপির কেউ নয় বলে জানিয়েছেন। অথচ ওসি তাদেরকে বিএনপির লোক বানিয়ে মামলা নিতে অনীহা দেখাচ্ছেন।’
এদিকে ওসি রফিকুল ইসলাম ভোর ৪টার দিকে এজাহার দায়েরের বিষয়টি স্বীকার করে জানান, এখন উত্তেজনার মুহূর্তে এজাহারটি দেওয়া হয়েছে। ফলে কিছু অসংগতি আছে বলে মনে হয়। যে কারণে যাচাইবাছাই করে দেখা হচ্ছে। তবে এ ঘটনায় জড়িত লিমন (২৫) নামে এক যুবককে আটক করা হয়েছে বলে ওসি জানিয়েছেন।
এদিকে কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট জালাল উদ্দীন সমকালকে জানিয়েছেন, হামলাকারীরা বিএনপির কেউ নয়। বকুল মিয়া নামে এক ব্যক্তির ওষুধের দোকানে ছুরিকাঘাতের ঘটনাটি ঘটেছে। ঘটনার রাতেই তিনি বকুল মিয়ার সঙ্গে কথা বলেছেন। বকুল মিয়া জানিয়েছেন, কয়েক যুবক বিকেলে এক জায়গায় জড়ো হয়ে কথা বলছিলেন। তখন শাহরিয়ার জামান তাদেরকে এখানে কী করছে জিজ্ঞাসার এক পর্যায়ে এক যুবককে থাপ্পড় মাড়েন। এ ঘটনায় যুবকের পরিবার বাজার কমিটির কাছে নালিশও করেছে। এর জেরে যুবকটির চাচা আজিজুল হক রাতে ওষুধের দোকানে শাহরিয়ার জামানকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যান। এসময় তার সঙ্গে আরও ৩-৪ জন ছিল। এখন এটিকে রাজনৈতিক রং দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। জালাল উদ্দীন এমপির সঙ্গে কথা বলার সময় মেজর আখতারও হামলাকারীদের বিএনপির বলে দাবি করেননি বলে জানিয়েছেন এমপি।
উল্লেখ্য, বুধবার রাত ৮টার দিকে কটিয়াদী উপজেলার নিজ এলাকা গচিহাটা বাজারে বকুল মিয়ার ওষুধের দোকান চিত্রা ফার্মেসিতে বসে শাহরিয়ার জামান রানা গল্প করছিলেন। এমন সময় তাকে কতিপয় দুর্বৃত্ত আক্রমণ করে বুকের ডান দিকে ছুরিকাঘাত করে বলে অভিযোগ রয়েছে। রাতেই ফেসবুক লাইভে এসে মেজর আখতার অভিযোগ করেন, পার্শ্ববর্তী সহশ্রাম ধুলদিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বিএনপি ও যুবদলের নেতাকর্মীরা রানাকে ছুরিকাঘাত করেছেন। এরা মাদক ব্যবসায়ী, চাঁদাবাজ বলে লাইভে বলেছেন। তিনি আরও বলেছেন, বিএনপির পক্ষ থেকে জামায়াতের ওপর এখন রাজনৈতিক আক্রমণ শুরু করা হয়েছে।
ছুরিটা ভেতরে বেশি ঢুকেনি। তবে ধারালো ছুরির টানে লম্বালম্বিভাবে অন্তত ছয় ইঞ্চি লম্বা গভীর ক্ষত হয়েছে। আখতারুজ্জামান জানিয়েছেন, অল্পের জন্য রানার ফুসফুস ভেদ করেনি। এখন তিনি শঙ্কামুক্ত। তিনি আরও বলেন, ঘটনার পর থেকে তাকে হামলাকারীদের পক্ষ থেকে ফোনে নানারকম হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়টি তিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকেও জানিয়েছেন।
- বিষয় :
- কিশোরগঞ্জ