ঢাকা রোববার, ১৪ জুন ২০২৬

ত্রাণ নয়, গাবুরাবাসী চায় বাঁধ ও সুপেয় পানি

ত্রাণ নয়, গাবুরাবাসী চায় বাঁধ ও সুপেয় পানি
×

এম কামরুজ্জামান গাবুরা থেকে ফিরে

প্রকাশ: ১২ নভেম্বর ২০১৯ | ১৩:২৫

গাবুরা দ্বীপের মানুষ মাত্র চারটি জিনিস চায়, তবে ত্রাণ চায় না। চায় টেকসই বেড়িবাঁধ, নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র, সুপেয় পানি আর বিধ্বস্ত রাস্তাঘাট সংস্কার। খুলনা বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. আনোয়ার হোসেন হাওলাদার গতকাল মঙ্গলবার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা এলাকায় ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের আঘাতে ক্ষয়ক্ষতির চিত্র সরেজমিন পরিদর্শন করেন। স্থানীয়রা তখন এই চারটা দাবি জানান তার কাছে।


সুন্দরবন উপকূলবর্তী 'গাবুরা' অনিরাপদ একটি বদ্বীপ। প্রমত্ত খোলপেটুয়া নদী ও কপোতাক্ষ নদ বেষ্টিত এই বদ্বীপের ১৫টি গ্রামে ৪০ হাজার মানুষের বাস। ২০০৯ সালের ঘূর্ণিঝড় আইলার তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড হয় এটি। সেই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারেনি তারা আজও। গত শনিবার গভীর রাতে আবার লণ্ডভণ্ড করে ঘূর্ণিঝড় বুলবুল। সাড়ে ৭ হাজার পরিবারের বসবাস এখানে। এখানকার ১৫টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রের মধ্যে প্রায় অর্ধেকই জরাজীর্ণ। ১০ হাজারের বেশি মানুষ এখানে আশ্রয় নিতে পারে না। বাকি ৩০ হাজার সরিয়ে নিতে হয় অন্যত্র। বেড়িবাঁধের অবস্থা খুবই নাজুক। ঘূর্ণিঝড়ের সময় তো দূরের কথা, একটু ভরা জোয়ার উঠলেই আতঙ্কে ছেয়ে যায় এখানকার মানুষ।

বিভাগীয় কমিশনার ওই সময় বলেন, 'সীমাবদ্ধতা বলে আমাদের কিছু নেই। কোনো কিছুর অভাবও নেই। সরকারের পরিস্কার ঘোষণা, যেখানে যা প্রয়োজন, তা করতে হবে। টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণে সরকার ইতোমধ্যে পদক্ষেপ নিয়েছে। আগামী বছর থেকে স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু হবে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষের সব ধরনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও সরকার কাজ করে যাচ্ছে।'

বুলবুলের ছোবলে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরির ক্ষেত্রে সচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে স্থানীয় জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, 'ত্রাণ নিয়ে যেন কোনো ধরনের অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ না ওঠে।' সাংবাদিকদের বলেন, 'আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে যাতে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি হয়, সেজন্য স্থানীয় প্রশাসন ইতোমধ্যে কাজ শুরু করে দিয়েছে।'

নদীপথে গাবুরা, পদ্মপুকুর, বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ পরিদর্শন করেন খুলনার বিভাগীয় কমিশনার। শেষে বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের দাঁতিনাখালী এলাকার ১০০ ক্ষতিগ্রস্তের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন তিনি। তার সঙ্গে ছিলেন সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক এস. এম মোস্তফা কামাল, শ্যামনগর উপজেলা চেয়ারম্যান এস এম আতাউল হক দোলন, শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান, গাবুরা ইউপি চেয়ারম্যান মাসুদুল আলম, সাবেক চেয়ারম্যান স. ম লেলিন ও বুড়িগোয়ালিনী ইউপি চেয়ারম্যান ভবতোষ। সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে এক সমন্বয় সভায় যোগ দেন বিকেলে।

ক্ষতিগ্রস্ত মানুষগুলো বাড়িঘরে ফিরে আবারও ঘুরে দাঁড়ানোর জীবনযুদ্ধে নেমেছে এরই মধ্যে। গ্রামের ইদ্রিস আলী (৬০), ফারুক হোসেন (৫০), চাঁদনিমুখা গ্রামের লিয়াকত আলী গাজী (৬৫) জানান, জরুরিভিত্তিতে তাদের বাড়িঘর নির্মাণসামগ্রী প্রয়োজন। চিংড়ি ঘের, জমির ফসল সবই নষ্ট হয়ে গেছে তাদের। আশ্রয়হীন তারা এখন।

শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান জানান, অধিকাংশ এলাকায় বিদ্যুতের খুঁটি পড়ে গেছে। বিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হতে আরও ৩-৪ দিন লাগবে।

সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক এস এম মোস্তফা কামাল বলেন, 'ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের আঘাতে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা নির্ধারণের জন্য মঙ্গলবার সকাল থেকে জেলার ৭৮টি ইউনিয়নে কাজ শুরু হয়েছে। প্রতিটি ইউনিয়নে ট্যাগ অফিসার নিয়োগ করা হয়েছে। এক সপ্তাহের মধ্যে প্রকৃত চিত্র নিরূপণ করে সরকারের কাছে পাঠানো হবে। প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরির ক্ষেত্রে কোনো ধরনের কারচুপির অভিযোগ পেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।'

আরও পড়ুন

×