ঢাকা রোববার, ১৪ জুন ২০২৬

মারধরের পর টাকায় সমাধানের চেষ্টা

মারধরের পর টাকায় সমাধানের চেষ্টা
×

ফাহিমের শরীরে মারধরের চিহ্ন

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৮ নভেম্বর ২০১৯ | ০৭:১৬ | আপডেট: ১৮ নভেম্বর ২০১৯ | ০৭:২৭

মুখে ও পিঠে কালসিটে পড়ে আছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের মারধরের চিহ্ন এখনও ফুটে আছে ছোট্ট ফাহিমের শরীরে। ব্যথায় কাতর শিশুটিকে হাসপাতালে চিকিৎসাও নিতে হয়েছে।

তবে এই ঘটনার একদিন পরই ১০ হাজার টাকায় রফাদফা করা হয়েছে।

সোমবার ঘটনাটি ঘটেছে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলায়।

ফাহিম সদরের পূর্ব ধর্মপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩য় শ্রেণির শিক্ষার্থী।

এর আগে রোববার দুপুরে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অহিদুল হকের মারধরে অজ্ঞান থাকার পর সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়েছে ফাহিমকে। 

ফাহিম সদর উপজেলার হিরামন বাজার এলাকার ধর্মপুর গ্রামের মৃত মহিমের ছেলে।

ফাহিমের নানা মজিবুল্লাহ্ জানান, কী কারণে প্রধান শিক্ষক ফাহিমকে মেরেছে তা এখনও জানা যায়নি।

তিনি জানান, নাতির চিকিৎসার জন্য রোববার সদর হাসপাতালে নেওয়া হলেও সেখানে থেকে ফাহিমকে সামান্য চিকিৎসা দিয়েই বাড়িতে নিয়ে আসার নির্দেশ দেন প্রধান শিক্ষক অহিদুল। এরপর ওই শিক্ষক ওষুধ ও টাকা দিয়ে সমাধান করা হয়েছে বলে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটিসহ লোকজনকে জানান। 

তিনি জানান, এ ঘটনায় শিক্ষকের বিচার হওয়া দরকার ছিল। তা হতে দেওয়া হয়নি। 

স্থানীয়রা বলছে, ফাহিমকে হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসা না দিয়েই তড়িঘড়ি করে বাড়িতে এনে ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে সমাধান করেছেন অহিদুল হক। 

এর আগেও ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে রয়েছে নানা অনিয়মসহ মারধরের অনেক ঘটনার অভিযোগ।

তবে অভিযোগ অস্বিকার করে অহিদুল জানান, ফাহিমকে তার অন্যায়ের শাস্তি দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির লোকজন ও অন্যান্য শিক্ষকরা জানেন। আর শিক্ষকরা এরকম মারধরসহ একটু শাষণ করে। এ ঘটনায় সামান্য কিছু টাকায় সমাধান করা হয়েছে। 

সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মোল্লাহ্ জানান, শিক্ষার্থী মারধরের বিষয়টি অন্যায়। তবে এ বিষয়টি নিয়ে কেউ অভিযোগ করেনি। তারপরও তদন্ত হবে। তদন্তে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিভাগীয়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সুপারিশ করা হবে। 


আরও পড়ুন

×