সেই তুফান সরকারের জামিন বাতিল
তুফান সরকার- ফাইল ছবি
বগুড়া ব্যুরো
প্রকাশ: ০৭ মার্চ ২০২১ | ১০:২৪ | আপডেট: ০৭ মার্চ ২০২১ | ১০:৩৫
বগুড়ায় ভালো কলেজে ভর্তির কথা বলে কলেজ ছাত্রীকে ধর্ষণ মামলার প্রধান আলোচিত বহিস্কৃত শ্রমিক লীগ নেতা সেই তুফান সরকারকে দেওয়া জামিন বাতিল করেছেন আদালত। রোববার বগুড়ার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক একেএম ফজলুল হক জামিন বাতিলের ওই আদেশ দেন। এদিন আদালতে অনুপস্থিত থাকায় তুফান সরকারের সহযোগী আতিকুর রহমানেরও জামিন বাতিল করেন আদালত।
একই আদালত এর আগে চলতি বছরের ১৭ জানুয়ারি তুফান সরকারের জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন। এর আগে ধর্ষিত সেই কিশোরী এবং তার মাকে নির্যাতন এবং তাদের মাথা ন্যাড়া করে দেওয়ার পৃথক আরেক মামলায়ও তিনি জামিন পেয়েছেন। তবে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একটি মামলায় তিনি কারাগারে আটক রয়েছেন।
বগুড়ার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট নরেশ মুখার্জী জানান, কলেজ ছাত্রী ধর্ষণ মামলায় রোববার সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য ধার্য্য ছিল। এদিন সকল আসামির আদালতে হাজির থাকার কথা। কিন্তু দুদকের একটি মামলায় তুফান সরকার কারাগারে আটক রয়েছেন। তাকে আদালতে আনতে হলে নিয়ম অনুযায়ী আসামি পক্ষের প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট (পি/ডব্লিউ) চাওয়ার কথা। কিন্তু তুফান সরকারের আইনজীবী আব্দুল মান্নাফ সেটি না করে টাইম পিটিশন (সময়ের আবেদন) দিলে আদালত সেটি নাকচ করে জামিন বাতিল করেন। একই সঙ্গে অপর আসামি আতিকুর রহমান অনুপস্থিত থাকায় তারও জামিন বাতিল করে ওয়ারেন্ট ইস্যু করা হয়।
এক ছাত্রীকে ভাল কলেজে ভর্তি করে দেওয়ার কথা বলে ২০১৭ সালের ১৭ জুলাই কৌশলে বাসায় নিয়ে ধর্ষণ করেন শ্রমিক লীগ নেতা তুফান সরকার। তার দশদিনের মাথায় ওই কলেজ ছাত্রী ও তার মাকে নির্যাতনের পর মাথা ন্যাড়া করে দেওয়া হয়। ঘটনাটি সে সময় দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে।
ওই ঘটনায় নির্যাতিত ছাত্রীর মা বাদী হয়ে ২৯ জুলাই বগুড়া সদর থানায় তুফান সরকারসহ তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে দু’টি মামলা করেন। পুলিশ ঘটনার পরপরই মামলার প্রধান আসামি তুফান সরকারসহ কয়েকজন আসামিকে গ্রেপ্তারও করে। পরবর্তীতে তুফান সরকারকে শ্রমিক লীগ থেকে বহিস্কার করা হয়।
তদন্ত শেষে কলেজ ছাত্রীকে ধর্ষণ মামলায় তুফান সরকারসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশীট দেয় পুলিশ। আর মা ও মেয়েকে নির্যাতনসহ তাদেরকে ন্যাড়া করার ঘটনায় তুফান সরকারসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে পৃথক চার্জশীট দেওয়া হয়। মামলা দু’টির মধ্যে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন ধর্ষণের মামলায় চলতি বছরের ১৭ জানুয়ারি জামিন পান তুফান সরকার। আর বগুড়ার চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচারাধীন মা-মেয়েকে নির্যাতন ও মাথা ন্যাড়া করা সংক্রান্ত নির্যাতনের মামলায় তুফান সরকার আগেই জামিন পেয়েছেন।
