চট্টগ্রামে আর্ন্তজাতিক নারী নির্যাতন পক্ষ ও বেগম রোকেয়া দিবস উদযাপন
ছবি: সমকাল
চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশ: ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯ | ০৯:৪৭
দিনভর নানা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ‘নারী-পুরুষ সমতা, রুখতে পারে সহিংসতা’- স্লোগানে চট্টগ্রামে আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন পক্ষ ও বেগম রোকেয়া দিবস উদযাপন করা হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে আলোচনা সভা ও জেলা পর্যায়ে নির্বাচিত জয়িতাদের সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
সোমবার সকালে নগরের নাসিরাবাদ হাউজিং সোসাইটির মহিলা বিষয়ক উপ-পরিচালকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এসব অনুষ্ঠানের আয়োজন করে জেলা প্রশাসন ও মহিলা বিষয়ক উপ-পরিচালকের কার্যালয়। মহিলা বিষয়ক উপ-পরিচালক অঞ্জনা ভট্টাচার্যের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন দৈনিক পূর্বকোণের সিনিয়র সহ-সম্পাদক ডেইজি মওদুদ, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) সংরক্ষিত ওয়ার্ডের কাউন্সিলর জেসমিন পারভীন জেসি, কর্মজীবী মহিলা হোস্টেল সুপার রোকেয়া বেগম প্রমুখ। অনুষ্ঠানে জেলা পর্যায়ে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে নির্বাচিত জয়িতারা নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেন।
সম্মাননা প্রাপ্ত জয়িতারা হচ্ছেন- অর্থনৈতিকভাবে সাফল্য অর্জনকারী নারী চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার উত্তর গোবিন্দরখীল গ্রামের মো. শফিউল আলমের স্ত্রী মোছাম্মৎ ফারহানা ইয়াছমিন, শিক্ষা ও চাকুরী ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনকারী নারী সীতাকুন্ড মধ্যম ঘোড়ামারা গ্রামের মো. এজাহার মিয়ার মেয়ে ফারজানা আক্তার, সফল জননী নারী রাউজানের উত্তর গুজরা গ্রামের মো. সফিউল আলমের স্ত্রী মনোয়ারা বেগম, নির্যাতনের বিভীষিকা মুছে ফেলে নতুন উদ্যমে জীবন শুরু করা নারী চন্দনাইশের জাফরাবাদ গ্রামের মৃত ওমর আলীর মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌস এবং সমাজ উন্নয়নে অসামান্য অবদান রাখা বোয়ালখালীর পূর্ব গোমদন্ডীর মীর পাড়া গ্রামের মোহাম্মদ ইসমাঈল হোসেনের স্ত্রী মমতাজ বেগম।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বেগম রোকেয়া নারী সমাজের জন্য সূর্য। নারী জাগরণের পথিকৃৎ হয়ে তিনি বিশ্বে স্বাক্ষর রেখেছেন। সমাজের নারীরা বেগম রোকেয়ার চরিত্র ধারণ করে দেশের উন্নয়নের এগিয়ে আসলে একদিকে নিজেরা স্বাবলম্বী হবে অন্যদিকে দেশও স্বাবলম্বী হবে। সুখী সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ গড়ার বিনির্মাণে জীবন যুদ্ধ করে প্রত্যেক নারীকে এগিয়ে আসতে হবে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একজন সফল নারী। তিনি ক্ষমতায় আসার পর নারীদের স্বাবলম্বী করতে নানামুখী কর্মসূচি নিয়ে তা একের পর এক বাস্তবায়ন করে চলেছেন।
বক্তারা আরো বলেন, দেশের সকল কর্মকাণ্ডে নারীদের সম্পৃক্ত করতে সরকার যে পদক্ষেপ নিয়েছেন তা বাস্তবায়ন করতে হলে নারী-পুরুষ উভয়ের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। নারীরা স্বনির্ভর হয়ে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হতে পারলে নারী নির্যাতন ও সহিংসতা হ্রাস পাবে। সরকারের প্রত্যেক কাজে নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত হলে আগামী ২০২১ সালের আগে এ দেশ একটি মধ্যম আয়ের, ২০৩০ সালে এসডিজি অর্জন ও ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ একটি উন্নত রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি পাবে।
