ঢাকা শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

বাধা ডিঙ্গিয়ে স্বপ্ন পূরণের পথে লাপল কড়া

বাধা ডিঙ্গিয়ে স্বপ্ন পূরণের পথে লাপল কড়া
×

 দিনাজপুর প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯ | ০৯:০৯ | আপডেট: ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯ | ০৯:৫০

ইচ্ছে থাকলেও উপায় ছিল না। বাধা ডিঙ্গিয়ে শিক্ষা অর্জনে নিজেকে এগিয়ে নিচ্ছে প্রতিনিয়ত। হুমকি, ভয় আর নানা প্রতিকূলতার শিকল ছিঁড়ে বিরল উপজেলার ঝিনাইকুড়ি গ্রামের লাপল কড়া এগিয়ে যাচ্ছে। মাধ্যমিকের গণ্ডি পেরেয়ি সে এখন উচ্চমাধ্যমির গণ্ডি পেরুনোর অপেক্ষায়। দেশে বিলুপ্তপ্রায় ক্ষুদ্র নৃ-তাত্বিক গোষ্ঠীর কড়া সম্প্রদায়ের দ্বিতীয় সদস্য হিসেবে এবার এইচএসসি পরীক্ষা দিতে যাচ্ছে লাপল কড়া। তার এ স্বপ্ন পূরণের পথে সহযাত্রী হয়েছেন একদল মানুষ। যারা 'আসুন লাপল কড়ার লেখাপড়ার জন্য একটু হাত বাড়িয়ে দিই' নামের একটি ফেসবুক গ্রুপ খুলে লাপল কড়ার স্বপ্ন পূরণে এগিয়ে আসেন।

লাপল কড়াকে কলেজে যাওয়া-আসার জন্য একটি সাইকেল এবং বই-খাতাসহ শিক্ষার আনুসাঙ্গিক খরচ মেটাতে নগদ অর্থ প্রদান করেছে এ ফেসবুক গ্রুপ।

সোমবার বিজয় দিবসের দিনে দিনাজপুর প্রেসক্লাব চত্বরে তার হাতে সাইকেল ও নগদ অর্থ তুলে দেওয়া হয়। এ সময় জাতীয় আদিবাসী পরিষদের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক মানিক সরেন, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ভাবনার প্রধান নির্বাহী মুস্তাফিজুর রহমান রুপম, দিনাজপুর এম. আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. নুরুল ইসলাম, ড্রয়িং স্কুলের পরিচালক সাকিব রানা, দিনাজপুর বন্ধু সংসদের সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুরুল ইসলাম, দিনাজপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক গোলাম নবী দুলাল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। লাপল কড়াকে ৬ হাজার ৬০০ টাকা মূল্যের একটি বাইসাইকেল, এইচএসসি পরীক্ষার ফরম পূরন, কোচিং ফি, বইপত্র কেনার জন্য নগদ ১১ হাজার ৯০০ টাকা হস্তান্তর করা হয়। এ সময় তারা লাপল কড়াকে উদ্দেশ্য করে বলেন, '১৯৭১ সালে যেমন যুদ্ধ করে বিজয় ছিনিয়ে আনা হয়েছে তেমনিভাবে তোমাকে যুদ্ধ করে সাফল্য নিয়ে আসতে হবে। শিক্ষিত হয়ে কড়া সম্প্রদায়কে পথ দেখাতে হবে।'

এ সময় লাপল কড়া বলেন, 'এমন ভালোবাসা পাবো তা কখনই ভাবিনি। সবাই আমার জন্য যা করেছেন তা চিরদিন মনে রাখবো। আমি চাই শিক্ষিত মানুষ হয়ে কড়া সম্প্রদায়ের দুঃখ দূর করতে।'

লাপল কড়া দিনাজপুর বিরল উপজেলার ঝিনাইকুড়ি গ্রামের মৃত রতন কড়ার ছেলে। সে আদিবাসী কড়া সম্প্রদায়ের মধ্যে শেষ ৮০ জনের একজন এবং কড়াদের মধ্যে দ্বিতীয় শিক্ষার্থী যে এবার এইচএসসি পরীক্ষা দিতে যাচ্ছে। তার বড়ভাই শাপল কড়া প্রতিবন্ধী। ৯ম শ্রেণিতে পড়ালেখা করার সময় তার বাবা রতন কড়া মারা যান। বড় ভাই কাজ করতে না পারায় সে এবং তার মা দিনমজুরের কাজ করে সংসার পরিচালনা করে। লাপল কড়া ২০১৭ সালে বিরল হালজায় উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৩.৩৩ পেয়ে পাশ করে। এখন সে বোর্ডহাট ডিগ্রি কলেজের একাদশ শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী। তার ছোট বোন পূর্নিমা কড়া ৭ম শ্রেণিতে পড়ে।

বাংলাদেশের সমতল ভূমিতে বসবাসকারী ক্ষুদ্র নৃ-তাত্বিক আদিবাসী গোষ্ঠীর মধ্যে কড়া সম্প্রদায় প্রায় বিলুপ্তির পথে। কড়া সম্প্রদায় বসবাস করে দিনাজপুরের বিরল উপজেলার হালজায় গ্রামে। স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে এ এলাকায় দেড় শতাধিক কড়া সম্প্রদায়ের বসবাস থাকলেও বর্তমানে রয়েছে মাত্র ২২টি পরিবার। বাকী পরিবারগুলো হামলার মুখে ভারতে চলে গেছে। বাকী ২২টি পরিবারের ওপরও চলছে হামলা, মামলা ও জমি দখলের ঘটনা।

আরও পড়ুন

×