রাতারগুল থেকে ১৪ মাসে ৭০ লাখ টাকা রাজস্ব আদায়
ছবি: সমকাল
জাকির হোসেন, গোয়াইনঘাট (সিলেট)
প্রকাশ: ২১ জানুয়ারি ২০২২ | ০৭:৩৩ | আপডেট: ২১ জানুয়ারি ২০২২ | ০৭:৩৩
দেশের একমাত্র মিঠাপানির জলাবন সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার রাতারগুল। এই জলাবনের সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিদিনই দেশ-বিদেশের বিভিন্ন যায়গা থেকে হাজারও পর্যটক ভ্রমণে আসেন। রাতারগুলে ভ্রমণে আসা এসব পর্যটকদের কাছ থেকে গত চৌদ্দ মাসে ভ্রমণ ফি বাবদ সরকারের প্রায় ৭০ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে।
স্থানীয় বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, রাতারগুলে প্রবেশ, ভিডিও ধারণ ও নৌকা ভ্রমণের জন্য ফি নির্ধারণ করে ২০২০ সালের ২৯ অক্টোবর প্রজ্ঞাপন জারি করে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়। প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, রাতারগুলের বিশেষ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এলাকায় প্রবেশের ক্ষেত্রে প্রাপ্ত বয়স্কদের ৫০ টাকা, অপ্রাপ্ত বয়স্ক ও পরিচয়পত্রধারী শিক্ষার্থীদের ২৫ টাকা এবং বিদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রে জন প্রতি ৫০০ টাকা করে প্রবেশ ফি দিতে হবে। একই সঙ্গে ওই এলাকায় শুটিং করতে চাইলে প্রতিদিন একটি ক্যামেরার জন্য ‘ফিল্মিং ফি’ বাবদ দিতে হবে ১০ হাজার টাকা। দেশি পর্যটকদের প্রতিবার ইঞ্জিনবিহীন নৌকা ভ্রমণের ফি ১০০ টাকা এবং বিদেশিদের জন্য ১ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়। এ ছাড়া পর্যটকবাহী বাস বা ট্রাকের পার্কিং ফি ২০০ টাকা, পিকআপ, জিপ, কার ও মাইক্রোবাসের পার্কিং ফি ১০০ টাকা এবং অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলের পার্কিং ফি ধরা হয় ২৫ টাকা। এরপর থেকে জলাবনে প্রবেশদ্বারের ৩টি পয়েন্টে রাতারগুলঘাট, মটরঘাট ও চৌরঙ্গীঘাটে টোলঘর স্থাপন করে রাতারগুল ভ্রমণে আসা পর্যটকদের কাছ থেকে উল্লেখিত হারে ফি আদায় করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে সারী রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. সাদ উদ্দিন জানান, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার পর রাতারগুলে প্রবেশের ক্ষেত্রে পর্যটকদের কাছ থেকে টোল আদায়ের জন্য উপজেলা প্রশাসন, বন বিভাগ ও স্থানীয় জনসাধারণের সমন্বয়ে একটি ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন রয়েছে। যার অধীনে এবং বন বিভাগের তত্ত্বাবধানে রাতারগুল থেকে টোল আদায় কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। যেখান থেকে গত চৌদ্দ মাসে প্রবেশ ফি এবং নৌকা ভাড়া বাবদ প্রায় ৭০ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে। গেজেট অনুসারে রাতারগুল থেকে সরকারি রাজস্ব আদায়ের ৫০ শতাংশ অর্থ স্থানীয় বন নির্ভরশীল হতদারিদ্র জনগণের কল্যাণে ব্যয় করা হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।
গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. তাহমিলুর রহমান জানান, রাতারগুল ভ্রমণে পর্যটকদের কাছ থেকে প্রবেশ ফি নির্ধারণ করেছে সরকার। যার প্রেক্ষিতে ২০২০ সালের নভেম্বর মাস থেকে এখানে আগত পর্যটকদের কাছ থেকে সরকার নির্ধারিত হারে টোল আদায় করা হচ্ছে। অপরদিকে দেশী-বিদেশি পর্যটকদের ভ্রমণ সুবিধায় যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নয়ন, নিরাপত্তা ব্যবস্থাসহ গাড়ি পাকিং-স্থান নিমার্ণ করা হয়েছে। পর্যটকদের জন্য উন্নত ওয়াশরুম, যাত্রী ছাউনী ও বিশ্রামের জন্য গেষ্ট হাউজ নিমার্ণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও তিনি জানান।
সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার রাতারগুল, বাগবাড়ি ও পূর্ব মহিষখেড় এলাকার ৫০৪ দশমিক ৫০ একর ভূমি নিয়ে মিঠাপানির এই জলাবনের অবস্থান। প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে ওঠা এই বনে ৭৩ প্রজাতির উদ্ভিদ রয়েছে। যার মধ্যে বন বিভাগ কর্তৃপক্ষ বেত, কদম, হিজল, করচ ও মুর্তাসহ নানা জাতের জল সহিষ্ণু গাছ লাগিয়েছে। এছাড়াও এই বনে ২৫ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী, ২০ প্রজাতির সরীসৃপ ও ১৭৫ প্রজাতির পাখি এবং ৯ প্রজাতির উভচর প্রাণী রয়েছে।
