শোকে মাতম বাবার, মা অচেতন
ছেলের লাশ দাফনের পর বাবার আহাজারি -সমকাল
শৈলকুপা (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৬ জানুয়ারি ২০২০ | ০৭:১৮ | আপডেট: ১৬ জানুয়ারি ২০২০ | ০৮:৪৩
‘‘আমার বাবা কয়েক নাম্বারের জন্য ক্লাসে ফাস্ট হতে পারেনি। সে বলেছিল ‘আব্বু তুমি দেখে নিও সামনের বার আমি ফাস্ট হব।’ স্বপ্ন ছিল আমার রাফিন বড় হয়ে অনেক নামকরা হবে। ও আমাকে দাফন করে এলাকার সমস্ত মানুষকে ডেকে এনে মিলাদ মাহফিল করবে, আর উল্টো হয়ে গেল। খেলার দিন সকালে ডিম দিয়ে পেট ভরে ভাত খাইয়ে দিয়েছি যাতে ওর কোন সমস্যা না হয়। যাওয়ার সময় বললাম তুমি খেলায় ফাস্ট হবা। আমার বাবা ঠিকই ফিরে এলো পুরস্কার হাতে না, কাফনের কাপড় হাতে।’’
বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় রাফিনের দাফনের পর এভাবেই ডুকরে ডুকরে কেঁদে শোকে মাতম করছেন বাবা ফকির মুসলি। আর মা অন্য পাশে অচেতন হয়ে পড়ে আছেন।
বাবা জানান, কোন প্রকার অসুস্থতা ছিল না রাফিনের। মনে হয় না কোন দিন তারা রাফিনকে একটা প্যারাসিটামল ট্যাবলেট খাইয়েছেন। কিন্তু হঠাৎ সবাইকে কাঁদিয়ে চলে গেল সে।
বুধবার বিকেলে হৃদয় বিদারক এই ঘটনাটি ঘটেছে ঝিনাইদহের শৈলকুপার উমেদপুর স্কুল মাঠে। বিকালে শীতকালীন আন্ত:স্কুল প্রাথমিক বিদ্যালয় ক্রিড়া প্রতিযোগিতা চলাকালীন দৌড় প্রতিযোগিতা শেষে জ্ঞান হারিয়ে পড়ে যায় রাফিন। সঙ্গে সঙ্গে রাফিনকে শৈলকুপা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। রাফিন উপজেলার সষ্ঠিবর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণির ছাত্র ও পারবতীপুর গ্রামের ফকির মুসল্লির একমাত্র ছেলে।

বৃহস্পতিবার মিরাজ হোসেন রাফিনের দাফন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ইসরাইল হোসেন ও সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তারা। তারা জানান, রাফিনের স্মৃতি ধরে রাখেতে তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সষ্ঠিবর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তার নামে একটি তোরণ নির্মান করা হবে এবং স্কুলের একটি শ্রেণি কক্ষ রাফিনের নামে নামকরণ করা হবে।
তারা বলেন, রাফিন দৌড় প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকার করার পর মৃত্যুর কোলে ঢোলে পড়ে। এর থেকে বড় হৃদয় বিদারক আর কি হতে পারে বাবা-মার কাছে। সে কথা চিন্তা করেই তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার সষ্ঠিবর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায় শোকে কাতর রাফিনের কোন সহপাঠিই আসেনি স্কুলে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক উজ্জল হোসেন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, তারা সবাই এসছেন রাফিনকে শেষ বিদায় জানাতে।
রাফিনের চাচি ফাহিমা খাতুন বলেন, রাফিন খুবই মেধাবী ছিল। ক্লাসে তার রোল ছিল দুই।
- বিষয় :
- ঝিনাইদহ
- রাফিনের মৃত্যু
