ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬

সামিটের এলএনজি টার্মিনাল বন্ধ, গ্যাস সরবরাহ কমল ৪৩ কোটি ঘনফুট

গ্যাসের স্বল্প চাপে বাড়ল ভোগান্তি

সামিটের এলএনজি টার্মিনাল বন্ধ, গ্যাস সরবরাহ কমল ৪৩ কোটি ঘনফুট
×
×

এলএনজি বহনকারী কার্গো। ছবি-সংগৃহীত

হাসনাইন ইমতিয়াজ

প্রকাশ: ০৪ নভেম্বর ২০২৬ | ১৬:০০

দেশে গ্যাসের চাহিদার তুলনায় সরবরাহ এমনিতেই কম। এর মধ্যে কক্সবাজারের মহেশখালীতে সামিটের ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বন্ধ করায় গ্যাস সরবরাহ আরও কমেছে। বুধবার সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টার মধ্যে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ কমেছে ৪৩ কোটি ঘনফুট। এতে সারা দেশে গ্যাসের স্বল্প চাপ দেখা দিয়েছে। ভোগান্তিতে পড়েছেন শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র, সিএনজি স্টেশন ও আবাসিক গ্রাহকেরা।

পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, বুধবার সকাল ৮টায় জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ ছিল ২৫৪ কোটি ঘনফুট। এর মধ্যে দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে সরবরাহ করা হয় ১৫৬ কোটি ৬০ লাখ ঘনফুট এবং আমদানি করা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) থেকে ৯৭ কোটি ৪০ লাখ ঘনফুট। দুপুর ২টায় মোট সরবরাহ কমে দাঁড়ায় ২১১ কোটি ঘনফুটে। এ সময় দেশীয় গ্যাসের সরবরাহ প্রায় অপরিবর্তিত থাকলেও এলএনজি সরবরাহ কমে ৫৪ কোটি ঘনফুটে নেমে আসে।

পেট্রোবাংলা গত রোববার জানিয়েছিল, সামিটের এলএনজি টার্মিনালে জরুরি রক্ষণাবেক্ষণকাজের জন্য বুধবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার বিকেল ৪টা পর্যন্ত এটি বন্ধ থাকবে।

আমদানি করা এলএনজিকে পুনরায় গ্যাসীয় অবস্থায় রূপান্তর করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের প্রক্রিয়াকে রিগ্যাসিফিকেশন বলা হয়। দেশে এ কাজের জন্য দুটি ভাসমান টার্মিনাল রয়েছে। এর মধ্যে মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট পরিচালিত টার্মিনালের দৈনিক রিগ্যাসিফিকেশন ক্ষমতা ৬০ কোটি ঘনফুট। সামিট গ্রুপের টার্মিনালের ক্ষমতা ৫০ কোটি ঘনফুট।

সরকারি হিসাবে দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট। তবে খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, প্রকৃত চাহিদা ৫০০ থেকে ৫৫০ কোটি ঘনফুট। বিপরীতে স্বাভাবিক সময়ে সরবরাহ থাকে গড়ে ২৫০ থেকে ২৬০ কোটি ঘনফুট। এর মধ্যে প্রায় ১০০ কোটি ঘনফুট আসে আমদানি করা এলএনজি থেকে। দুটি টার্মিনালের যেকোনো একটিতে সমস্যা দেখা দিলেই জাতীয় গ্রিডে সরবরাহে বড় ঘাটতি তৈরি হয়।

শনিবার বিকেল পর্যন্ত সামিটের টার্মিনাল বন্ধ থাকবে। শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় এ দুই দিন গ্যাসের চাহিদা তুলনামূলক কম থাকতে পারে। তবে বিদ্যুৎকেন্দ্র ও শিল্পকারখানায় গ্যাস সরবরাহ কম থাকলে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আবাসিক গ্রাহকদের রান্নার কাজেও স্বল্প চাপের কারণে ভোগান্তি বাড়তে পারে।

এর আগেও এলএনজি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় বড় ধরনের গ্যাসসংকট তৈরি হয়েছিল। গত ২১ জুলাই মহেশখালীতে এক্সিলারেটের ভাসমান টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের পর জাতীয় গ্রিডে দৈনিক গ্যাস সরবরাহ প্রায় ৪৫ কোটি ঘনফুট কমে যায়। ২৪ জুলাই সরবরাহ নেমে আসে ২১৭ কোটি ঘনফুটে। এতে আবাসিক গ্রাহকদের রান্নার গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ার পাশাপাশি শিল্পকারখানা ও বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হয়। পরে সামিটের টার্মিনাল থেকেও সরবরাহ বন্ধ হলে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক গ্যাস সরবরাহ প্রায় ১৯০ কোটি ঘনফুটে নেমে এসেছিল।

বারবার এ ধরনের ঘটনা দেশের আমদানিনির্ভর গ্যাস সরবরাহব্যবস্থার ঝুঁকি সামনে আনছে। দুটি টার্মিনালের যেকোনো একটিতে কারিগরি সমস্যা দেখা দিলে কিংবা এলএনজি কার্গো পৌঁছাতে দেরি হলে সরবরাহে বড় সংকট তৈরি হচ্ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন বাড়াতে অনুসন্ধান ও উত্তোলনে জোর দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন জ্বালানি খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও বিশেষজ্ঞরা।

সরকারি হিসাবে দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট। তবে বাস্তবে চাহিদা ৫০০ থেকে ৫৫০ কোটি ঘনফুট বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। বিপরীতে স্বাভাবিক সময়ে সরবরাহ থাকে গড়ে ২৫০ থেকে ২৬০ কোটি ঘনফুট। এর মধ্যে প্রায় ১০০ কোটি ঘনফুট আসে আমদানি করা এলএনজি থেকে। দুটি টার্মিনালের যেকোনো একটিতে সমস্যা দেখা দিলেই জাতীয় গ্রিডে সরবরাহে বড় ঘাটতি তৈরি হয়।

শনিবার বিকেল পর্যন্ত রক্ষণাবেক্ষণকাজ চলবে। শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় এ দুই দিন গ্যাসের চাহিদা তুলনামূলক কম থাকতে পারে। বিদ্যুৎকেন্দ্র ও শিল্পকারখানায় সরবরাহ কম থাকলে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আবাসিক গ্রাহকদের রান্নার কাজেও স্বল্প চাপের কারণে ভোগান্তি বাড়বে ।

এর আগেও এলএনজি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় বড় ধরনের গ্যাস সংকটে পড়েছিল দেশ। গত ২১ জুলাই মহেশখালীতে এক্সিলারেটের ভাসমান টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের পর জাতীয় গ্রিডে দৈনিক গ্যাস সরবরাহ প্রায় ৪৫ কোটি ঘনফুট কমে যায়। ২৪ জুলাই সরবরাহ নেমে আসে ২১৭ কোটি ঘনফুটে। এতে আবাসিক গ্রাহকদের রান্নার গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ার পাশাপাশি শিল্পকারখানা ও বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হয়। পরে সামিটের টার্মিনালেও সরবরাহ বন্ধ হলে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক গ্যাস সরবরাহ প্রায় ১৯০ কোটি ঘনফুটে নেমে এসেছিল।

বারবার এ ধরনের ঘটনা দেশের আমদানিনির্ভর গ্যাস সরবরাহব্যবস্থার ঝুঁকি সামনে আনছে। দুটি টার্মিনালের যেকোনো একটিতে কারিগরি সমস্যা কিংবা এলএনজি কার্গি পৌঁছাতে দেরি হলেই সরবরাহে বড় সংকট তৈরি হচ্ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন বাড়াতে অনুসন্ধান ও উত্তোলনে জোর দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন জ্বালানি খাতসংশ্লিষ্ট ও বিশেষজ্ঞরা।

আরও পড়ুন

×