ঢাকা বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬

শুভ সূচনা

মুক্তির মহানায়ক লাল সালাম

মুক্তির মহানায়ক লাল সালাম
×

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৭ মার্চ ২০২০ | ১৩:৫১

'আমার জন্মদিনই কী আর মৃত্যুদিনই কী? আমার জনগণের জন্য আমার জীবন ও মৃত্যু। আমি তো আমার জীবন জনগণের জন্য উৎসর্গ করেছি।' নিজের জন্মদিন সম্পর্কে এ কথা বলতেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। সময়ের আবর্তে বর্ষপঞ্জির আকাশে গতকাল মঙ্গলবার ১৭ মার্চ দেখা দিয়েছিল সেই মানুষটির শততম জন্মবার্ষিকী, যিনি নিজে কখনও জন্মদিন উদযাপন করেননি। গতকাল এ দেশের মানুষ ভালোবাসা ও শ্রদ্ধাভরে পালন করেছে মুক্তির এই মহানায়কের জন্মশতবার্ষিকী, জানিয়েছে লাল সালাম- কেননা বঙ্গবন্ধু মানেই বাংলাদেশ।
বাঙালি জাতিকে যিনি দিয়েছেন একটি স্বাধীন রাষ্ট্র ও সংবিধান, দেশের মানুষ যাকে ভালোবেসে ডাকে 'বঙ্গবন্ধু' বলে, স্বীকৃতি দিয়েছে জাতির পিতা হিসেবে- সেই অবিসংবাদিত নেতার শততম জন্মবার্ষিকীকে বাংলার মানুষ চেয়েছিল সাড়ম্বরে 'মুজিববর্ষ' হিসেবে উদযাপন করতে। সে অনুযায়ী সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে ব্যাপক আকারে মুজিববর্ষ পালনের পরিকল্পনা এবং কার্যক্রম শুরুও হয়েছিল। কিন্তু মুজিববর্ষের ক্ষণগণনা পর্বেই বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঘটার পরিপ্রেক্ষিতে পাল্টে যায় সামগ্রিক পরিস্থিতি। জনগণের স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় সংক্ষিপ্ত করা হয় মুজিববর্ষ উদযাপনের কর্মসূচি।
তবে কর্মসূচি সংক্ষিপ্ত করার এবং জনসমাগম এড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও গতকাল বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মবার্ষিকীতে বাঙালির আবেগ ও ভালোবাসার প্রকাশে কোনো ছন্দপতনই ঘটেনি। যে মহাপুরুষের পুরো জীবনই নিবেদিত ছিল জনগণের জন্য, পারিবারিক জীবনযাপন দূরে থাক- বরং পরিবারসহ নিজের জীবনকেও দেশের জন্য উৎসর্গ করে গেছেন যিনি- তার জন্মদিনে বাংলাদেশের মানুষ নিজেদের আবেগ ও ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছে নানাভাবে।
সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক কর্মসূচির বাইরেও তাই গতকাল অসংখ্য মানুষকে দেখা গেছে রাজধানীতে ৩২ নম্বর ধানমন্ডিমুখো হতে- বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতির সামনে দাঁড়িয়ে শ্রদ্ধা জানাতে। অনেকেরই গন্তব্য ছিল গোপালগঞ্জে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিসৌধ। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলা গড়ে তোলার দৃঢ় শপথ নিয়েছে গোটা জাতি।
বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন প্রতিবছর 'জাতীয় শিশু দিবস' হিসেবে উদযাপন করা হয়। এবার এ দিবসের প্রতিপাদ্য 'মুজিববর্ষে সোনার বাংলা, ছড়ায় নতুন স্বপ্নাবেশ; শিশুর হাসি আনবে বয়ে, আলোর পরিবেশ'। পরিকল্পনা ছিল, এবার এ দিবসে, শততম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে স্কুল-কলেজে বিভিন্ন কর্মসূচি উদযাপন করা হবে। বাবাকে নিয়ে শিশুদের উদ্দেশে লেখা বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার একটি চিঠি কোটি শিশু একসঙ্গে পাঠ করবে। কিন্তু কর্মসূচি সংক্ষেপ করে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের মাধ্যমে চিঠিটি শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়।
১৯২০ সালের ১৭ মার্চ রাত ৮টায় টুঙ্গিপাড়ায় জন্মেছিলেন বাঙালির আরাধ্য মহানায়ক জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। গতকাল জন্মশতবার্ষিকীর মূল আয়োজনের উপলক্ষ হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছিল এ ক্ষণকেই। ঘড়ির কাঁটায় ঠিক যখন রাত ৮টা, তখনই রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আতশবাজির মধ্য দিয়ে শুরু হয় মুজিববর্ষের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন। রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে ছড়িয়ে পড়ে প্রাণের উচ্ছ্বাস। রাত ১০টায় জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় পিক্সেল ম্যাপিং প্রদর্শনের মাধ্যমে মুজিববর্ষের এই উদ্বোধন অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়। রাত ৮টায় দেশের বিভিন্ন স্থানেও মানুষ মেতেছিল আতশবাজি উৎসবে।
তবে জনসমাগম এড়াতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের আতশবাজি উৎসব এবং জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় পিক্সেল ম্যাপিং প্রদর্শনের মাধ্যমে মুজিববর্ষের উদ্বোধনপর্বটি বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ দেশের সব টেলিভিশন চ্যানেল, অনলাইন ও সোশ্যাল মিডিয়ায় একযোগে সম্প্রচার করা হয়। আতশবাজির পরপর 'মুক্তির মহানায়ক' শিরোনামে দু'ঘণ্টার একটি অনুষ্ঠান বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে সম্প্রচারিত হয়।
ধারণকৃত এই অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণ প্রচার করা হয়। একই অনুষ্ঠানে অন্যান্য অনুষ্ঠানের পাশাপাশি বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে বিশ্বনেতা ও সংস্থাপ্রধানদের পাঠানো ভিডিওবার্তাও প্রচারিত হয়। ভিডিওবার্তা পাঠানো পাঁচ বিদেশি ব্যক্তিত্বের মধ্যে রয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, নেপালের রাষ্ট্রপতি বিদ্যা দেবী ভান্ডারি, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী লোটে শেরিং, জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এবং ওআইসির মহাসচিব ইউসেফ বিন আহমেদ আল-ওথাইমিন।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তার ভিডিওবার্তায় করোনাভাইরাসের কারণে মুজিব শতবর্ষের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারেননি জানিয়ে বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পৃথিবীর মহৎ ব্যক্তিদের একজন, যার পুরো জীবন আমাদের জন্য মহৎ প্রেরণা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের জনগণ বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তোলার জন্য দিনরাত পরিশ্রম করছেন।
ভিডিওবার্তায় নেপালের রাষ্ট্রপতি বিদ্যা দেবী ভান্ডারি বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তার দেশের স্বাধীনতা এবং জনগণ ও ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের মানুষ বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠার কাজ করছেন। নেপাল ও বাংলাদেশের আর্থসামাজিক ও সাংস্কৃতিক সুসম্পর্ক রয়েছে জানিয়ে এই সম্পর্ক উত্তরোত্তর বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন নেপালের রাষ্ট্রপতি।
মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবিস্মরণীয় নেতৃত্বকে স্মরণ করে মুজিববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী লোটে শেরিং বলেন, 'আজকে আপনাদের জাতির পিতার জন্মের ১০০ বছর পূর্তিতে আপনাদের শুভেচ্ছা জানাই। অনেক অনেক ধন্যবাদ।' এ সময় ভুটানের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভুটানের জনগণও বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন করেছে এবং এক হাজার 'ঘি প্রদীপ' জ্বালিয়ে তার আত্মার শান্তির জন্য প্রার্থনা করেছে। এর আগে বিকেলে লোটে শেরিং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফোন করে মুজিববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে তাকেসহ বাংলাদেশের জনগণকে শুভেচ্ছা জানান।
রঙিন সাজে বর্ণিল রাজধানীর আকাশ :জাতির পিতার জন্মলগ্নকে স্মরণ করতে রাত ৮টায় লাল-নীল আতশবাজিতে বর্ণিল সাজে সেজেছিল ঢাকার আকাশ। রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এই আতশবাজি আর ফানুস ওড়ানোর কর্মসূচি পালন করে 'জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি'। রাত ঠিক ৭টা ৫৯ মিনিটে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের স্বাধীনতা স্তম্ভের চারপাশ দিয়ে ভেসে আসে বাচিকশিল্পী আসাদুজ্জামান নূরের ভরাট কণ্ঠ। তিনি অভিবাদন জানান সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালিকে। কৃতজ্ঞতা জানান স্বাধীন স্বদেশ ভূমির জন্য। ঘড়ির কাঁটা ৮টাকে স্পর্শ করতেই স্বাধীনতা স্তম্ভের গ্লাস টাওয়ারের চারপাশ থেকে শুরু হয় আলোর রোশনাই। ছড়িয়ে পড়ে জনতার হর্ষধ্বনি।
ছয় মিনিট দশ সেকেন্ডের এ আতশবাজির সময় আবহে ভেসে বেড়িয়েছে 'শোন একটি মুজিবরের কণ্ঠ', 'পূর্ব দিগন্তে সূর্য উঠেছে' ও 'জয় বাংলা বাংলার জয়'- এই তিনটি গান।
আতশবাজির রোশনাই দেখতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ভিড় জমিয়েছিলেন সর্বস্তরের, সব পেশার হাজারও মানুষ।
ধারণকৃত অনুষ্ঠানে আরও যা ছিল :টিভিতে সম্প্রচারিত ধারণকৃত অনুষ্ঠান 'মুক্তির মহানায়ক' শীর্ষক অনুষ্ঠানটি শুরু হয় শত শিশুর কণ্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে। এরপর প্রচারিত হয় রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণ। বঙ্গবন্ধুর ওপর রচিত আরেকটি সংগীত পরিবেশিত হয় শত শিশুকণ্ঠে। পরে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী ও বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা। এরপর পরিবেশিত হয় কবি ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী রচিত উৎসব সংগীত। যাতে দেশের প্রথিতযশা শিল্পীদের সঙ্গে কণ্ঠ দিয়েছেন বঙ্গবন্ধুর আরেক কন্যা শেখ রেহানা। শেখ রেহানার লেখা কবিতা 'বাবা' আবৃত্তি করেন শেখ হাসিনা।
অনুষ্ঠানে শতশিল্পীর পরিবেশনায় যন্ত্রসংগীতে 'শোনো একটি মুজিবরের কণ্ঠ থেকে' এবং 'জয় বাংলা বাংলার জয়'সহ দেশাত্মবোধক গানের সুর তুলে ধরা হয়। পরে শিল্পকলা একাডেমির ব্যবস্থাপনায় 'হে জ্যোতির্ময় মহামানব' শীর্ষক ৪০ মিনিটের একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন নৃত্য পরিচালক আকরাম খানের পরিচালনায় ছিল থিয়েটারেটিক্যাল পারফরম্যান্সও।
অন্যান্য আয়োজন :রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দিনটি উদযাপনের অংশ হিসেবে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এদিন সকাল ১০টায় টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন এবং ফাতেহা পাঠ ও মোনাজাতে অংশ নেন। এ সময় তিন বাহিনীর সুসজ্জিত চৌকস একটি দল গার্ড অব অনার দেয়, বাজানো হয় বিউগল। জাতির পিতার ছোট মেয়ে শেখ রেহানা, প্রধানমন্ত্রীর মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ হোসেন এবং শেখ রেহানার ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববি উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে সকাল ৭টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পুষ্পস্তবক অর্পণের পর স্বাধীনতার এই মহান স্থপতির প্রতি সম্মান জানিয়ে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় সেনাবাহিনীর একটি সুসজ্জিত দল অভিবাদন জানায়। পরে দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে নিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি হিসেবে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে আরেকটি শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করেন শেখ হাসিনা।
শ্রদ্ধা নিবেদনকালে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন বঙ্গবন্ধুর ছোট মেয়ে শেখ রেহানা ও দৌহিত্রী সায়মা ওয়াজেদ হোসেন। উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু, অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, মোজাফফর হোসেন পল্টু, সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী, ড. আব্দুর রাজ্জাক, অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল-আলম হানিফ, ডা. দীপু মনি, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, ড. হাছান মাহমুদ, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, বি এম মোজাম্মেল হক, মির্জা আজম, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ূয়া, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহার প্রমুখ।
প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদনের পর জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী ও প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে পৃথকভাবে শ্রদ্ধা জানান। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন বাস্তবায়ন জাতীয় কমিটির সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম ও প্রধান সমন্বয়ক ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব ড. আহমদ কায়কাউসের নেতৃত্বে কর্মকর্তারাও শ্রদ্ধা জানান।
পরে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের বলেন, পঁচাত্তরের পর যারা জাতির পিতার নাম মুছে ফেলতে চেয়েছিল, রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় একদিন তাদের নামই মুছে যাবে।
প্রধানমন্ত্রীর বঙ্গবন্ধু ভবন ত্যাগের পর উন্মুক্ত করে দেওয়া হয় শ্রদ্ধা নিবেদনস্থল। একে একে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী-ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলো, ১৪ দল, ওয়ার্কার্স পার্টি, জাসদ, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ উত্তর ও দক্ষিণ, মহিলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, জাতীয় শ্রমিক লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, যুব মহিলা লীগ, কৃষক লীগ, ছাত্রলীগ, তাঁতী লীগ, মৎস্যজীবী লীগ, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ), বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ, মহিলা শ্রমিক লীগ, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্ট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, বঙ্গবন্ধু পরিষদ, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট, মুক্তিযোদ্ধা জনতা লীগ, বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগ, ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, কচি-কাঁচার মেলা, বাঙালি সাংস্কৃতিক জোট, বঙ্গবন্ধু শিশু-কিশোর মেলা, মুক্তিযোদ্ধা ফাউন্ডেশন, বঙ্গবন্ধু আইন পরিষদ, আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম সংসদসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মী এবং সর্বস্তরের মানুষ।
দিনটি ছিল সরকারি ছুটি। দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে বাংলাদেশ টেলিভিশন, বেতারসহ বিভিন্ন বেসরকারি টিভি চ্যানেলে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার এবং সংবাদপত্রগুলোতে বিশেষ ক্রোড়পত্র ও নিবন্ধ প্রকাশ করা হয়।
বাদ জোহর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদসহ দেশের সব মসজিদে দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়। সকালে রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে হিন্দু সম্প্রদায়; তেজগাঁও গির্জা ও মিরপুর ব্যাপ্টিস্ট চার্চে খ্রিষ্টান সম্প্রদায় এবং মেরুল বাড্ডার আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ বিহারে বৌদ্ধ সম্প্রদায় পৃথকভাবে প্রার্থনা অনুষ্ঠান করে। দেশের সব হাসপাতাল, কারাগার, শিশু পরিবার ও এতিমখানায় মিষ্টি ও উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হয়। স্থানীয় প্রশাসন থেকে সারাদেশে গৃহহীনদের মধ্যে গৃহ প্রদান করা হয়। বিদেশি দূতাবাস ও মিশনগুলোতেও নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন করা হয়।
আওয়ামী লীগের দিনব্যাপী আয়োজন :বঙ্গবন্ধুর জন্মক্ষণ রাত ৮টায় সারাদেশে একযোগে আতশবাজি প্রদর্শনী ও ফানুস উত্তোলন করেছে আওয়ামী লীগ। কেন্দ্রীয়ভাবে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু ভবনের সামনে, বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউর দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে, ধানমন্ডি রবীন্দ্রসরোবর, হাতিরঝিল, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, টিএসসি এবং জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় এই আতশবাজি প্রদর্শন ও ফানুস ওড়ানো হয়। দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ রাজধানীর প্রধান প্রধান সড়কে আলোকসজ্জাও করা হয় দলের পক্ষ থেকে। এর আগে দুপুরে দলের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণবিষয়ক উপকমিটির উদ্যোগে রাজধানীর আজিমপুর এতিমখানা প্রাঙ্গণে অসহায়, দুস্থ ও এতিমদের মধ্যে খাবার ও বস্ত্র এবং করোনাভাইরাস প্রতিরোধে ব্যবহার্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়।
এ সময় আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম বলেন, আওয়ামী লীগই একমাত্র দল, যে দলটি যে কোনো ধরনের দুর্যোগে মানুষের পাশে ছিল, আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।
দলের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য এ কে এম রহমত উল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন, ডা. রোকেয়া সুলতানা, সুজিত রায় নন্দী, হাজী মোহাম্মদ সেলিম এমপি প্রমুখ। এ ছাড়া দলের ঢাকা মহানগর উত্তর বনানী করাইল বস্তিতে এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এতিম ও দুস্থদের মধ্যে খাবার ও মিষ্টি বিতরণ করে।

আরও পড়ুন

×