ঢাকা শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬

করোনার থাবা

হজ নিয়ে অনিশ্চয়তায় নিবন্ধনে ধীরগতি

হজ নিয়ে অনিশ্চয়তায় নিবন্ধনে ধীরগতি
×

ফসিহ উদ্দীন মাহতাব

প্রকাশ: ২৯ মার্চ ২০২০ | ১৩:০৩

বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাস (কভিড-১৯) ছড়িয়ে পড়ায় চলতি বছর পবিত্র হজ পালন নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। এর পরও হজের সব প্রক্রিয়া চালু রেখেছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নিবন্ধন প্রক্রিয়া পুনরায় ৮ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এর পরও ধীরগতিতে চলছে নিবন্ধন।
এ বছর সরকারি-বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় এক লাখ ৩৭ হাজার ১৯৮ জন হজে যাবেন। এর মধ্যে সরকারি পর্যায়ে তিন হাজার ৩৬১ জন ও বেসরকারি পর্যায়ে ৩৮ হাজার ৮৩২ জন নিবন্ধন করেছেন। হজ এজেন্সিগুলো বলছে, কভিড-১৯-এর কারণে হজ হবে কিনা বা হজ না হলে জমা দেওয়া টাকা ফেরত পাওয়া যাবে কিনা এমন শঙ্কায় নিবন্ধন করছেন না হজযাত্রীরা।
তবে সরকারের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যেই নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে যে, হজ না হলে নিবন্ধনকারীদের টাকা ফেরত দেওয়া হবে। ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ বলেন, সৌদি আরব সতর্কতাজনিত কারণে ওমরাহ ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছে। হজ একটি সময় আবদ্ধ ইবাদত। নির্ধারিত দিনক্ষণেই জিলহজ মাসের ৯ তারিখে (৩০ জুলাই) মক্কায় পবিত্র হজ পালিত হবে। এ ক্ষেত্রে দিনক্ষণ বা সময়ের পরিবর্তন হয় না। তাই ঠিক সময়ে নিবন্ধন না করলে কেউ হজে যেতে পারবেন না। তবে হজ না হলে নিবন্ধনকারীরা জমা দেওয়া টাকা ফেরত পাবেন।
ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়েছে, করোনাভাইরাস বা অন্য কোনো কারণে আগ্রহী কোনো ব্যক্তি যদি চলতি বছর হজে যেতে না পারেন, তা হলে দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রত্যেকের টাকা ফেরত দেবে সরকার। নিবন্ধন করা হজযাত্রীরা চাইলে টাকা না তুলে আগামী বছর কিংবা তার পরের বছরেও হজে যেতে পারবেন।
প্রসঙ্গত, করোনাভাইরাসের কারণে এরই মধ্যে ওমরাহ হজ বন্ধ করেছে সৌদি আরব কর্তৃপক্ষ। মক্কার আলহারাইন, মদিনার নববি মসজিদসহ দেশটির বহু মসজিদে বন্ধ রাখা হয়েছে জুমার নামাজ আদায়।
ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে জানা গেছে, এ বছর পবিত্র হজ হতে পারে আগামী ৩০ জুলাই। আর এজন্য ২৩ জুন থেকে ফ্লাইট শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এবার বেসরকারি ব্যবস্থাপনার হজযাত্রী পাঠানোর জন্য ৭৮৮টি যোগ্য এজেন্সির তালিকা করেছে মন্ত্রণালয়।
গত ২৪ ফেব্রুয়ারি চলতি বছর মন্ত্রিসভায় হজ প্যাকেজ অনুমোদিত হয়। সরকারি ব্যবস্থাপনায় মোট তিনটি প্যাকেজ ঘোষিত হয়। সরকারি ব্যবস্থাপনায় এ বছরই প্রথম প্যাকেজ চালু করা হয়েছে। বেসরকারি হজ এজেন্সিগুলোর জন্যও একটি প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে। তবে বেসরকারি এজেন্সিগুলো সরকারি ব্যবস্থাপনার তিনটি প্যাকেজের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেও প্যাকেজ ঘোষণা করতে পারবে। ইতোমধ্যে বেসরকারি হজ এজেন্সিগুলোর সংগঠন হাবও দুটি প্যাকেজ ঘোষণা করেছে।
হজ এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (হাব) সভাপতি এম শাহাদাত হোসাইন তসলিম বলেন, করোনাভাইরাসের মধ্যেও হজযাত্রীরা নিবন্ধন করতে পারেন। এতে অসুবিধা হবে না। সরকারি ব্যবস্থাপনার মতো বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় এ পরিস্থিতির কারণে কোনো হজযাত্রীর যাতে এক পয়সার ঝুঁকিও না থাকে, সে বিষয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের মতো হাবও সক্রিয় এবং সতর্ক রয়েছে।


আরও পড়ুন

×