প্রবীণ ও শিশুদের জন্য গড়ে তুলুন উপভোগ্য পরিবেশ
×
সাহাদাত হোসেন পরশ
প্রকাশ: ২৯ মার্চ ২০২০ | ১৩:০৫
দীর্ঘদিনের জীবনযাপনের ধরন বদলে গেছে। শহরের বাসাবাড়িতে ঢোকার আগেই নিরাপত্তারক্ষী সবার আগে সাবান-পানি ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে হাত ধোয়ার জন্য হাজির হন। অতিথি হয়ে কেউ কারও বাসায় যান না। করোনার সংক্রমণ থেকে বাঁচতে কার্যত ঘরবন্দি মানুষ। বাইরের কোলাহল থমকে গেছে। জরুরি প্রয়োজনে রাস্তায় নামলে গাড়ির শব্দদূষণের কবলেও পড়তে হয় না। যানজটের তো প্রশ্নই আসে না। ঢাকায় অলিগলি থেকে মাঝেমধ্যে পাখির কিচিরমিচির শব্দ কানে আসে। এমন বাস্তবতায় দৈনন্দিন রুটিন পুরোপুরি বদলে গেছে সবার। করোনা পরিস্থিতির কারণে বাসাবাড়িতে বদলে যাওয়া পরিবেশে কেমন আছে প্রবীণ ও শিশুরা?
সাধারণত শিশুদের ঘরে বন্দি রাখা কঠিন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শিশু ও জ্যেষ্ঠ নাগরিকদের জন্য নতুন পরিবেশ আনন্দদায়ক করে গড়ে তুলতে বেশ কিছু পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এসব মেনে চললে ঘরে বন্দি জীবনও পরিবারের সবার জন্য অনেকটা উপভোগ্য হতে পারে। শিশুরা যাতে ঘরে থাকতে থাকতে অস্থির না হয়ে ওঠে এবং প্রবীণরা যাতে করোনা আতঙ্কে অতিমাত্রায় ভীতসন্ত্রস্ত না হন, সে জন্য বেশ কিছু বিষয় মাথায় রাখার কথা বলছেন তারা। করোনা
সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে সারাদেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, অফিস-আদালত, বিপণিবিতান, দোকানপাট বন্ধ রয়েছে। ২৬ মার্চ থেকে চলছে ১০ দিনের সরকারি ছুটি। বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রায় চার কোটি শিক্ষার্থী কার্যত ঘরবন্দি। এ অবস্থায় শিশুর মানসিক বিকাশ যাতে বাধাগ্রস্ত না হয়, সেদিকে নজর দিতেও বলছেন বিশেষজ্ঞরা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক সাদেকা হালিম সমকালকে বলেন, হোম কোয়ারেন্টাইনের মধ্যে কয়েকটি শ্রেণিগত দিক রয়েছে। সামাজিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতায় আমাদের দেশের সকলের সঠিকভাবে হোম কোয়ারেন্টাইনের নির্দেশনা পুরোপুরি মেনে চলা কঠিন। ছোট্ট একটি খুপরি বাসার মধ্যে সাত-আটজন লোকও বসবাস করেন। তাদের পক্ষে হোম কোয়ারেন্টাইনের সঠিক নিয়ম মানা কষ্টসাধ্য। তবে শিক্ষিত নাগরিকদের মধ্যেও অনেককে হোম কোয়ারেন্টাইনের নির্দেশনা অমান্য করতে দেখা যায়।
সাদেকা হালিম বলেন, আমাদের দেশে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা কম নয়। অনেকেই যৌথ পরিবারের নানা-নানি, দাদা-দাদির সঙ্গে বসবাস করেন। বয়স্কদের সঙ্গে নাতি-নাতনিরা গল্প করে কাটায়। যেহেতু করোনায় বয়স্কদের ঝুঁকি একটু বেশি, তাই পরিবারের অন্য সদস্যদের কথায় যাতে প্রবীণরা আতঙ্কিত না হন, এদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
সাদেকা হালিম আরও বলেন, যেহেতু জীবনধারণের নিয়মাবলি বদলে গেছে, তাই সময়টাকে নতুনভাবে সাজাতে হবে। বাসায় বসে এ সময় ভালো বই পড়া যায়। পরিবারের সবাই লুডু, ক্যারমসহ অন্য খেলায় ব্যস্ত থাকতে পারে। মোবাইলে বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুরোনো বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ করা যেতে পারে। কেউ বাসায় বসে পরিবারের সদস্যদের জন্য নতুন রেসিপি তৈরি করতে পারেন।
তিনি বলেন, ঘরে বসে সংবেদনশীল আচরণের কথা ভাবতে হবে। যারা আর্থিকভাবে অসচ্ছল, তাদের সহায়তার ওপর নজর দেওয়া জরুরি। নিরাপত্তারক্ষী, গৃহকর্মী ও আশপাশে যারা রয়েছেন, তাদের খোঁজ নিতে হবে। যে কোনো পরিস্থিতিতে লড়াই করার মানসিক দৃঢ়তা দেখানো জরুরি।
মনোরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মোহিত কামাল সমকালকে বলেন, হোম কোয়ারেন্টাইনকে পারিবারিক বন্ধন উন্নত করার একটি ইতিবাচক সুযোগ হিসেবে দেখা যেতে পারে। অনেক সময় আমরা পরিবারের সবাই একত্র হওয়ার সুযোগ পাই না। করোনা পরিস্থিতি সে সুযোগ করে দিয়েছে। তাই সময়টাকে আনন্দদায়ক করে তুলতে হবে। তবে করোনা নিয়ে কিছুটা ভয় থাকা ভালো। একটু ভয় না পেলে করোনা নামক বাঘ আমাদের খেয়ে ফেলতে পারে। কিন্তু করোনা নিয়ে বেশি আতঙ্কগ্রস্ত হওয়া যাবে না। অতি উদ্বেগের প্রকাশও ভালো নয়। মা-বাবার চোখে বেশি উৎকণ্ঠার ছাপ থাকলে তা শিশুর মধ্যে সংক্রমিত হয়। বহির্মুখী উদ্বেগজনক আচরণ শিশুকে ভীত করে তুলতে পারে। করোনার ব্যাপারে শিশুদের তাদের বয়স অনুযায়ী বোঝাতে হবে। তার কোনো কথা থাকলে সেটা মনোযোগ দিয়ে শোনাও দরকার। ঘরের পরিবেশকে শিশুর জন্য উপভোগ্য করে তোলা দরকার। তাকে নানা গল্প শোনানো যায়। পরিবারের সবাই সাধ্যমতো পুষ্টিকর খাবার খাবে। ব্যায়াম করে স্বাস্থ্য ফিট রাখাও জরুরি।
মোহিত কামাল বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা অন্য কোনো অসমর্থিত সূত্রে পাওয়া বিভ্রান্তিকর খবর দেখে বিচলিত হওয়া যাবে না। সঠিক তথ্য জানতে হবে। বয়স্করা করোনার ঝুঁকিতে বেশি- এটা বারবার তাদের শোনানোর দরকার নেই। করোনায় আক্রান্ত অধিকাংশই সেরে ওঠেন- এ ধরনের ইতিবাচক কথা বলতে হবে। তবে পরিবারের কোনো সদস্যের শারীরিক কোনো সমস্যা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া দরকার। মনের ভেতরে এই চেতনা জাগ্রত করতে হবে যে নিজে বাঁচব, পরিবারকে বাঁচাব, সমাজকে বাঁচাব ও দেশকে বাঁচাব। এ সময় কারও বেশি ভুল না ধরে নিজের কী করা উচিত, সেদিকে মনোযোগ রাখা প্রয়োজন।
গত কয়েক দিনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমাজের নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ ছবি পোস্ট দিয়েছেন। হোম কোয়ারেন্টাইনে তারা কী করছেন, সে চিত্র সেখানে ফুটে ওঠে। ক্রিকেটার মাশরাফি বিন মুর্তজা তার ফেসবুকে ছেলের সঙ্গে ক্যারম খেলার ছবি পোস্ট করেছেন।
মিরপুরে বসবাসরত একজন উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা গতকাল সমকালকে বলেন, কাজের কারণে অধিকাংশ সময় পরিবারকে সময় দিতে পারতেন না। এখন টানা ১০ দিনের ছুটি পাওয়ায় ছোট্ট ছেলেসহ পরিবারের সবাইকে সময় দিচ্ছেন।
মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা স্বর্ণা বেগম জানান, দুই ছোট ছেলেমেয়ে এর আগে এভাবে এত দিন ঘরে থাকেনি। ঘরে থাকতে হবে- এটা ভেবে আগেভাগেই তাদের জন্য নতুন কিছু খেলনা কিনেছেন। শিশুরা ঘুমিয়ে পড়ার পর ভালো সিনেমা দেখছেন, প্রিয় গান শুনছেন।
সাধারণত শিশুদের ঘরে বন্দি রাখা কঠিন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শিশু ও জ্যেষ্ঠ নাগরিকদের জন্য নতুন পরিবেশ আনন্দদায়ক করে গড়ে তুলতে বেশ কিছু পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এসব মেনে চললে ঘরে বন্দি জীবনও পরিবারের সবার জন্য অনেকটা উপভোগ্য হতে পারে। শিশুরা যাতে ঘরে থাকতে থাকতে অস্থির না হয়ে ওঠে এবং প্রবীণরা যাতে করোনা আতঙ্কে অতিমাত্রায় ভীতসন্ত্রস্ত না হন, সে জন্য বেশ কিছু বিষয় মাথায় রাখার কথা বলছেন তারা। করোনা
সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে সারাদেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, অফিস-আদালত, বিপণিবিতান, দোকানপাট বন্ধ রয়েছে। ২৬ মার্চ থেকে চলছে ১০ দিনের সরকারি ছুটি। বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রায় চার কোটি শিক্ষার্থী কার্যত ঘরবন্দি। এ অবস্থায় শিশুর মানসিক বিকাশ যাতে বাধাগ্রস্ত না হয়, সেদিকে নজর দিতেও বলছেন বিশেষজ্ঞরা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক সাদেকা হালিম সমকালকে বলেন, হোম কোয়ারেন্টাইনের মধ্যে কয়েকটি শ্রেণিগত দিক রয়েছে। সামাজিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতায় আমাদের দেশের সকলের সঠিকভাবে হোম কোয়ারেন্টাইনের নির্দেশনা পুরোপুরি মেনে চলা কঠিন। ছোট্ট একটি খুপরি বাসার মধ্যে সাত-আটজন লোকও বসবাস করেন। তাদের পক্ষে হোম কোয়ারেন্টাইনের সঠিক নিয়ম মানা কষ্টসাধ্য। তবে শিক্ষিত নাগরিকদের মধ্যেও অনেককে হোম কোয়ারেন্টাইনের নির্দেশনা অমান্য করতে দেখা যায়।
সাদেকা হালিম বলেন, আমাদের দেশে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা কম নয়। অনেকেই যৌথ পরিবারের নানা-নানি, দাদা-দাদির সঙ্গে বসবাস করেন। বয়স্কদের সঙ্গে নাতি-নাতনিরা গল্প করে কাটায়। যেহেতু করোনায় বয়স্কদের ঝুঁকি একটু বেশি, তাই পরিবারের অন্য সদস্যদের কথায় যাতে প্রবীণরা আতঙ্কিত না হন, এদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
সাদেকা হালিম আরও বলেন, যেহেতু জীবনধারণের নিয়মাবলি বদলে গেছে, তাই সময়টাকে নতুনভাবে সাজাতে হবে। বাসায় বসে এ সময় ভালো বই পড়া যায়। পরিবারের সবাই লুডু, ক্যারমসহ অন্য খেলায় ব্যস্ত থাকতে পারে। মোবাইলে বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুরোনো বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ করা যেতে পারে। কেউ বাসায় বসে পরিবারের সদস্যদের জন্য নতুন রেসিপি তৈরি করতে পারেন।
তিনি বলেন, ঘরে বসে সংবেদনশীল আচরণের কথা ভাবতে হবে। যারা আর্থিকভাবে অসচ্ছল, তাদের সহায়তার ওপর নজর দেওয়া জরুরি। নিরাপত্তারক্ষী, গৃহকর্মী ও আশপাশে যারা রয়েছেন, তাদের খোঁজ নিতে হবে। যে কোনো পরিস্থিতিতে লড়াই করার মানসিক দৃঢ়তা দেখানো জরুরি।
মনোরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মোহিত কামাল সমকালকে বলেন, হোম কোয়ারেন্টাইনকে পারিবারিক বন্ধন উন্নত করার একটি ইতিবাচক সুযোগ হিসেবে দেখা যেতে পারে। অনেক সময় আমরা পরিবারের সবাই একত্র হওয়ার সুযোগ পাই না। করোনা পরিস্থিতি সে সুযোগ করে দিয়েছে। তাই সময়টাকে আনন্দদায়ক করে তুলতে হবে। তবে করোনা নিয়ে কিছুটা ভয় থাকা ভালো। একটু ভয় না পেলে করোনা নামক বাঘ আমাদের খেয়ে ফেলতে পারে। কিন্তু করোনা নিয়ে বেশি আতঙ্কগ্রস্ত হওয়া যাবে না। অতি উদ্বেগের প্রকাশও ভালো নয়। মা-বাবার চোখে বেশি উৎকণ্ঠার ছাপ থাকলে তা শিশুর মধ্যে সংক্রমিত হয়। বহির্মুখী উদ্বেগজনক আচরণ শিশুকে ভীত করে তুলতে পারে। করোনার ব্যাপারে শিশুদের তাদের বয়স অনুযায়ী বোঝাতে হবে। তার কোনো কথা থাকলে সেটা মনোযোগ দিয়ে শোনাও দরকার। ঘরের পরিবেশকে শিশুর জন্য উপভোগ্য করে তোলা দরকার। তাকে নানা গল্প শোনানো যায়। পরিবারের সবাই সাধ্যমতো পুষ্টিকর খাবার খাবে। ব্যায়াম করে স্বাস্থ্য ফিট রাখাও জরুরি।
মোহিত কামাল বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা অন্য কোনো অসমর্থিত সূত্রে পাওয়া বিভ্রান্তিকর খবর দেখে বিচলিত হওয়া যাবে না। সঠিক তথ্য জানতে হবে। বয়স্করা করোনার ঝুঁকিতে বেশি- এটা বারবার তাদের শোনানোর দরকার নেই। করোনায় আক্রান্ত অধিকাংশই সেরে ওঠেন- এ ধরনের ইতিবাচক কথা বলতে হবে। তবে পরিবারের কোনো সদস্যের শারীরিক কোনো সমস্যা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া দরকার। মনের ভেতরে এই চেতনা জাগ্রত করতে হবে যে নিজে বাঁচব, পরিবারকে বাঁচাব, সমাজকে বাঁচাব ও দেশকে বাঁচাব। এ সময় কারও বেশি ভুল না ধরে নিজের কী করা উচিত, সেদিকে মনোযোগ রাখা প্রয়োজন।
গত কয়েক দিনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমাজের নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ ছবি পোস্ট দিয়েছেন। হোম কোয়ারেন্টাইনে তারা কী করছেন, সে চিত্র সেখানে ফুটে ওঠে। ক্রিকেটার মাশরাফি বিন মুর্তজা তার ফেসবুকে ছেলের সঙ্গে ক্যারম খেলার ছবি পোস্ট করেছেন।
মিরপুরে বসবাসরত একজন উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা গতকাল সমকালকে বলেন, কাজের কারণে অধিকাংশ সময় পরিবারকে সময় দিতে পারতেন না। এখন টানা ১০ দিনের ছুটি পাওয়ায় ছোট্ট ছেলেসহ পরিবারের সবাইকে সময় দিচ্ছেন।
মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা স্বর্ণা বেগম জানান, দুই ছোট ছেলেমেয়ে এর আগে এভাবে এত দিন ঘরে থাকেনি। ঘরে থাকতে হবে- এটা ভেবে আগেভাগেই তাদের জন্য নতুন কিছু খেলনা কিনেছেন। শিশুরা ঘুমিয়ে পড়ার পর ভালো সিনেমা দেখছেন, প্রিয় গান শুনছেন।
- বিষয় :
- করোনা
