ঢাকা শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬

গুজবের বিরুদ্ধে ভূমিকা রাখছে মূলধারার গণমাধ্যম

গুজবের বিরুদ্ধে ভূমিকা রাখছে মূলধারার গণমাধ্যম
×

সোমবার দুপুরে তথ্যমন্ত্রী রাজধানীর মিন্টু রোডে তার সরকারি বাসভবনে নোয়াব, এটকো, এডিটরস গিল্ড ও সম্পাদক পরিষদের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বৈঠক করেন। ছবি: পিআইডি

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ৩০ মার্চ ২০২০ | ০৩:৩৩ | আপডেট: ৩০ মার্চ ২০২০ | ১০:৫২

করোনাভাইরাস মোকাবিলায় সরকার ও গণমাধ্যম আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে বলে জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। তিনি বলেছেন, অতীতেও দুর্যোগের সময় নানা ধরনের গুজব রটানো হয়েছে। কিছু অনলাইন পোর্টাল থেকে মানুষকে আতঙ্কিত করার জন্য ভুয়া সংবাদ পরিবেশিত হচ্ছে। এই গুজব ও মিথ্যা সংবাদের বিরুদ্ধে মূলধারার গণমাধ্যমগুলো ভূমিকা রাখছে এবং রাখবে। করোনা সংকট মোকাবিলা ও এর কারণে গণমাধ্যমে নতুনভাবে সৃষ্ট সমস্যা সমাধানেও আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগ নিতে হবে।

তথ্যমন্ত্রী সোমবার রাজধানীর মিন্টো রোডে তার সরকারি বাসভবনে নিউজ পেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব), সম্পাদক পরিষদ ও অ্যাসোসিয়েশন অব টেলিভিশন ওনার্স (অ্যাটকো) নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে এসব কথা বলেন। 

তিনি আরও বলেন, বৈশ্বিক দুর্যোগের এ সময়ে বাংলাদেশও করোনাভাইরাস থেকে মুক্ত থাকেনি। আর এই দুর্যোগ মোকাবিলায় সঠিক তথ্য মানুষকে অবহিতকরণ ও সতর্ক করা, সঠিক চিত্র তুলে ধরার বেলায় গণমাধ্যমের ব্যাপক ভূমিকা রয়েছে। 

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন নোয়াব সভাপতি এ. কে. আজাদ, নির্বাহী সদস্য  ও প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান, সম্পাদক পরিষদের সভাপতি ও ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম, সাধারণ সম্পাদক ও বাংলাদেশ প্রতিদিন সম্পাদক নঈম নিজাম, নোয়াবের সদস্য তারিক সুজাত, অ্যাটকোর পরিচালক ইকবাল সোবহান চৌধুরী ও সহসভাপতি মোজাম্মেল হক বাবু এবং তথ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব জাহানারা পারভীন।

বৈঠকে করোনাভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। নোয়াব, সম্পাদক পরিষদ ও অ্যাটকো নেতারা বলেছেন, করোনাভাইরাস সৃষ্ট পরিস্থিতির কারণে সংবাদপত্র ও টেলিভিশনে সংকটকাল চলছে। সংবাদপত্রের পাঠক কমছে। বিজ্ঞাপনও কমছে। এজেন্ট ও হকাররা সংবাদপত্র বিতরণ করতে চাচ্ছেন না। অনেক পাঠকও সংবাদপত্র নিতে চাইছেন না। এ পরিস্থিতিতে হকার ও প্রেসকর্মীদের সহায়তা দেওয়ার প্রস্তাব করেন তারা। বৈঠকে সরকারের কাছে সংবাদপত্রের বকেয়া বিজ্ঞাপন বিল নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক দুর্যোগের এ সময়ে অবশ্যই সবাইকে এ দুর্যোগ মোকাবিলায় একযোগে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। এ জন্য গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর এক্ষেত্রে মূলধারার গণমাধ্যমের ওপরই সবচেয়ে বড় দায়িত্ব বর্তায়। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম কিংবা টক শোতে অনেকে অনেক কথা বলছেন। কিন্তু বাস্তবতা হলো- সরকার পর্যায়ক্রমে সঠিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বলেই এখনও বাংলাদেশের পরিস্থিতি অনেক দেশের তুলনায় ভালো।

এই সংকটের সময় ইতিবাচক ও সঠিক তথ্য তুলে ধরে সংবাদ প্রকাশের গুরুত্ব দিয়ে ড. হাছান মাহমুদ আরও বলেন, জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানোর বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। অতীতেও দুর্যোগের সময় নানা ধরনের গুজব রটানো হয়েছিল। কিছু অনলাইন পোর্টাল থেকে মানুষকে আতঙ্কিত করতে ভুয়া সংবাদও পরিবেশন করা হয়েছিল। তবে এ গুজব ও মিথ্যা সংবাদের বিরুদ্ধে মূলধারার গণমাধ্যমগুলো ভূমিকা রাখতে পারে এবং রাখছেও।

করোনাভাইরাস মোকাবিলায় সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরে তথ্যমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসক ও নার্সদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে চিকিৎসাবিষয়ক নির্দেশনা (ট্রিটমেন্ট প্রটোকল) তৈরি করে পুস্তিকা আকারে সারাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষা যাতে দক্ষভাবে করা যায়, সে জন্য ৬৪ জেলা ও ১০০টি উপজেলার মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। সব স্বাস্থ্যকর্মীর ছুটি বাতিল করা হয়েছে। চিকিৎসক ও নার্সরা ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন। এখন তাদের জন্য প্রণোদনার বিষয়টি সরকার বিবেচনা করছে। অর্থাৎ করোনাভাইরাস মোকাবিলায় সরকার ধাপে ধাপে সব কিছুই করছে। স্কুল বন্ধ করার আগে শিক্ষার্থীদের সচেতন করা হয়েছে। বর্তমানে টেলিভিশনের মাধ্যমে পাঠদান শুরু করা হয়েছে।

করোনা পরিস্থিতিতে গণমাধ্যমে সৃষ্ট সমস্যাকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, এ সময় সংবাদপত্র ও টেলিভিশন নানা সংকটের মুখোমুখি হয়েছে। বিশেষ করে সংবাদপত্রের প্রচার সংখ্যা কমে গেছে। কোনোটা অর্ধেকে নেমে এসেছে। কোনোটা আরও কমে গেছে। হকার ও সংবাদপত্রে যারা দৈনিক ভিত্তিতে কাজ করেন, তারা নানা সমস্যায় পড়েছেন। টেলিভিশনেও কিছু সমস্যা রয়েছে। এসব সমস্যা মোকাবিলায় সরকারের পক্ষে কী কী করা যায়, তাদের পাওনা বিলগুলো যাতে তাড়াতাড়ি দেওয়া যায়, সেগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

বৈঠক শেষে সম্পাদক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নঈম নিজাম সংকট উত্তরণে সরকারের সঙ্গে একযোগে কাজ করার বিষয়ে ঐকমত্যের কথা জানিয়ে বলেন, বিশ্বব্যাপী বিদ্যমান সংকটের সময়ও গণমাধ্যম ইতিবাচক ভূমিকা অব্যাহত রেখেছে এবং রাখবে। সংবাদপত্র শিল্পের স্বার্থে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে পত্রিকাগুলোর পাওনা বিল দ্রুত পরিশোধের অনুরোধ জানান তিনি।
অ্যাটকোর সহসভাপতি মোজাম্মেল হক বাবু বলেন, সাংবাদিকরা এ সময় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন। তিনি আগামী পাঁচ মাসের জন্য অ্যাটকোকে একটি থোক বরাদ্দ এবং পাওনা বিজ্ঞাপন বিল দ্রুত পরিশোধের অনুরোধ জানিয়েছেন। একই সঙ্গে গুজব প্রতিরোধে মূলধারার গণমাধ্যম দৃঢ় ভূমিকা রাখবে বলেও জানিয়েছেন মোজাম্মেল হক বাবু।

আরও পড়ুন

×