ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস উপলক্ষে সমাবেশ

আদিবাসীদের আত্মপরিচয়ের স্বীকৃতি দিতে হবে

আদিবাসীদের আত্মপরিচয়ের স্বীকৃতি দিতে হবে
×

আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস উপলক্ষে বুধবার রাঙামাটিতে শিল্পীদের নৃত্য পরিবেশনা - সমকাল

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৯ আগস্ট ২০২৩ | ১৮:০০

আদিবাসীদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা ও আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার অর্জনের লড়াইয়ে ভূমিকা রাখতে তরুণদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সভাপতি জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা (সন্তু লারমা)। আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস উপলক্ষে গতকাল বুধবার সমাবেশে তিনি এই আহ্বান জানান। এতে আদিবাসীদের আত্মপরিচয়ের স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানানো হয়।

রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আদিবাসী ফোরাম আয়োজিত সমাবেশে সন্তু লারমা বলেন, পাহাড় ও সমতলের আদিবাসীরা আজ অস্তিত্ব সংকটে। এবারের দিবসটি উপলক্ষে জাতিসংঘের প্রতিপাদ্যে তারুণ্যের শক্তিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে আদিবাসী তরুণরাই মূল শক্তি। শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে যুবসমাজকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে।

সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন। অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস। সভাপতিত্ব করেন জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা। স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং।

রাশেদ খান মেনন বলেন, আদিবাসী তরুণরা মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিল। সংবিধানে আজ তাদের অধিকার, পরিচয়ের স্বীকৃতি ভুলুণ্ঠিত। পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি বাস্তবায়ন নিয়ে এখনও গড়িমসি হচ্ছে। সমতলের আদিবাসীদের জন্য ভূমি কমিশন গঠনের কথা বলা হয়েছিল, কিন্তু সেটাও হয়নি।

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি শাহ আলম বলেন, সরকার পার্বত্য চুক্তি করে বাস্তবায়ন করছে না। সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও নিরাপত্তার কথা বলে বিভিন্ন বাহিনীকে সেখানে রাখা হচ্ছে। জাতীয় বাজেটে এ জন্য বহু বরাদ্দ রাখতে হয়। পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়ন হলে এসবের দরকার হতো না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সাদেকা হালিম বলেন, আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে, অথচ তাদের বলা হচ্ছে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী। আদিবাসী বেকার তরুণদের জন্য কোটা সুবিধা বহাল করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

অধ্যাপক মেসবাহ কামাল বলেন, পাহাড়ে শান্তি চুক্তি বাস্তবায়ন হয় নাই, চা বাগান, উপকূল, মধুপুরের আদিবাসীরা নানাভাবে বঞ্চিত হচ্ছে। এই বঞ্চনার বিরুদ্ধে ঔক্যবদ্ধভাবে দাঁড়াতে হবে।

অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস বলেন, সংবিধান, রাষ্ট্র পরিচালনার সব ক্ষেত্রে আদিবাসীদের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। তাদের আত্মপরিচয়ের স্বীকৃতি দিতে হবে।

আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির নেতা ফজলে হোসেন বাদশা, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলনের যুগ্ম সমন্বয়কারী জাকির হোসেন, এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা, বাংলাদেশ খ্রিষ্টান অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নির্মল রোজারিও, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের ছাত্র ও যুববিষয়ক সম্পাদক হরেন্দ্র নাথ সিং প্রমুখ। সমাবেশ শেষে গণসংগীত পরিবেশনসহ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়। পরে একটি র‍্যালি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি হয়ে আবার শহীদ মিনারে এসে শেষ হয়।

আরও পড়ুন

×