অনলাইন জুয়া: রাশিয়া থেকে তিন সাইট চালান শরীয়তপুরের মতিউর
জুয়া পরিচালনায় যুক্ত ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে সিআইডি
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৩ | ১৫:১৬ | আপডেট: ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৩ | ১৫:১৬
শরীয়তপুরের মতিউর রহমান রাশিয়ার মস্কোতে থাকেন। সেখান বসেই তিনি নিয়ন্ত্রণ করেন মেল বেট, ওয়ান এক্স বেট ও বেট উইনার নামের তিনটি অনলাইন জুয়ার সাইট। মূলত সাইটগুলোর বাংলাদেশ অংশ পরিচালনার দায়িত্ব তার, সহযোগী যশোরের আশিকুর রহমান। প্রতি মাসে তারা জুয়াড়িদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেন। পরে এ দেশে থাকা ম্যানেজার ও এজেন্টরা সেগুলো ভার্চুয়াল মুদ্রা ক্রিপ্টোকারেন্সিতে রূপান্তর করে মস্কো পাঠান।
জুয়া পরিচালনায় যুক্ত ছয়জনকে গ্রেপ্তারের পর শুক্রবার এসব তথ্য জানিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ– সিআইডি। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন– রেজাউল করিম, সৈকত রহমান, সাদিকুল ইসলাম, নাজমুল আহসান, তৌহিদ হোসেন ও জাকির হোসেন।
সিআইডির সাইবার ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড রিস্ক ম্যানেজমেন্টের একটি দল বৃহস্পতিবার রাজধানীর মোহাম্মদপুর, বনশ্রী, আগারগাঁও এবং সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে। এ সময় ১৭টি মোবাইল ফোন, ২১টি সিমকার্ড, চারটি ল্যাপটপ, সাতটি ডেস্কটপ কম্পিউটার, দুটি ট্যাব ও নগদ প্রায় ৪ লাখ টাকা জব্দ করা হয়।
সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের বিশেষ পুলিশ সুপার মুহাম্মদ রেজাউল মাসুদ সমকালকে জানান, সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের নিজের বাসায় জুয়া পরিচালনার আইটি ল্যাব চালু করেন গ্রেপ্তার রেজাউল করিম। কারিগরিভাবে দক্ষ কয়েকজনকে নিয়ে কার্যক্রম চালাতেন তিনি। রাশিয়া থেকে সাইটগুলো নিয়ন্ত্রণ করা হলেও বিভিন্ন দেশে স্থানীয়ভাবে পরিচালনায় ম্যানেজার নিয়োগ হয়। ম্যানেজাররা আবার অ্যাপ চালাতে দক্ষ বিশ্বস্ত লোককে এজেন্ট করেন। জুয়ার টাকা লেনদেনে রেজাউলের সঙ্গে যুক্ত হন সাদিকুল ও জাকিরের মতো মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (এমএফএস) এজেন্ট। গ্রেপ্তার নাজমুল ও তৌহিদ এমএফএস ডিস্ট্রিবিউশন প্রতিষ্ঠানের কর্মী। তাদের সহযোগিতায় চক্রটি এজেন্ট সিম সংগ্রহ করে নির্বিঘ্নে অনলাইন জুয়া পরিচালনা করে আসছিল।
চক্রটি ঢাকার বিভিন্ন এলাকা ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে জুয়ার এ কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়া প্রবাসী মতিউরের অন্যতম সহযোগী আশিকুর দেশেই আছেন। তারা দু’জন এবং গ্রেপ্তার সৈকত ও রেজাউল মিলে বাংলাদেশে জুয়ার তিন ওয়েবসাইট চালাতেন। প্রতি মাসে চক্রটি এমএফএস এবং বিভিন্ন ব্যাংকের মাধ্যমে কয়েক কোটি টাকা লেনদেন করে। কমিশন বাবদ এজেন্টরা একটি ক্ষুদ্র অংশ পান। আর জুয়াড়িদের কাছ থেকে হাতিয়ে নেওয়া পুরো টাকা অ্যাপ পরিচালনাকারীদের কাছে ক্রিপ্টোকারেন্সিতে বদলে বা হুন্ডির মাধ্যমে রাশিয়া পাঠিয়ে দেওয়া হয় বলে জানান সিআইডির এ কর্মকর্তা।
সিআইডি জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে শুক্রবার রাজধানীর পল্টন থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়েছে। অভিযানের সময় পালিয়ে যাওয়া দু’জনসহ চক্রের বাকিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
- বিষয় :
- অনলাইন জুয়া
- মেল বেট
- ওয়ান এক্স বেট
- বেট উইনার