ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

খাদ্যে বিষক্রিয়া লক্ষণ ও প্রতিকার

খাদ্যে বিষক্রিয়া লক্ষণ ও প্রতিকার
×

ডা. আবদুল্লাহ শাহরিয়ার

প্রকাশ: ১০ ডিসেম্বর ২০২৫ | ০৭:১৭

| প্রিন্ট সংস্করণ

ফুড পয়জনিং বা খাদ্যে বিষক্রিয়া একটি সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যা, যা যে কারোরই হতে পারে। সাধারণত পচা-বাসি, অস্বাস্থ্যকর বা জীবাণুযুক্ত খাবার খেলে এটি হয়। গরমের দিনে খাবার দ্রুত নষ্ট হয়ে যাওয়ার কারণে ফুড পয়জনিংয়ের ঘটনা বেড়ে যায়। অনেক সময় খাবার স্বাস্থ্যসম্মত হলেও যেসব পাত্রে পরিবেশন করা হয়, সেগুলোর পরিচ্ছন্নতার অভাবেও জীবাণু সংক্রমণ হতে পারে।

খাদ্যে বিষক্রিয়ার লক্ষণ
খাদ্যে বিষক্রিয়ার কারণ ভিন্ন হলেও লক্ষণ মোটামুটি একই রকম:
পেটে ব্যথা ও হজমে সমস্যা;
ডায়রিয়া বা পাতলা পায়খানা;
বমি ও বমি ভাব;
অনেক ক্ষেত্রে জ্বর হওয়া;
অনেক সময় রোগীরা সাধারণ ডায়রিয়া এবং ফুড পয়জনিংয়ের মধ্যে পার্থক্য বুঝতে পারেন না।

চিকিৎসা ও প্রাথমিক করণীয়
ওরাল স্যালাইন: ফুড পয়জনিং হলে পাতলা পায়খানা ও বমির কারণে শরীর থেকে জলীয় অংশ বেরিয়ে যায়। তাই খাবার স্যালাইন খেতে দেওয়া হয়।
ওষুধ: রোগীর অবস্থা অনুযায়ী জীবাণুনাশক বা অ্যান্টিবায়োটিক জাতীয় ওষুধ সেবনের প্রয়োজন হতে পারে। যেহেতু এটি জীবাণু দ্বারা সংক্রমিত হয়, তাই অ্যান্টিবায়োটিক কার্যকর ভূমিকা রাখে।

চিকিৎসকের পরামর্শ
সমস্যা গুরুতর আকার ধারণ করার আগেই অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

ঘরোয়া প্রতিকার
কিছু প্রাকৃতিক উপাদান ফুড পয়জনিংয়ের লক্ষণ কমাতে সাহায্য করে। যেমন–
আদা: কুচি আদার সঙ্গে কয়েক ফোঁটা মধু খেলে তা পেটের ব্যথা কমাতে সাহায্য করে।
জিরা: পেট খারাপ বা পেটে ব্যথার মতো সমস্যায় এক চা চামচ জিরা গুঁড়া খেলে সুফল পাওয়া যায়।
তুলসী: ইনফেকশন দূর করার জন্য তুলসী পাতা থেঁতো করে মধুর সঙ্গে মিশিয়ে খেলে উপকার মেলে।
কলা: এতে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম 
থাকে, যা ফুড পয়জনিংয়ের সময় শরীরকে সাহায্য করে।
আপেল: ডায়রিয়া সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়ার প্রভাব দূর করতে এবং পাকস্থলীর এসিড কমাতে সাহায্য করে।
লেবু: লেবুর রসের এসিডিটি ফুড পয়জনিং সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়ার প্রভাব নষ্ট করে। একটি পাতিলেবুর রসের সঙ্গে সামান্য চিনি মিশিয়ে খেলে উপকার পাওয়া যায়।
লেখক : বিভাগীয় প্রধান, শিশু কার্ডিওলজি বিভাগ।

আরও পড়ুন

×