ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রে লিমন ও বৃষ্টি হত্যা

লিমন ছিল লাজুক ও বিনয়ী, বৃষ্টি খুব ভালো গান করত

লিমন ছিল লাজুক ও বিনয়ী, বৃষ্টি খুব ভালো গান করত
×

সমকাল ডেস্ক

প্রকাশ: ৩০ এপ্রিল ২০২৬ | ০৭:৪২ | আপডেট: ৩০ এপ্রিল ২০২৬ | ১০:৫৬

| প্রিন্ট সংস্করণ

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার শিক্ষার্থী জামিল লিমন ও নাহিদা বৃষ্টিকে হত্যার ঘটনায় দোষীর শাস্তি নিশ্চিত হবে– এমনটাই প্রত্যাশা করেছেন বন্ধুরা। গত মঙ্গলবার স্থানীয় ফ্লোরিডার টেম্পা এলাকার একটি আদালতে শুনানিতে উপস্থিত হয়ে তারা এ প্রত্যাশার কথা জানান।

গতকাল বুধবার টেম্পা বে টোয়েন্টিএইট এ খবর জানায়। নিহত লিমন ও বৃষ্টির বন্ধু আবির আল হাসিব সৌরভ বলেন, ‘আমরা জানতে চাই আমাদের বন্ধুদের মামলাটির গতিপথ কী। আমরা বাংলাদেশিরা এখানে পরিবারের মতো বাস করি; একসঙ্গে খাবার খাই, একসঙ্গে ঘুরতে যাই, একসঙ্গে বাইরে যাই।’ তিনি জানান, লিমন ছিল লাজুক, বিনয়ী ও শান্ত স্বভাবের; বৃষ্টি খুব ভালো গান করত। 

বন্ধুরা জানান, লিমন ও বৃষ্টি– উভয়ই সেখানকার বাংলাদেশ স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন নামে একটি সংগঠনের সদস্য ছিলেন। এ সংগঠনের নানা অনুষ্ঠানে তারা একসঙ্গে যোগ দিতেন। আরেক বন্ধু রিফাতুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীরা যে জায়গাটিকে সবচেয়ে নিরাপদ বলে মনে করেন, সেখানেই তাদের এমন হত্যাকাণ্ড হলো– এটা খুবই বেদনাদায়ক ও অগ্রহণযোগ্য। দোষীর শাস্তি নিশ্চিত হবে, এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘আইনি প্রক্রিয়ার ওপর আস্থা আছে। আশা করছি, আমরা বিচার পাব।’ 

স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য সালমান সাদিক শুভ ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডা বা ইউএসএফের কাছে লিমন ও বৃষ্টির স্মরণে একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের দাবি জানান। তিনি বলেন, ‘আমাদের বন্ধুদের সঙ্গে কী ঘটছে, তা আমরা জানতে চাই। আমরা নিজেদের দায়ী মনে করি। আমাদের খুব ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত থাকা উচিত। অন্যান্য বন্ধু ও শুভাকাঙ্ক্ষী জামিল ও বৃষ্টির মামলা নিয়ে উদ্বিগ্ন। আমরা এখানে যা দেখছি ও পর্যবেক্ষণ করছি, সেই অভিজ্ঞতা তাদের জানাতে চাই।’

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সুজি লোপেজ শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিকে সমর্থন জানান। তিনি বলেন, ‘আমি আশা করিনি যে, তাদের এত বন্ধু আসবে। আমরা আশা করেছিলাম, হয়তো পরিবারের একজন সদস্য আসতে পারেন। এটা জেনে খুব ভালো লাগছে, অন্য শিক্ষার্থীরাও তাদের হারানো দুজন মানুষকে আপন করে নিচ্ছেন; তাদের জন্য ন্যায়বিচার পাওয়ার এ প্রক্রিয়ার অংশ হতে চাইছেন।’

হিলসবরো কাউন্টির বিচারক জে. লোগান মারফি অভিযুক্ত আবু গরবেহকে কোনো সাক্ষী বা নিহতদের আত্মীয়দের সঙ্গে যোগাযোগ না করার নির্দেশ দেন। অভিযুক্ত এ সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। 

গত ১৬ এপ্রিল টেম্পা বে এলাকায় ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার দুই শিক্ষার্থী লিমন ও বৃষ্টি নিখোঁজ হন। পরদিন বৃষ্টির এক বন্ধু তাদের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানান। গত শুক্রবার লিমনের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে ফ্লোরিডার স্থানীয় পুলিশ। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে লিমন খুন হয়েছেন বলে জানানো হয়। বৃষ্টির মরদেহের বিষয়ে এখনও স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

এ ঘটনায় সন্দেহভাজন খুনি হিসেবে হিশাম সালেহ আবু গরবেহ নামের এক মার্কিন তরুণকে গত শুক্রবার গ্রেপ্তার করা হয়। গত মঙ্গলবার হিলসবরো কাউন্টির একটি আদালত আবু গরবেহকে জামিন না দিয়ে কারাবন্দি করে রাখার নির্দেশ দেন। 

আরও পড়ুন

×