কারখানা থেকে ফেরার পথে ধর্ষণের শিকার তরুণী
সমকাল ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬ | ০৮:২১
| প্রিন্ট সংস্করণ
নরসিংদীর মাধবদীতে একটি টেক্সটাইল মিলের নারী শ্রমিককে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। গত বুধবার রাতে পৌলানপুর এলাকায় একটি বাড়িতে এ ধর্ষণের ঘটনা ঘটে।
অভিযোগ রয়েছে, গত বুধবার রাতে মেহেরপাড়া ইউনিয়নের চৈতাব এলাকার একটি টেক্সটাইল মিলে কাজ শেষে বাড়ি ফিরছিলেন এক তরুণী (১৬)। পথে মোশাররফ মিয়া নামে এক যুবক তাঁর সঙ্গে কথা আছে বলে ফুসলিয়ে পৌলানপুর এলাকায় মাহাবুব নামে একজনের বাড়ির দ্বিতীয় তলায় নিয়ে যান। সেখানে মেয়েটিকে ধর্ষণ করে মোশাররফ ও মাহবুব। এ সময় তাঁর ডাকচিৎকারে আশপাশের লোকজন দৌড়ে ঘটনাস্থলে আসতে থাকলে সুযোগ বুঝে মোশাররফ পালিয়ে যায়। এ সময় মাহাবুবকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে জনতা।
এই ঘটনায় গতকাল বৃহস্পতিবার মাধবদী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করেছেন ধর্ষণের শিকার তরুণীর বাবা।
মাধবদী থানার ওসি কামাল হোসেন জানান, ধর্ষণের ঘটনায় মামলা হয়েছে। আসামি মাহাবুবকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামি মোশাররফ মিয়াকে গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টা
কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় সাত বছরের শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার পর গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে গেছেন অভিযুক্ত যুবক আল আমিন। তার বাড়ি গোপালনগর গ্রামে।
শিশুটির পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার পর বিষয়টি ধামাচাপা দিতে গ্রাম্য সালিশে পাঁচ লাখ টাকার বিনিময়ে রফাদফার চেষ্টা করা হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে এ ঘটনায় শিশুর মা থানায় মামলা করেছেন।
জানা গেছে, ওই শিশু স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী। গত বুধবার সকালে বিদ্যালয়-সংলগ্ন একটি দোকানে যায় সে। তখন দোকানটি বন্ধ থাকায় আল আমিন শিশুটিকে বিভিন্নভাবে ফুসলিয়ে দোকানের পশ্চিম পাশের একটি জঙ্গলে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করে। এ সময় শিশুটি চিৎকার দিলে পালিয়ে যায় অভিযুক্ত আল আমিন। বিষয়টি জানাজানির পর স্থানীয় প্রভাশালী চক্র ধামাচাপা দিতে পাঁচ লাখ টাকায় আপস করার চেষ্টা করে। পুলিশ জানার পর পিছু হটেন সালিশকারীরা।
শিশুর মা সাংবাদিকদের জানান, তাঁর মেয়েটা এখন জীবিত থেকেও মৃত, এলাকার শত শত লোক এ ঘটনা জেনে গেছে। ধর্ষণ করতে না পেরে গলা চেপে হত্যার চেষ্টা করেছিল আল আমিন। গ্রামের কিছু লোক সালিশ করে জরিমানা আদায় করে দিতে চেয়েছিল। তবে মামলা করেছেন তিনি। এখন আল আমিনের বিচার চান।
ব্রাহ্মণপাড়া থানার ওসি ফারুক আহমেদ বলেন, শিশুটির মা বাদী হয়ে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা করেছেন। আসামি আল আমিনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
প্রতিবন্ধী কিশোরীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় এক প্রতিবন্ধী কিশোরীকে অচেতন করে দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় সুরঞ্জন দাসকে নামে এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল বৃহস্পতিবার ভোররাতে উপজেলার দিঘীর পাড় গ্রাম থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। দুপুরে আসামিকে আদালতের নির্দেশে কারাগারে পাঠানো হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মাধবপুর থানার ওসি সোহেল রানা।
জানা গেছে, আন্দিউড়া ইউনিয়নে ধর্ষণের এ ঘটনা ঘটে। ২ জুন রাতে আব্দুর রহিম নামে এক কবিরাজ ও সুরঞ্জন দাস কৌশলে ভুক্তভোগী কিশোরীর বাড়িতে ঢোকে। পরে তারা খাবারের সঙ্গে চেতনানাশক মিশিয়ে পরিবারের সদস্যদের অচেতন করে ওই কিশোরীকে ধর্ষণ করে। সকালে প্রতিবেশীরা ঘরের ভেতর পরিবারের সবাইকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পান। পরে তারা সবাইকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে ভুক্তভোগী কিশোরীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে হবিগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
[প্রতিবেদন তৈরিতে তথ্য দিয়েছেন নরসিংদী, কুমিল্লা ও মাধবপুর প্রতিনিধি]
- বিষয় :
- ধর্ষণ
