সৌরবিদ্যুতে পাকিস্তানের অর্জন বাংলাদেশের জন্য শিক্ষণীয়
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৬ | ০৮:২৬
| প্রিন্ট সংস্করণ
সৌরবিদ্যুৎ খাতে অগ্রগতি অর্জন করতে হলে পাকিস্তানের কাছ থেকে বাংলাদেশ শিক্ষা নিতে পারে বলে মনে করছেন এ খাতের বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিরা। তারা বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তরের ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে এখনও দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হবে। তবে পাকিস্তানের অভিজ্ঞতা এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হতে পারে। তারা সৌরবিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নে উদাহরণ তৈরি করেছে। সৌরবিদ্যুতে তাদের সাফল্য এখন অনেক দেশে আলোচিত হচ্ছে। পাকিস্তানের সৌরবিপ্লব থেকে শিক্ষা নেওয়ার সুযোগ আছে।
গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর গুলশানে হোটেল লেকশোরে ‘পাকিস্তানে সৌরবিপ্লব: জাতীয় বাজেটের দৃষ্টিকোণ থেকে বাংলাদেশের জন্য শিক্ষা’ শীর্ষক সংলাপে বক্তারা এসব কথা বলেন। গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) এ আয়োজন করে। সংলাপে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পাকিস্তানের পরিবেশবান্ধব জ্বালানি সংস্থা ‘রিনিউয়েবলস ফার্স্ট’-এর ‘স্পেশাল ইনিশিয়েটিভস ও চায়না প্রোগ্রামে’র ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ বাসিত ঘৌরি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি বলেন, পাকিস্তানের গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর বড় অংশ সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার করছে, যা বাংলাদেশের জন্য শিক্ষণীয়। সাধারণ মানুষকে জ্বালানি রূপান্তরের অংশীদার করতে হবে। শুধু সরকারের উদ্যোগ দিয়ে নয়, জনগণের অংশগ্রহণের মাধ্যমেও এই খাতে পরিবর্তন সম্ভব।
তিনি বলেন, জাতীয় সংসদ ভবনেও সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার শুরু হয়েছে। সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে ব্যাপক কর-সুবিধা দিয়েছে এবং ব্যবসায়ীদের এ খাতে বিনিয়োগে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছে। সরকার দেশের সব সেচ পাম্পকে ধীরে ধীরে সৌরশক্তিচালিত ব্যবস্থায় রূপান্তরের উদ্যোগ নিয়েছে এবং এ খাতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত রয়েছে।
মূল প্রবন্ধে পাকিস্তানের রিনিউয়েবলস ফার্স্টের মোহাম্মদ বাসিত ঘৌরি বলেন, পাকিস্তানে সৌরবিদ্যুতের উত্থান সরকারি মেগা প্রকল্পের ফল নয়, বরং সাধারণ মানুষের উদ্যোগে গড়ে ওঠা ‘বটম-আপ’ বা প্রান্তিক পর্যায়ের বিপ্লব। পাকিস্তান সরকার বড় লক্ষ্য নির্ধারণ করেনি। মানুষ নিজের প্রয়োজনেই বাড়ি, শিল্পকারখানা ও কৃষিখাতে সোলার স্থাপন করেছে।
তিনি জানান, গত কয়েক বছরে পাকিস্তান প্রায় ৫০ গিগাওয়াট সোলার প্যানেল আমদানি করেছে, যার প্রায় ৯৮ শতাংশই রুফটপ সোলার। আইএমএফের সংস্কার কর্মসূচির আওতায় তিন বছরে দেশটিতে বিদ্যুতের দাম প্রায় তিনগুণ বেড়ে যাওয়ায় মানুষ সৌরবিদ্যুতের দিকে ঝুঁকেছে। একই সময়ে চীনে অতিরিক্ত উৎপাদনের কারণে প্যানেলের দাম প্রতি ওয়াট ৩২ সেন্ট থেকে ১৬ সেন্টে নেমে আসে। সোলার প্যানেলের ওপর শূন্য শুল্ক এবং আকর্ষণীয় নেট মিটারিং সুবিধা চালুর কারণে ১৩ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ হয়েছে।
অনুষ্ঠানের সঞ্চালক সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম সমাপনী বক্তব্যে বলেন, পাকিস্তানে সৌরবিপ্লব চলছে এবং তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনা হচ্ছে। বাংলাদেশ সরকারও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় জীবাশ্ম জ্বালানির বাইরে নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে গুরুত্ব দেওয়ার রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা ইতিবাচক উদ্যোগ। এবারের বাজেটে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিভিন্ন ধরনের কর ও রাজস্ব সুবিধা দেওয়া হয়েছে। শুধু বিদ্যুৎ খাত নয়, বিদ্যুতায়িত অন্যান্য খাত, বৈদ্যুতিক যান (ইভি) এবং ব্যাটারিশিল্পের জন্যও প্রণোদনা রাখা হয়েছে। তবে কৃষি খাতে আরও বেশি মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন ছিল।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সিপিডির রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট আতিকুজ্জামান সাজিদ, ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের প্রতিনিধি আসিফ শাহরিয়ার, বাংলাদেশ সোলার অ্যান্ড রিনিউয়েবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোস্তফা মাহমুদ, মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি কামরান টি রহমান প্রমুখ।
- বিষয় :
- সৌরবিদ্যুৎ
