এলএনজি টার্মিনালের ত্রুটি
জ্বলছে না গ্যাসের চুলা, সিএনজি স্টেশনে লাইন
ফাইল ছবি
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৩ জুলাই ২০২৬ | ০৭:৫৩
ভাসমান এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) টার্মিনালের কারিগরি ত্রুটিতে দৈনিক প্রায় ৫০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ কমেছে। এতে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। অনেক এলাকায় দিনের বেশির ভাগ সময় চুলায় গ্যাস মিলছে না। কোথাও আবার চাপ এতটাই কম, সেখানে রান্না করা যাচ্ছে না। এর প্রভাব পড়েছে শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সিএনজি ফিলিং স্টেশনেও।
বর্তমানে দেশে প্রতিদিন গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট। এর বিপরীতে সরবরাহ হচ্ছে প্রায় ২৬০ কোটি ঘনফুট। এলএনজি টার্মিনালের একটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সরবরাহ আরও কমে প্রায় ২২০ কোটি ঘনফুটে নেমে এসেছে। এতে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় গ্যাস সংকট তীব্র হয়েছে।
মগবাজারের চেয়ারম্যান গলির বাসিন্দা নাজনীন নাহার সমকালকে বলেন, গতকাল সকাল ৬টায় নাশতা তৈরির জন্য চুলা জ্বালাতে গিয়ে কয়েকবার চেষ্টা করতে হয়েছে। পরে চুলা জ্বললেও গ্যাসের চাপ ছিল খুবই কম। রান্না শেষ করতে কয়েক ঘণ্টা বেশি সময় লেগেছে।
কাঁঠালবাগান এলাকার ইকবাল সরকার বলেন, সকাল ৬টা থেকে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত গ্যাস থাকছে না। বাধ্য হয়ে ইলেকট্রিক চুলায় রান্না করতে হচ্ছে।
সিদ্ধেশ্বরীর বাসিন্দা সুরঞ্জন ধর বলেন, গত মঙ্গলবার থেকেই গ্যাসের সমস্যা শুরু হয়েছে। গতকাল বুধবার সকাল থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত গ্যাস ছিল না। পরে গ্যাস এলেও চাপ এত কম ছিল, রান্না করা যায়নি। শেষ পর্যন্ত বাইরের খাবার খেয়ে থাকতে হয়েছে।
গ্যাস সংকটের কারণে রাজধানীর বিভিন্ন সিএনজি ফিলিং স্টেশনেও যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। অনেক চালককে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়েছে। সিএনজিচালিত অটোরিকশায় গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবিতে ময়মনসিংহে গতকাল ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক আটকে বিক্ষোভ করেছেন চালকরা।
গতকাল এক অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেছেন, মার্কিন প্রতিষ্ঠান এক্সিলারেট এনার্জি পরিচালিত ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটির কারণে দৈনিক প্রায় ৫০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ কমে গেছে। এর প্রভাব শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র, সিএনজি স্টেশন ও আবাসিক গ্রাহকদের ওপর পড়েছে। তিনি বলেন, এলএনজি বহনকারী জাহাজ দূরে থাকায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো গেছে। তবে ময়মনসিংহসহ বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের চাপ কমেছে।
একই দিন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের কারিগরি ত্রুটি দ্রুত মেরামতের কাজ চলছে। সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও কারিগরি বিশেষজ্ঞরা সীমিত গ্যাস সরবরাহের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে কাজ করছেন। ত্রুটি দূর হলে সরবরাহ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের মুখপাত্র মুনির হোসেন চৌধুরী বলেন, বর্তমান সংকটের তাৎক্ষণিক কারণ এলএনজি টার্মিনালের ত্রুটি হলেও এর পেছনে দীর্ঘদিনের আমদানিনির্ভরতা রয়েছে। এ নির্ভরতা কমাতে সরকার দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে ১০০টি নতুন কূপ খননের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
- বিষয় :
- এলএনজি টার্মিনাল
- গ্যাস
- পেট্রোল পাম্প