ফলাফল পেয়ে উচ্ছ্বসিত ভিকারুননিসা স্কুলের ছাত্রীরা
এসএসসির ফলাফলের পর শিক্ষার্থীদের উল্লাস। ছবিটি ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে তোলা- সাজ্জাদ নয়ন
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১০ আগস্ট ২০২৬ | ১২:২৬ | আপডেট: ১০ আগস্ট ২০২৬ | ১২:৩২
এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর উচ্ছ্বাসে মেতেছেন রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা। সোমবার ফল প্রকাশের পর অনলাইনে ফল দেখার পাশাপাশি ফল জানতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অনেকে প্রতিষ্ঠানটির প্রাঙ্গণে ভিড় করেন।
বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ভিকারুননিসা নূন স্কুলের শিক্ষার্থী রুমাইসা আল মাসিয়া। অনলাইনে ফলাফল দেখার পর উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আমি রাত জেগে পড়াশোনা করতাম। আমার আব্বু-আম্মুও রাত জেগে বসে থাকতেন। জিপিএ-৫ পেয়েছি। আমার পরিশ্রম সার্থক হয়েছে।’
ফল প্রকাশের আগে দুশ্চিন্তায় ছিলেন জানিয়ে রুমাইসা বলেন, ‘উচ্চতর গণিতে ইংলিশ মিডিয়ামের প্রশ্নে ১২ নম্বর ভুল ছিল। আমার প্রত্যাশা অনেক বেশি ছিল। জিপিএ-৫ পেতে চেয়েছিলাম। এখন ফলও ভালো হয়েছে। আমি অনেক খুশি।’
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আপাতত ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকেই এইচএসসি শেষ করতে চাই।’
ফলাফল পাওয়ার পর মাকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন আরেক শিক্ষার্থী। পরে নিজের ফল নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘নিয়মিত পড়াশোনা করেছি। আমার জিপিএ-৫ এসেছে। সবার প্রথমে সৃষ্টিকর্তা, এরপর বাবা-মা ও শিক্ষকদের অবদান রয়েছে। আমি অনেক খুশি।’
মেয়ের জিপিএ-৫ পাওয়ায় আনন্দ প্রকাশ করে তার মা বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ। ওর জিপিএ-৫ এসেছে।’
ফল প্রকাশের পর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। অনলাইনে ফলাফল দেখতে কিছুটা সময় লাগায় দ্রুত ফল জানতে অনেকে প্রতিষ্ঠানে ছুটে আসেন।
ফল জানতে আসা শাহরিয়ার আলম বলেন, ‘বাসায় ইন্টারনেট স্লো। তাই কলেজে এসেছি। এখানে সম্মিলিতভাবে ফল দেখা যায় কি না। সবার সঙ্গে একত্রে মেয়ের ফল দেখার ইচ্ছা ছিল।’
চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। গত বছর এ হার ছিল ৬৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ। ফলে এবার পাসের হার কমেছে ৬ দশমিক ২০ শতাংশ।
এ বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নিতে মোট ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ শিক্ষার্থী ফরম পূরণ করে। এর মধ্যে সাধারণ নয়টি শিক্ষা বোর্ডে এসএসসিতে ১৪ লাখ ১৮ হাজার ৩৯৮ জন, মাদরাসা বোর্ডে দাখিলে ৩ লাখ ৪ হাজার ২৮৬ জন এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরীক্ষায় ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬৬০ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়।