কার্গো সংকটে গ্যাসের ঘাটতি কাটছে না
হাসনাইন ইমতিয়াজ
প্রকাশ: ২০ আগস্ট ২০২৬ | ০৮:৫২ | আপডেট: ২০ আগস্ট ২০২৬ | ১০:৪২
| প্রিন্ট সংস্করণ
মহেশখালীর এক্সিলারেটের এলএনজি টার্মিনাল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ৩০ দিনেও দেশের গ্যাস সংকট কাটেনি। সংকটের শুরুতে কারণ ছিল টার্মিনালের কারিগরি ত্রুটি। সেই সমস্যা অনেকটা কাটলেও নতুন করে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে এলএনজি কার্গোর সংকট। টার্মিনাল প্রস্তুত থাকলেও সেখানে পর্যাপ্ত এলএনজি নেই। তাই একটি টার্মিনাল বন্ধ রাখতে হচ্ছে, অন্যটি দিয়ে কোনোমতে পরিস্থিতি সামলানো হচ্ছে।
সরবরাহ কমে যাওয়ায় শিল্প, সার ও সিএনজি খাতে গ্যাসের ঘাটতি দূর হচ্ছে না। অন্যদিকে বিদ্যুৎ উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে সীমিত গ্যাসের বড় অংশ বিদ্যুৎকেন্দ্রে দিতে হচ্ছে। তাই শিল্পের ভোগান্তি আরও বেড়েছে।
সংকট কাটাতে সরকার এখন জরুরি ভিত্তিতে এলএনজি কিনছে। এরই মধ্যে দরপত্রের নিয়মিত প্রক্রিয়ার বাইরে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে আরও ১৪ কার্গো কেনার নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আরামকো ট্রেডিং সিঙ্গাপুরের কাছ থেকে একটি কার্গো কেনার প্রস্তাবেও অনুমোদনের সুপারিশ করা হয়েছে। এই কার্গোর প্রতি এমএমবিটিইউর দাম পড়ছে ২৩ দশমিক ৯৩ ডলার। অথচ বর্তমানে আন্তর্জাতিক স্পট বাজারে এলএনজির দাম প্রায় ২১ দশমিক ০৯ ডলার। অর্থাৎ জরুরি ভিত্তিতে কিনতে গিয়ে প্রতি ইউনিটে প্রায় ২ দশমিক ৮৪ ডলার বেশি দিতে হচ্ছে।
পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, বুধবার দুপুর ১২টায় দেশে মোট গ্যাস সরবরাহ ছিল ২২৮ কোটি ৯০ লাখ ঘনফুট। এর মধ্যে দেশীয় গ্যাস ছিল ১৬২ কোটি ৮০ লাখ এবং এলএনজি থেকে ৬৬ কোটি ১০ লাখ ঘনফুট। সন্ধ্যা ৬টায় মোট সরবরাহ আরও কমে দাঁড়ায় ২১৮ কোটি ৯০ লাখ ঘনফুটে। তখন দেশীয় গ্যাস ছিল ১৬২ কোটি ৭০ লাখ এবং এলএনজি থেকে পাওয়া যায় ৫৬ কোটি ২০ লাখ ঘনফুট।
সরকারি হিসাবে দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট। সে হিসাবে গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় চাহিদার তুলনায় সরবরাহ ঘাটতি ছিল প্রায় ১৬১ কোটি ১০ লাখ ঘনফুট। মোট সরবরাহের এক-চতুর্থাংশের কিছু বেশি এসেছে এলএনজি থেকে। অথচ স্বাভাবিক সময়ে মহেশখালীর দুটি ভাসমান টার্মিনাল থেকে এর চেয়ে অনেক বেশি গ্যাস সরবরাহের সক্ষমতা রয়েছে। কার্গো সংকটে সেই সক্ষমতা কাজে লাগানো যাচ্ছে না।
টার্মিনাল আছে, কার্গো নেই
গত ২১ জুলাই মহেশখালীতে মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির এলএনজি টার্মিনালে আগুন ও কারিগরি ক্ষতির পর সেখান থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এতে দৈনিক প্রায় ৫৫ থেকে ৬০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ কমে যায়। প্রায় ১৫ দিন পর টার্মিনালটি আংশিক সচল হলে সরবরাহ কিছুটা বাড়তে শুরু করে।
১৩ আগস্ট সামিটের টার্মিনালেও কার্গো নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। একপর্যায়ে সেখান থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলে দেশে মোট গ্যাস সরবরাহ নেমে আসে ১৯২ কোটি ঘনফুটের কাছাকাছি। ১৪ আগস্ট সন্ধ্যা থেকে সামিটের টার্মিনাল আবার গ্যাস সরবরাহ শুরু করে।
একই সময়ে এক্সিলারেটের ক্ষতিগ্রস্ত বয়লার মেরামত কাজ শেষ হয়। নতুন কার্গো না থাকায় টার্মিনালের মজুত এলএনজি দিয়ে সীমিত পরিমাণে গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছিল। দিনে ৯ থেকে ১০ কোটি ঘনফুটের মতো সরবরাহ চললেও মজুত দ্রুত কমে যায়। শেষ পর্যন্ত গতকাল বিকেল পৌনে ৩টার দিকে এক্সিলারেটের টার্মিনালটি বন্ধ হয়ে যায়।
এর প্রভাব গ্যাস সরবরাহের হিসাবেও স্পষ্ট। গতকাল দুপুর ১২টায় দুই টার্মিনাল থেকে মোট ৬৬ কোটি ১০ লাখ ঘনফুট এলএনজি পাওয়া গেলেও সন্ধ্যা ৬টায় তা কমে ৫৬ কোটি ২০ লাখ ঘনফুটে নেমে আসে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগামী ২৩ আগস্ট একটি কার্গো এলে সেটি এক্সিলারেটের টার্মিনালে যুক্ত হওয়ার কথা। এর আগে টার্মিনালটি থেকে গ্যাস পাওয়ার সুযোগ নেই। এতে ওই সময় পর্যন্ত গ্যাসের ঘাটতি আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সময়মতো আসেনি কেনা কার্গো
কার্গো সংকটের পেছনে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে আগের সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। চলতি মাসের শুরুতে দ্রুত সরবরাহ নিশ্চিত করতে কয়েকটি কার্গো সরাসরি কেনার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। পরিকল্পনা ছিল, একের পর এক কার্গো এসে এক্সিলারেটের টার্মিনালের মজুত পূরণ করবে। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে সব কার্গো না আসায় সেই পরিকল্পনা ভেস্তে যায়।
সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সূত্রের অভিযোগ, নিয়মিত প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ার বাইরে গিয়ে কার্গো কেনার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক তদবির, প্রভাবশালী ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর চাপ ও প্রশাসনিক লবিং কাজ করেছে। এতে সরবরাহকারীর সক্ষমতা, কার্গো পরিবহনের সময়সূচি এবং নির্ধারিত সময়ে দেশে পৌঁছানোর নিশ্চয়তা যথেষ্ট গুরুত্ব পায়নি।
এখন সেই সিদ্ধান্তের ধাক্কা সামলাতেই সরকারকে নতুন করে জরুরি ভিত্তিতে কার্গো সংগ্রহ করতে হচ্ছে। বুধবার অর্থনৈতিক বিষয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি সাতটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে ১৪ কার্গো এলএনজি আমদানির নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে। সরকারের বক্তব্য, রাষ্ট্রীয় জরুরি প্রয়োজন ও জনস্বার্থে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এর আগে আগস্টের শুরুতেও সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে কয়েকটি কার্গো কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
১২৮ কোটি টাকা বেশি দামে এলএনজি
কার্গো সংকটের মধ্যেই বেশি দামে এলএনজি কেনার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। আরামকো ট্রেডিং সিঙ্গাপুরের কাছ থেকে একটি কার্গো কিনতে প্রতি এমএমবিটিইউতে ২৩ দশমিক ৯৩ ডলার দাম পড়ছে। সরবরাহের সময় ধরা হয়েছে ১ থেকে ২ সেপ্টেম্বর। বর্তমানে আন্তর্জাতিক স্পট বাজারে এলএনজির দাম প্রায় ২১ দশমিক ০৯ ডলার। ফলে জরুরি ভিত্তিতে কেনা এই কার্গোর দাম স্পটদরের চেয়ে প্রায় ২ দশমিক ৮৪ ডলার বেশি। অর্থাৎ দ্রুত সরবরাহ নিশ্চিত করতে পেট্রোবাংলাকে প্রতি ইউনিটে প্রায় ৩ ডলার বাড়তি দিতে হচ্ছে।
এপ্রিলেও এলএনজির দাম ছিল অনেক কম। তখন প্রতি এমএমবিটিইউতে দাম ছিল ১৩ দশমিক ৫৬ ডলার। সে হিসাবে কয়েক মাসের ব্যবধানে আমদানি ব্যয় অনেক বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির দাম ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও সরবরাহঝুঁকির কারণে অস্থির।
জ্বালানি খাতের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সংকটের সময়ে দ্রুত কার্গো কিনতে গেলে বাড়তি দাম দিতে হতে পারে। কিন্তু নিয়মিত পরিকল্পনা অনুযায়ী কার্গো নিশ্চিত না থাকলে বারবার এভাবে জরুরি কেনাকাটার ওপর নির্ভর করতে হবে। এতে গ্যাসের সরবরাহ যেমন অনিশ্চিত হবে, তেমনি সরকারের ব্যয়ও বাড়বে।
প্রতি এমএমবিটিইউ ২৩ দশমিক ৯৩ ডলার দরে কেনা এক কার্গো এলএনজির দাম পড়ছে প্রায় এক হাজার ৮০ কোটি টাকা। বর্তমান স্পটদর ২১ দশমিক ০৯ ডলার ধরলে একই কার্গোর দাম পড়ত প্রায় ৯৫১ কোটি টাকা।
আরামকোর কার্গো নিয়েও জটিলতা
সংকটের মধ্যে সৌদি আরামকোর ‘আলহামরা’ কার্গো নিয়েও জটিলতা তৈরি হয়েছিল। পুরোনো নকশার জাহাজ হওয়ায় এক্সিলারেটের টার্মিনালে কার্গোটি যুক্ত করা নিয়ে আপত্তি ওঠে। সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে সেটি গ্রহণের বিষয়ে চেষ্টা চালানো হলেও শেষ পর্যন্ত কার্গোটি নেওয়া হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। পরে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে অন্য একটি কার্গো দ্রুত এনে সামিটের টার্মিনালে যুক্ত করা হয়। এতে সাময়িকভাবে এলএনজি সরবরাহ বাড়ে।
এ বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। পেট্রোবাংলার সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ২০২১ সালে একই ধরনের কার্গো থেকে এলএনজি খালাস করা হয়েছিল। তাহলে এবার গ্যাসের এমন সংকটের মধ্যে কার্গোটি গ্রহণে আপত্তির কারণ কী, তা স্পষ্ট নয়।
নিম্নমানের এলএনজি নিয়ে অভিযোগ
কার্গো সংকটের পাশাপাশি এলএনজির মান নিয়ে নতুন জটিলতা তৈরি হয়েছে। সামিট গ্রুপ পেট্রোবাংলাকে দেওয়া চিঠিতে অভিযোগ করেছে, সম্প্রতি কয়েকটি কার্গোর এলএনজিতে ময়লা বা অশুদ্ধতা বেশি থাকায় টার্মিনালের ফিল্টারে সমস্যা হচ্ছে। এতে ঘন ঘন ফিল্টার পরিষ্কার করতে হচ্ছে এবং রিগ্যাসিফিকেশনের সক্ষমতা কমে যাচ্ছে।
সামিটের দাবি, স্বাভাবিক সময়ে কয়েক মাস পরপর ফিল্টার পরিষ্কার বা পরিবর্তনের প্রয়োজন হলেও সাম্প্রতিক সময়ে তা অনেক ঘন ঘন করতে হচ্ছে। ফলে টার্মিনাল থেকে পূর্ণ সক্ষমতায় গ্যাস দেওয়া যাচ্ছে না। পেট্রোবাংলা বিষয়টি খতিয়ে দেখার কথা জানিয়েছে। সংস্থাটির এক পরিচালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আন্তর্জাতিক মানের বাইরে এলএনজি আমদানির সুযোগ নেই। ফলে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করেই পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সংকটে শিল্প, বেড়েছে লোডশেডিং
গ্যাসের ঘাটতির সবচেয়ে বড় চাপ এখন শিল্পে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা তিতাস গ্যাসের কার্যালয়ে গিয়ে সরবরাহ বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন। গ্যাসের অভাবে কোথাও উৎপাদন কমেছে, কোথাও কারখানা বন্ধ রাখার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
টাঙ্গাইলের গোড়াই শিল্পাঞ্চলে গ্যাসের অভাবে প্রায় অর্ধশত কারখানায় উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। অনেক কারখানা এক সপ্তাহ ধরে বন্ধ। কিছু প্রতিষ্ঠান ডিজেল ব্যবহার করে সীমিতভাবে উৎপাদন চালাচ্ছে। একই চিত্র কালিয়াকৈর ও মির্জাপুরেও। কালিয়াকৈরে অর্ধশতাধিক স্পিনিং মিলের অনেকগুলো উৎপাদন বন্ধ রেখেছে। গ্যাসের চাপ কম থাকায় পোশাক কারখানার গ্যাসচালিত জেনারেটরও ঠিকমতো চালানো যাচ্ছে না। নরসিংদীতে গ্যাসের অভাবে ছোট-বড় তিন শতাধিক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। জেলার ১৭টি সিএনজি স্টেশনের ১৩টি বন্ধ রয়েছে।
এদিকে এক্সিলারেট বন্ধ হওয়ার পর বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাস সরবরাহও কমেছে। এর প্রভাব পড়েছে জাতীয় গ্রিডে। সন্ধ্যার পর চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কমে যাওয়ায় বেড়েছে লোডশেডিং। পাওয়ার গ্রিডের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার সন্ধ্যা ৬টায় দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৫ হাজার ২৩৪ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে সরবরাহ হয়েছে ১৩ হাজার ৮০০ মেগাওয়াট। লোডশেডিং ছিল এক হাজার ৪৩৪ মেগাওয়াট। সন্ধ্যা ৭টায় চাহিদা বেড়ে ১৭ হাজার ৩৪৫ মেগাওয়াট হলে সরবরাহ নেমে আসে ১৪ হাজার ৮১৫ মেগাওয়াটে। এ সময় ঘাটতি দাঁড়ায় দুই হাজার ৫৩০ মেগাওয়াট। রাত ৮টায়ও এক হাজার ৮৮৩ মেগাওয়াট লোডশেডিং ছিল। অথচ দিনের শুরুতে সকাল ১০টায় লোডশেডিং ছিল মাত্র ১১৭ মেগাওয়াট। অর্থাৎ বিকেল ও সন্ধ্যার দিকে বিদ্যুতের চাহিদা বৃদ্ধি ও গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হয়েছে। সন্ধ্যার পর রাজধানীতে একাধিকবার লোডশেডিংয়ের খবর পাওয়া গেছে। গ্রামে অবস্থা আরও শোচনীয়। প্রচণ্ড গরমে লোডশেডিং মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
সাভারে কারখানা চালাতে হচ্ছে এলপিজি-ডিজেল দিয়ে
সাভারে পার্বতীনগর তালবাগে জেকে ফ্রেবিক্স ও টেক্সটাইল কারখানার কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান মাহবুব জানান, গ্যাস সংকটে তাদের ওয়াশিং এবং ডাইং শাখা বন্ধের উপক্রম। উৎপাদন অনেক কমে যাচ্ছে। এলপিজি ও ডিজেল দিয়ে কারখানা সচল রাখতে হয়েছে। তিনি বলেন ‘এই গ্রুপে প্রায় ১০ হাজার শ্রমিক কাজ করেন। পোশাক কারখানাটি বন্ধ হয়ে গেলে হাজার হাজার শ্রমিকের কর্মসংস্থান শূন্য হয়ে যাবে। তাই মালিক পক্ষ শত বাধার মধ্যেও কারখানাটি চালু রেখেছে। কিন্তু এভাবে চলতে থাকলে প্রতিষ্ঠান চালানো আরও কষ্টকর হবে।’
আশুলিয়ায় জিরাবো এলাকায় লুসাকা গ্রুপের পোশাক কারখানার প্রশাসনিক কর্মকর্তা মেজর (অব.) মনিরুজ্জামান গতকাল সমকালকে বলেন, ‘সারাদিন গ্যাস থাকে না বললেই চলে। রাতে গ্যাসের চাপ থাকলে আমাদের কোনো লাভ হয় না। গ্যাস সংকটের কারণে আমরা বিকল্প হিসেবে এলপিজি, ডিজেল দিয়ে কাজ চালাচ্ছি। কিন্তু এতে উৎপাদন খরচ ব্যাপক বেড়ে যাচ্ছে। কিন্তু উপায় নেই কারখানা তো চালাতে হবে, শ্রমিকদের ধরে রাখতে হবে। উৎপাদন ব্যয় বাড়লেও বিদেশি ক্রেতা প্রতিষ্ঠান পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি করছে না। শ্রমিক অসন্তোষের কারণে দীর্ঘদিন পোশাক কারখানাটি বন্ধ রাখতে হয়েছিল। কয়েক দিন হলো মালিক পক্ষ আবার চালু করেছে।’
(প্রতিবেদনে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করেছেন সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রতিনিধিরা)