বাংলাদেশ-ভারত বৈঠকে আমদানি-রপ্তানির বাধা দূর করার আলোচনা
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৯ অক্টোবর ২০২৬ | ০৪:০৬
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিল্লি সফর নিয়ে অনিশ্চয়তা ও দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের বাধা দূর করার বিষয়ে আলোচনা করেছে বাংলাদেশ ও ভারত।
দিল্লিতে বৃহস্পতিবার শুরু হওয়া বাণিজ্যবিষয়ক যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের (জেডব্লিউজিটি) ১৬তম বৈঠকে আমদানি-রপ্তানির বাধা দূর করার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। দুই দিনের এ বৈঠক আজ শুক্রবার শেষ হওয়ার কথা।
বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের পরও ভারতের বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার, অশুল্ক বাধা দূর করা এবং ভারতের স্থলপথ ব্যবহার করে নেপাল ও ভুটানে পণ্য রপ্তানির সুযোগ দেওয়ার বিষয়গুলো উত্থাপন করা হয়েছে।
অন্যদিকে ভারতের পক্ষ থেকে সীমান্ত হাট চালু, দুই দেশের মধ্যে রেল যোগাযোগ বাড়ানো, ভারতীয় পণ্য আমদানিতে উচ্চ শুল্ক প্রত্যাহার এবং ভারত থেকে তুলাসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানিতে স্থলবন্দরের বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বৈঠকে অংশ নেওয়া কর্মকর্তারা সমকালকে এসব তথ্য জানিয়েছেন।
৮ ও ৯ অক্টোবর দিল্লিতে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এফটিএ অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব আয়েশা আক্তার। ১০ সদস্যের প্রতিনিধি দলে রেলপথ মন্ত্রণালয়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বিএসটিআইয়ের কর্মকর্তারা রয়েছেন।
বৈঠকে দুই দেশের বাণিজ্য ঘাটতি কমানো, আমদানি-রপ্তানির বাধা দূর করা এবং বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের উপায় নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
জেডব্লিউজিটির বৈঠক সাধারণত বছরে একবার অনুষ্ঠিত হয়। সর্বশেষ ১৫তম বৈঠক হয়েছিল ২০২৩ সালের ২৬ ও ২৭ সেপ্টেম্বর ঢাকায়। এর আগে ১৪তম বৈঠক হয় ২০২২ সালের ২ ও ৩ মার্চ নয়াদিল্লিতে। ২০২৪ সালের আগস্টে গণ-আন্দোলনের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দুই দেশের সম্পর্কে শীতলতা দেখা দেয়। এরপর নিয়মিত এ বৈঠক আর হয়নি।
এর মধ্যে ২০২৫ সালের এপ্রিলে বাংলাদেশ বেনাপোল, ভোমরা, সোনামসজিদ, বাংলাবান্ধা ও বুড়িমারী স্থলবন্দর দিয়ে ভারতীয় সুতা আমদানি বন্ধ করে। তবে সমুদ্রপথে আমদানির সুযোগ চালু রাখা হয়। কয়েক সপ্তাহ পর ভারত স্থলপথে বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, প্লাস্টিক ও পিভিসিসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা দেয়। একই বছরের জুনে পাট ও কিছু বস্ত্রজাত পণ্যের ক্ষেত্রেও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।
আগের বৈঠকগুলোতে স্থলবন্দর ও সমন্বিত চেকপোস্টের অবকাঠামো উন্নয়ন, বন্দরসংক্রান্ত বিধিনিষেধ প্রত্যাহার, সীমান্ত হাট চালু, রেলপথে পণ্য পরিবহন, আঞ্চলিক যোগাযোগ এবং পণ্যের মান সমন্বয় ও পারস্পরিক স্বীকৃতি নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। এ ছাড়া বাংলাদেশ-ভারত সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (সিইপিএ) নিয়ে প্রস্তুতি ও যৌথ সমীক্ষা, বাংলাদেশে নিত্যপণ্য সরবরাহ এবং পেট্রাপোল-বেনাপোল চেকপোস্ট ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখার বিষয়ও আলোচনায় ছিল।