ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

‘ডিআইজি’ পরিচয়ে ভিআইপি লাউঞ্জ ব্যবহার করা অতিরিক্ত ডিআইজি বরখাস্ত

‘ডিআইজি’ পরিচয়ে ভিআইপি লাউঞ্জ ব্যবহার করা অতিরিক্ত ডিআইজি বরখাস্ত
×
×

ছবি: সংগৃহীত

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৬ | ০১:৫৭

পুলিশের অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত ডিআইজি) টুটুল চক্রবর্তীকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের আগে কর্মস্থল ত্যাগ, বিমানবন্দরে নিজেকে ‘ডিআইজি’ পরিচয় দিয়ে ভিআইপি লাউঞ্জ ব্যবহারসহ অসদাচরণের অভিযোগ প্রমাণ হওয়ায় তাকে বরখাস্ত করা হয়। গত বুধবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, টুটুল চক্রবর্তীকে এর আগে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করে রাজশাহী রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছিল। গত ২৩ জানুয়ারি থেকে তাকে ‘পলাতক’ উল্লেখ করা হয়। ২০২৫ সালের ১৪ ও ১৫ নভেম্বর কর্মস্থল ত্যাগের অনুমতি এবং ১৬ থেকে ১৮ নভেম্বর নৈমিত্তিক ছুটি মঞ্জুর হলেও তিনি ১৩ নভেম্বর প্রয়োজনীয় প্রস্থান প্রতিবেদন ছাড়াই আগাম কর্মস্থল ত্যাগ করেন। ওই দিন প্রকৃত পরিচয় গোপন করে ‘ডিআইজি’ পরিচয়ে রাজশাহীর শাহ মখদুম বিমানবন্দরে ভিআইপি লাউঞ্জ ব্যবহার করে সকাল ১০টা ২০ মিনিটে ইউএস-বাংলার ফ্লাইটে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, টুটুল এর আগেও কয়েকবার নিজেকে ‘ডিআইজি, রাজশাহী রেঞ্জ’ পরিচয় দিয়ে রাজশাহী বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জ ব্যবহার করেন। বিষয়টি বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার নজরে আসে। এতে জনসমক্ষে পুলিশের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতে, এসব কর্মকাণ্ড সরকারি দায়িত্ব পালনে চরম অবহেলা, আইনানুগ আদেশ প্রতিপালনে অবজ্ঞা এবং বিভাগীয় শৃঙ্খলার পরিপন্থি। সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী এগুলো ‘অসদাচরণ’ হিসেবে শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

কারণ দর্শানোর নোটিশেরও জবাব দেননি
এসব অভিযোগে টুটুলের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়। গত ৫ ফেব্রুয়ারি তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও তিনি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লিখিত জবাব দেননি। জবাব দেওয়ার জন্য সময় বাড়ানোর আবেদনও করেননি।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ২ এপ্রিল অভিযোগ তদন্তে একজন কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়। তদন্ত শেষে ৭ মে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়। এতে টুটুল চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ হয়েছে বলে মতামত দেওয়া হয়। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে টুটুলকে কেন চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হবে না, তা জানতে ১৬ জুন দ্বিতীয়বার কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। এই নোটিশেরও কোনো জবাব দেননি তিনি।

এর পর অভিযোগ, তদন্ত প্রতিবেদন ও অন্যান্য নথি পর্যালোচনা করে টুটুলকে চাকরি থেকে বরখাস্তের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের মতামত চাওয়া হলে গত ১৪ সেপ্টেম্বর কমিশন বরখাস্তের পক্ষে পরামর্শ দেয়। পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের জন্য বিষয়টি পাঠানো হয়। ৫ অক্টোবর রাষ্ট্রপতি বরখাস্তের প্রস্তাব অনুমোদন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট বিধি অনুযায়ী টুটুলকে গুরুদণ্ড (চাকরি থেকে বরখাস্তকরণ) দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন

×