এবার অশান্ত মেঘালয়ে কারফিউ, তামাবিল সীমান্ত অচল
নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের প্রতিবাদ করতে রাস্তায় নেমে পড়েন শিলংয়ের বাসিন্দারা- এনডিটিভি
সিলেট ব্যুরো ও গোয়াইনঘাট প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯ | ০৯:৫৩ | আপডেট: ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯ | ১০:০৭
নাগরিকত্ব আইন নিয়ে উত্তাল হয়ে উঠেছে ভারত। প্রতিবাদ-বিক্ষোভের মুখে আসামের পর এবার মেঘালয় রাজ্যে কারফিউ জারি করা হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ সিলেট সীমান্তের তামাবিল স্থলবন্দর দিয়ে চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। নিষেধাজ্ঞার ফলে শুক্রবার সকাল থেকে এ সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশ থেকে কেউ ভারতে যেতে পারছে না কিংবা ভারত থেকে কেউ বাংলাদেশে আসতে পারছে না। এর আগে বৃহস্পতিবার ভারতের রাষ্ট্রপতির সম্মতিতে আইনে পরিণত হয় নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলটি (সিএবি)।
তামাবিল শুল্ক স্টেশনের কাস্টমস পুলিশের ইনচার্জ মওদুদ আহমেদ রুমি সমকালকে জানান, নিরাপত্তার স্বার্থে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ সে দেশে প্রবেশ করতে দিচ্ছে না। ফলে ভারতে যেতে আগ্রহী অনেককে তামাবিল থেকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার ভারত থেকেও কেউ এই সীমান্ত দিয়ে দেশে প্রবেশ করেনি। ভারতের অভ্যন্তরীণ সমস্যায় শনিবারও এই সীমান্ত দিয়ে আসা-যাওয়া বন্ধ থাকবে।
তবে পূর্বঘোষণা ছাড়াই তামাবিল শুল্ক স্টেশন হয়ে আসা-যাওয়া বন্ধ হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন বাংলাদেশি পর্যটকরা। শুক্রবার দুই শতাধিক পর্যটক তামাবিলে এসে ভারতে যেতে না পেরে ফিরে যান। সকাল ১১টা পর্যন্ত শতাধিক যাত্রী তামাবিলে জড়ো হন। সে দেশের কর্তৃপক্ষ কাউকে না পাঠাতে তামাবিলের কাস্টমস কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানায়। এ দিন সাপ্তাহিক বন্ধ হওয়ায় অনেকে ভারতে বেড়াতে যেতে চেয়েছিলেন।
তামাবিল দিয়ে বাংলাদেশি পর্যটকরা সাধারণত মেঘালয় রাজ্যে বেড়াতে যান। শুক্রবার স্ত্রী-সন্তান নিয়ে শিলংয়ে বেড়াতে যেতে চেয়েছিলেন কুমিল্লার সাদ উদ্দিন। তিনি বলেন, ডাউকিতে অনেকক্ষণ বসিয়ে রাখার পর ভারতীয় কাস্টমস কর্মকর্তারা আমাদের দেশে ফিরিয়ে দেন। আগে থেকে জানা না থাকায় তারা দুর্ভোগে পড়েন বলে জানান। কারফিউর জন্য সব হোটেল-দোকান বন্ধ থাকায় মূলত ভারতীয় কর্তৃপক্ষ কাউকে যেতে দিচ্ছে না। শুক্রবার তামাবিল দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভারতে যাওয়ার কথা থাকলেও তা আগেই বাতিল করা হয়।
উত্তাল মেঘালয়সহ অনেক এলাকা: ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি, আনন্দবাজার ও এই সময়ের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদে উত্তাল মেঘালয়ের রাজধানী শিলংসহ অন্য রাজ্যও। শুক্রবার শিলংয়ে প্রতিবাদী জনতার ওপর কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে পুলিশ। ক্ষিপ্ত জনতাকে পুলিশ লাঠিচার্জও করে। জনতার বিরুদ্ধে পুলিশের ওপর হামলারও অভিযোগ পাওয়া যায়।
আসামের মতো শিলংয়েরও বিস্তীর্ণ অঞ্চলে কারফিউ জারি করা হয়। তবে শুক্রবার সকাল থেকে পরিস্থিতি আরও সংকটজনক হয়ে ওঠে। দু'দিন ধরে এসএমএস ব্যবস্থা এবং মোবাইল ইন্টারনেটও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। শিলংয়ের বিস্তীর্ণ অঞ্চলজুড়ে বাজার থেকে দোকানপাট সবই বন্ধ থাকে। যোগাযোগের সব মাধ্যমও বন্ধ। শিলং থেকে ২৫০ কিলোমিটার দূরেই উইলিয়ামনগরে নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদে ক্ষিপ্ত মানুষ বিক্ষোভ দেখান মুখ্যমন্ত্রী কনরাড সাংমাকে। শুক্রবার কলকাতাসহ দেশটির বিভিন্ন জায়গায়ও প্রতিবাদ কর্মসূচি চলে। কলকাতার উলুবেড়িয়া, খড়দহ, ডায়মন্ড হারবার এবং মুর্শিদাবাদে বেশি সমস্যা দেখা যায়। সেখানে রেলপথ অবরোধ, স্টেশনে ভাঙচুর ও আগুন দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে।
এদিকে সিএবি ও জাতীয় নাগরিক তালিকার (এনআরসি) বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদের ডাক দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার সংবাদ সম্মেলন করে রবি ও সোমবার 'নো এনআরসি' আন্দোলনের কর্মসূচির কথা জানিয়েছেন তিনি। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এ রাজ্যে এনআরসি হবে না। কাউকে কেউ তাড়াতেও পারবে না।
- বিষয় :
- নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল
- মেঘালয়
- আসাম
- ভারত
- ত্রিপুরা
