ঢাকা শনিবার, ০৫ জুলাই ২০২৫

কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জাপানের সমর্থন চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জাপানের সমর্থন চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

সমকাল ডেস্ক

প্রকাশ: ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২২ | ১১:৫৮ | আপডেট: ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২২ | ১১:৫৮

জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের তাদের মাতৃভূমী মিয়ানমারে স্বেচ্ছায় ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য জাপানের সমর্থন চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, এই সংকট সমাধানে উভয় দেশই অভিন্ন মত পোষণ করে।

বাংলাদেশ ও জাপানের কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার ৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে পূর্বে ধারণ করা এক ভিডিও বার্তায় এ অভিমত ব্যক্ত করেন শেখ হাসিনা। অনুষ্ঠানে জাপানের প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদারও একটি ভিডিও বার্তা প্রচার করা হয়। দুই প্রধানমন্ত্রী একসঙ্গে বন্ধুপ্রতীম দুই দেশের জনগণকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান।

মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং ঢাকায় জাপান দূতাবাসের যৌথভাবে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর ধারণকৃত বক্তব্য প্রচার করা হয়। 

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন এবং ঢাকায় নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত ইতো নাওকি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও বার্তায় জাপানের সম্রাট ও সম্রাজ্ঞীকে এই গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষকে সামনে রেখে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি জাপানের সম্রাট ইমেরিটাস আকিহিতোর সঙ্গে তার সাক্ষাতের কথা স্মরণ করেন এবং তাকে অভিনন্দন জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব শান্তি, অগ্রগতি, সমৃদ্ধি, স্থিতিশীলতা ও টেকসই উন্নয়নের জন্য আন্তর্জাতিক ফোরামে বাংলাদেশ ও জাপান বিশ্বস্ত অংশীদার এবং শান্তিপ্রিয় দেশ হিসেবে সবসময় একে অপরকে সমর্থন করে কাজ করেছে। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা এবং ১০ ফেব্রুয়ারি ১৯৭২ সালে জাপানের স্বীকৃতির পর থেকে দুই দেশের মধ্যে চমৎকার সম্পর্ক রয়েছে।

ঢাকায় আবাসিক কূটনৈতিক মিশন খোলার জন্য প্রথম কয়েকটি দেশের মধ্যে জাপান ছিল— উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের জনগণ আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সময় জাপান এবং সে দেশের জনগণ, বিশেষ করে স্কুলছাত্রদের মূল্যবান সমর্থন ও অবদানকে কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করে।’

তিনি বলেন, পারস্পরিক আস্থা, বন্ধুত্ব এবং সহযোগিতাই বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ভিত্তি। ১৯৭৩ সালের অক্টোবরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জাপানে ঐতিহাসিক সফরের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এটি একটি অবিচল ও দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বের ভিত্তি স্থাপন করেছে।’

অনুষ্ঠানের ভিডিও বার্তায় জাপানের প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদা বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারে জাপানের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, জাপান বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠা থেকেই বন্ধুত্বপূর্ণ সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে সঙ্গে আছে, ভবিষ্যতেও বাংলাদেশের সঙ্গে উষ্ণ বন্ধুত্বের ও দৃঢ় সহযোগিতার সম্পর্ক অব্যাহত রাখবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের আর্থসামাজিক অগ্রগতির ভূয়সী প্রশংসা করে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে জাপানের অব্যাহত সহযোগিতার আশ্বাস দেন কিশিদা।


আরও পড়ুন

×